মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন : কমিশনের দায় এবং আমাদের দায়িত্ব

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন : কমিশনের দায় এবং আমাদের দায়িত্ব

আজিজ পাশা, লেখক।: দেশ বদলে দেওয়ার ইশতেহার শুনিয়ে তৎকালীন অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শাসনভার নেয় আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে এখন সেই মেয়াদও শেষ করেছে আওয়ামী লীগ। সংবিধান বিরোধী তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলোপ করে দ্বিতীয়বারের মত নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। নির্বাচনকে ঘিরে কতটুকু প্রস্তুত রাজনৈতিক দলগুলো? কতটুকুই বা তৈরী নির্বাচন কমিশন? সব দলের আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে কতটুকু শক্তিশালী বর্তমান কমিশন?

 

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্থাপিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পাদন। দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল এ সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।

 

আওয়ামী লীগ যখন এর আগে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসে, তখন তাদের আনুষ্ঠানিক স্লোগান ছিল “ডিজিটাল বাংলাদেশ” নির্মাণ। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার, স্মার্ট কার্ড, ভোটিং পদ্ধতির অনলাইন সংস্করণ- এসবে একথা বলাই যায়, আওয়ামী লীগ তাদের কথা রেখেছে। মানুষের অধীন নির্বাচনী কার্যকলাপে পক্ষপাত বা গণনা বিচ্যুতির সুযোগ থাকে, কিন্তু যন্ত্র এক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য। আর এজন্য বিশ্বের অনেক দেশের মত বাংলাদেশেও নির্বাচন ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এনেছে ইসি। আধুনিক যুগের সাথে তাল রেখে উৎকর্ষ সাধনে আন্তরিক হওয়ার জন্য কমিশন ধন্যবাদ প্রাপ্য।

 

সাম্প্রতিক নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতির মুখরোচক টপিক কমিশনের ‘দুর্বলতা’ বা কমিশনের ‘পক্ষপাত’, কিন্তু এসব কথার ভিত্তি কতটুকু? কেননা বিদ্যমান কমিশনের বিদ্যমান নির্বাচনী বিধানেই বিএনপিসহ অন্যান্য দল জিতেছে এমন রেকর্ড আছে। আইনশৃঙ্খলা বা নির্বাচনকালীন হৈ-হট্টগোলের পুরোনো ঐতিহ্য বিবেচনায় নিলে বরং এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি ভাল। আর তাই কমিশনকে দোষারোপ করে এমন রাজনীতি প্রতিপক্ষ প্রতিহিংসা আর পরশ্রীকাতরতা বৈকি কিছুই না।

 

সাম্প্রতিক সময়ের রাজশাহী, বরিশাল কিংবা গাজীপুর সিটি নির্বাচনের দিকে তাকালে কমিশনের উপর আস্থা আসে মন থেকেই। নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি ভোটার-প্রশাসন সুসম্পর্ক, প্রার্থী-নির্বাচনী কর্মকর্তার আন্তরিকতার পরিবেশ সৃষ্টিতে দায়িত্ব বর্তায় কমিশনের উপরই। কিন্তু দণ্ডিত রাজনীতিকদের নির্বাচনী লাইসেন্স দেওয়া কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে কি আদৌ পড়ে? লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের যে মুখস্থ দাবি বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট করেই যাচ্ছে তার পেছনের যৌক্তিকতা কি? সেনা মোতায়েন ছাড়া কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্ভব নয়? যদি তাই হয় তবে সেক্ষেত্রে বিএনপির অতীত জয়গুলো কিভাবে এল?

 

গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভোট পেছানোর দাবি জানায়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলে এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এরই মধ্যে ১২ নভেম্বর ভোটের পুন:র্নির্ধারিত তারিখ জানানো হয়। পূর্ব ঘোষিত ২৩ ডিসেম্বরের তারিখ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর করা হয় ভোটের দিন। বিএনপি ও অন্য বিরোধী পক্ষের দাবির ফলে এটি মেনে নেয় ইসি।

 

এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, গত ২০ নভেম্বর ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে ইসি সচিবসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা ‘গোপন বৈঠক’ করেন। সেখানে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সেটআপ ও প্ল্যান রিভিউ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০ নভেম্বর অফিসার্স ক্লাবেই ছিলেন না ইসি সচিব।

 

গণতন্ত্র মানেই বহুমত। সবাই সবার মতামত দেওয়ার অধিকার রাখেন কিন্তু কেবলমাত্র অভিযোগের খাতিরে অভিযোগ করা কোন সমাধান আনবে না। বিএনপি কিংবা ‘বিএনপি বিবর্তিত’ ঐক্যফ্রন্টের কাছে আরো বেশি সমঝদার আচরণ প্রত্যাশা করে সাধারণ মানুষ। একটি সুন্দর নির্বাচনের অপেক্ষায় কমিশনের প্রতি আরো বেশি সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের প্রত্যাশা রাজনীতিকদের কাছ থেকে।সুত্র:banglaramr


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com