বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ০৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীর বেলাবোতে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক সময়কার আভিজাত্যের বাহন ছিল ঘোড়া। রাজা জমিদাররা ঘোড়াতে চড়েই রাজ্য দেখতেন। ঘোড়ায় চড়ে রাজ কুমারীর জন্য রাজকুমার আসার অনেক গল্পও রয়েছে। আগের দিনের শখের এই পরিচিত প্রাণীটিই আজকের দিনের ছেলেমেয়েদের কাছে অনেকটা অদেখা প্রাণীতেই পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাঠ কাপাঁনো ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাও।হারানো এই ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দিতে এবং আজকের প্রজন্মকে নিরন্তর আনন্দ দেওয়ার জন্য শুক্রবার বিকালে নরসিংদীর বেলাবোতে আয়োজন করা হয়েছে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। উপজেলার ইব্রাহিমপুর যুব সমাজের উদ্যোগে দ্বিতীয় বারের মত এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে বড়-মাঝারি, সাদা-লাল রঙের ঘোড়ার সমাহার হয় ইব্রাহিমপুর মাঠে। ৩টায় ঘোড়দৌড় শুরু হলেও দুপুর থেকেই দর্শক ও ঘোড়ায় মাঠ ভরে যায়।

ঘোড়দৌড় দেখতে আসা ইব্রাহিমপুর সুফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র ফরহাদ মিয়া বলেন, ‘গল্পে শোনা ঘোড়দৌড় আজ নিজ চোখে দেখে আমি খুব আনন্দিত।’

পাশ্ববর্তী রায়পুরা থেকে আসা রানা হোসেন এবং নারায়ণপুর থেকে আসা গবিন্দ চন্দ্রও প্রথমবার ঘোড়দৌড় দেখতে এসে আনন্দে উদ্বেলিত।

তারা বলেন, ‘নিয়মিত এমন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যদি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড়কে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া যায় তাহলে আমাদের বাঙ্গালীর ঐতিহ্য রক্ষা পাবে। বিদেশী অপসংস্কৃতির আগ্রাসন রোধের পাশাপাশি যুবসমাজের অবক্ষয় রোধ হবে।’

বিস্তৃর্ণ মাঠে ঘোড়দৌড়ে অংশ নিতে নরসিংদীর পাশাপাশি ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ঘোড়া নিয়ে হাজির হয় প্রতিযোগিরা। তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়াইয়ে নামে ২৯টি ঘোড়া। জয়ের জন্য প্রতিযোগিদের অদম্য চেষ্টা ও ঘোড়ার ক্ষিপ্ততা উপভোগ করে উপস্থিত নানা বয়সের নারী-পুরুষ দর্শকরা।

প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় জেলার পলাশ উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মিলন সরকারের ঘোড়া। তিনি বলেন- ‘গতবারও এখানকার প্রতিযোগিতায় আমার এই ঘোড়াটিই প্রথম হয়েছিল। ৪ ছেলে প্রবাসী জানিয়ে তিনি আরও বলেন- টাকার জন্য নয়, বাপ-দাদা ঐতিহ্য রক্ষায় ঘোড়া পালন করি এবং এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেই।’

বিপুল দর্শকের সমাগম হওয়ায় শৃঙ্খলা রক্ষা করাটা আয়োজকদের জন্য কঠিন কাজ ছিল। আগামীতে এ ধরনের ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিও কামনা করেন আয়োজক ও দর্শকরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সল্লাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উজ্জামান মুক্তার। তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন- ‘এতে করে হারানো ঐতিহ্য সম্পর্কে আজকের প্রজন্ম কিছুটা হলেও ধারণা পাবে। আর দর্শকদের উপস্থিতিই বলে দেয় তারা কতটা আনন্দে এই ঘোড়দৌড় উপভোগ করছে।’

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, লন্ডন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেন, সল্লাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম সরকার, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা কামাল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রইছ উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন প্রমুখ।

প্রতিযোগিতার অন্যতম আয়োজক সল্লাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর আলম বলেন, ‘এবার নিয়ে ২য় বারের মত আমরা ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। কোন ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া শুধুমাত্র ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং দর্শকদের নিছক আনন্দ দেয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।’


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com