রবিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১৯, ০৪:৩২ অপরাহ্ন

স্থায়ী সমাধান না থাকায়: প্রতিবছর নাব্যতা সংকটে পড়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর

স্থায়ী সমাধান না থাকায়: প্রতিবছর নাব্যতা সংকটে পড়ে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর

বাকী বিল্লাহ নিজস্ব প্রতিবেদকঃ প্রতি বছরই এই নাব্য সংকট দেখা দেয়। এরপর এর প্রতিকার করে সংকটের সমাধান করা হয়। কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না কখনো। এবারও যেমন হয়েছে। যমুনা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়তে পারছে না।

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও বিভিন্ন জাহাজের চালক সূত্রে জানা যায়, বাঘাবাড়ী নৌবন্দর রুটে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের পরপর পানির গভীরতা কমে যায়। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য নদীতে অন্তত ১০ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথে তা সাত ফুটের নিচে। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে বেড়া উপজেলার পেঁচাকোলা থেকে মোহনগঞ্জ অংশে। এ অংশের কয়েকটি স্থানে পানির গভীরতা পাঁচ থেকে সাত ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

নাব্য সংকটে কয়েক দিন ধরে সার, সিমেন্ট, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী প্রায় ২৫টি জাহাজ সরাসরি বাঘাবাড়ী বন্দরে ভিড়তে পারছে না। নৌপথে চলতে গিয়ে ডুবোচরে আটকা পড়ছে জাহাজগুলো। সেখানে থেকে ট্রলার ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে অল্প অল্প পরিমাণ পণ্য খালাস করে বাঘাবাড়ীতে নেওয়া হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তবে এরই মধ্যে বিআইডব্লিউটএ ডুবোচরগুলো অপসারণে খননের কাজ শুরু করছে।

 

ঘাটসংশ্লিষ্ট নৌযান লেবার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মাস্টার জানান, দৌলতদিয়া থেকে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর পর্যন্ত নাব্যতা সংকটের কারণে যমুনা নদীর পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, ব্যাটারিরচর, নাকালিয়া ও পেঁচাকোলায় নদীর তলদেশে জেগে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। এক-দেড় হাজার টনের জাহাজ সরাসরি বাঘাবাড়ী বন্দরে ভিড়তে পারছে না। দৌলতদিয়ায় আটকে পড়া জাহাজ থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে মালামাল আনা হচ্ছে বাঘাবাড়ীতে।

 

বাঘাবাড়ি নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক এস এম সাজ্জাদুর রহমান জানান, পানির গভীরতা সংকটের কারণে জাহাজে যতটুকু মালামাল আনা প্রয়োজন তা আনা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত মাল আনার কারণেই বেশি করে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। জাহাজগুলো মূলত ডুবোচরে আটকে থাকে না। মালামাল আনলোড করার জন্য যে সময় প্রয়োজন ততক্ষণ থেমে থাকে। সেটাকেই জাহাজ আটকে যাওয়া মনে করে অনেকে।

 

সহকারী পরিচালক জানান, প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকট দেখা দেয়। খনন করে তা অপসারণও করা হয়। এ বছরও খননের কাজ চলছে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com