বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

অবশেষে রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী যুবতী ধর্ষণের মামলা নিলেন পুঠিয়া থানার ওসি

অবশেষে রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী যুবতী ধর্ষণের মামলা নিলেন পুঠিয়া থানার ওসি

নিউজ ডেস্ক: রাজশাহী “রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী ধর্ষণ তিনমাসের অন্ত:সত্ত্বা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী ধর্ষণের মামলা নিলেন পুঠিয়া থানার ওসি। আজ রবিবার সংবাদটি প্রকাশিত হয়।

এর পরই নড়েচড়ে বসেন পুঠিয়া থানা পুলিশ। পরে প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে মামলা নেন। মামলার বাদী প্রতিবন্ধীর চাচা মোঃ আব্দুল আজিজ বাবু। পুঠিয়া থানার মামলা নং-৩, তাং-০৩-০২-২০১৯ইং। জানতে চাইলে পুঠিয়া থানার ওসি তদন্ত মোঃ মহিনুল ইসলাম জানান, প্রতিবন্ধীর পরিবারকে ডেকে ধর্ষক রবিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে মাঠে তৎপর রয়েছে পুলিশ। যতদ্রুত সম্ভব রবিনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানান ওসি তদন্ত।

উল্লেখ, পুঠিয়া উপজেলার ৫নং ওয়ার্ডের আব্দুর রাজ্জাক (ড্রাইভারের) প্রতিবন্ধী যুবতী (২২)কে একই এলাকার পাশের বাড়ির রবিন্দ্রনাথ সরকার ওরফে রবিন (৫০) গত ৫ মাস থেকে তার বাড়িতে প্রায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। রবিনের স্ত্রী ঢাকা থাকার সুবাদে বাড়িটি ফাঁকা থাকত বলে জানা যায়। ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী যুবতী তার ভাষায় জানায়, রবিন আংকেল আমাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক গামছা দিয়ে আমার হাত, মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। পরে আমাকে বলেন কাউকে বল্লে গলা কেটে মেরে ফেলবো বলে ভয় ভীতি দেখায়।

এ সময় ওই যুবতীর বক্তব্য ভিডিও রেকর্ড করা হয়।

ধর্ষিতার ফুপু বলেন, ২৫ জানুয়ারি রাতে পুঠিয়া থানায় মামলার উদ্দেশ্যে রিপোর্ট নিয়ে যান। থানার ওসি বিস্তারিত শোনার পর কোন গুরুত্ব দেননি। এরপর প্রতিবন্ধী যুবতী ও তার ফুপু রাশিয়াকে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি থানা হেফাজতে রেখে পরপর দুইদিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মহিলা পুলিশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিবন্ধী যুবতীকে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি)’তে নিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা করানো হয়। দুই রাত থানা হেফাজতে রাখা হয় তাদের। পরে যুবতীর আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও ইসিজিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিক্ষা করানো হয়।

এদিকে প্রতিবন্ধী যুবতী অন্তঃসত্বা হওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকার একটি কু-চক্রী মহল লম্পট রবিনের সাথে আতাত করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য উঠে পরে লাগে। এমনকি যুবতী পরিবারকে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ধামকি অব্যহত রাখে।

পরে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাকিল উদ্দিন আহম্মেদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ধর্ষণের খবর পেয়ে আমি নিজ উদ্দ্যোগে ফোর্স দিয়ে রামেক হাসপাতালে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পরিক্ষা করিয়েছি। রিপোর্ট আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ওসির বক্ত্যব্যের পরিপ্রেক্ষিতে  অনলাইনে সংবাদটি প্রকাশিত হয়  রবিবার। এরপর পুঠিয়া থানা পুলিশের টনক নড়ে। এবং একই দিনে দুপুরে প্রতিবন্ধীর স্বজনদের থানায় ডাকেন ওসি।

স্বজনরা থানায় হাজির হওয়ার পর প্রতিবন্ধীর চাচা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।বর্তমানে ধর্ষক রবিন পলাতক রয়েছে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com