বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

শিক্ষকদের শিক্ষার্থীর প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও বন্ধু সুলভ হতে হবে: সারোয়ার হোসেন

শিক্ষকদের শিক্ষার্থীর প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও বন্ধু সুলভ হতে হবে: সারোয়ার হোসেন

মোঃ আব্দুস সালাম-চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা শিক্ষা অফিসার এম.জি.এম সারোয়ার হোসেন, রাজশাহী নিউজ ২৪ ডট কম এর একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন,শিক্ষক সমাজকে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর, সমাজ উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অতুলনীয় । এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না ।

 

জাতি গঠনের এই মহানব্রত নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় যাঁরা আসেন, তাঁরা আদর্শ শিক্ষক হতে হলে অনেক কাঠখড়ি পোড়াতে হয় । তাদের স্বীয় অর্জিত জ্ঞান ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নিজের যথাযথ যোগ্য করে তোলেন। ছাত্র- শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক মানে গুরু শিস্য বা মালিক-চাকর নয়। তাদের মাঝে সম্পর্কটা হবে অকৃত্রিম,পবিত্র । শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, বন্ধু সুলভ হতে হবে । এটাই অত্যন্ত বাস্তব, সাবলীল ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য হবে । সেটা সবার আকাংখা ও চাওয়া পাওয়া হবে । যাতে শিক্ষার্থীরা মনের কথা শিক্ষকদের সাথে শেয়ার করতে পারে । শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে হতে পারে রোল-মডেল । সেই কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক।

 

শুধু পুঁথিগত বিদ্যাই নয়,বাস্তবে জীবনে অনেক চড়াই-উৎরাই পাড়ি দেওয়ার জন্য, তাদেরকে যোগ্য করার বাস্তব সম্মত জ্ঞান শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরবেন একজন আর্দশ শিক্ষক । কারণ শিক্ষক যা শিখাতে চান, তা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে মধুর সম্পর্ক থাকলেই সম্ভব । একজন আদর্শ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একজন ভাল গাইডও বটে । তবে সে শিক্ষাটা হতে হবে আনন্দময় শিক্ষা । তাই ছাত্র-ছাত্রীদেরকে আনন্দের সাথে শিখাতে হবে । এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অন্তরে লুকায়িত জ্ঞানকে পরিস্ফুটিত করে জ্ঞানের একটি আলোকিত বাগান করতে হবে । সে বাগানের ফল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোগ করবে । সে ক্ষেত্রে পিতা-মাতার চেয়ে একজন শিক্ষার্থীর লুকায়িত জ্ঞানকে পরিস্ফুটনে একজন শিক্ষকের বলিষ্ট ভূমিকা থাকে ।

 

যদি তিনি সত্যিকারে একজন শিক্ষক হন । তাই বাবা-মা অশিক্ষিত হলেও অনেক সময় ছেলে মেয়ে অনেক বড় বিদ্বান ব্যক্তি হন । ছ্ত্রা-ছাত্রীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদেরকে খেলাধুলা,চিওবিনোদন, বিতর্ক. প্রতিযোগিতা, সাংস্কতিক কর্মকান্ডসহ সকল কাজে সক্রিয় বলিষ্ট অংশগ্রহন শিক্ষকদের জোরালো ভূমিকা একান্ত প্রয়োজন । কারণ কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠ বহির্ভূত জ্ঞান এর সাথে সম্পৃক্ত হতে হবে । শিক্ষার্থীদেরকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে আদর্শ শিক্ষকের বিকল্প নেই । একজন শিক্ষককে তখনই আদর্শ শিক্ষক হিসাবে বলা যাবে, যিনি এ পেশাকে পেশা হিসাবে নিবেন। তাদের মধ্যে লেখাপড়ার করার মানুষিকতা,আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত,নৈতিকতা সম্বলিত জ্ঞান ছড়াবেন।

 

তাহলে একজন শিক্ষক হতে পারেন আদর্শ শিক্ষক। কতিপয় শিক্ষক তার সামাজিক অবন্থান, মর্যাদা ভুলে গিয়ে, নীতি ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে যেভাবে অর্থ উপার্জনের পিছনে ছুটে চলে, ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এমন শিক্ষক দিয়ে আমাদের শিক্ষার অগ্রগতি কখনই সম্ভব নয়। অনেক অভিভাবক আছে যারা ঐসব শিক্ষকের এ রকম কর্মকান্ডকে সমর্থন করেন ।

 

শুধু তাদের ছেলে-মেয়েদের সাময়িক সুযোগ সুবিধা বা ফলাফলের জন্য । কিন্তু ভবিষ্যতে এসব ছাত্র-ছাত্রী নীতি, নৈতিকতার দিক দিয়েই বলেন, আর ফলাফলের দিক দিয়ে বলেন, ভাল ক্যারিয়ার গঠনে ব্যর্থ হয়। ফলে ঐ সব ছাত্র-ছাত্রী ভবিষ্যতে অন্ধকার দেখেন, এটাই স্বাভাবিক খুবই বাস্তব । ফলে শিক্ষকদের এমন বিতর্কিত ভুমিকার ফলে আজকে ছাত্র শিক্ষকদের সম্পর্ক খুবই নাজুক ।

 

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্পর্ক ভাল না থাকলে শিখন-শেখানো কার্যক্রম ফলপ্রসু হয় না । শিক্ষার্থীরা সঠিক ভাবে শিক্ষার আলো পায় না, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদেরকে সম্মন করে না। অথচ আগের দিনের শিক্ষকদের নামের কথা উচ্চারিত হলেই সবার মুখে তাদের প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ লক্ষনীয় । অথচ আজকাল অনেক ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকের নাম ধরে ডাকতে দেখা যায়এটা খুবেই লজ্জাজনক ব্যাপার ।আর এ জন্য সর্ব প্রথম শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে । তবে একেবারে বন্ধুর মতো নয়,কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে, যেটা শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান বাড়বে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com