সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০১:৪১ অপরাহ্ন

জামালপুরে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে ১ শিশু মৃত্যুর অভিযোগ:আক্রান্ত-৫০০ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পর বমি ও পাতলা পায়খানায় এক শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আরও পাঁচ শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যাদের একটি অংশ হাসপাতালে ভর্তি।

কেন এই ঘটনা ঘটেছে তা স্থানীয় চিকিৎসা প্রশাসন বলতে পারছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জামালপুরের সিভিল সার্জন।

১৫ মাস বয়সী ওই শিশুর নাম সুনিত রায়। সে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সুরভিত রায়ের ছেলে।

শনিবার সারাদেশে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদেরকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কর্মসূচি শুরু হয়। এটি চলবে পাঁচ দিন।

অন্ধত্ব ও রাতকানা প্রতিরোধে এই কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। তবে প্রতি বছরই বেশ কিছু এলাকায় শিশুদের বমি ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। এতে মৃত্যুর ঘটনাও বিরল নয়।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারই শিশুদেরকে পেট ভরে খাওয়ানোর পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই যে পরামর্শ মেনে চলেন না অভিভাবকরা।

স্বজনরা জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে সরিষাবাড়ীর গণময়দান এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পে সুনিতকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। বাড়ি ফেরার পর থেকেই তার বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। তাকে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকাল চারটার দিকে সে রায় মারা যায়।

জামালপুরের সিভিল সার্জন গৌতম রায় বলেন, ‘সুনিত রায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার পরই তার বমি ও পাতলা পায়খানা হয়। শিশুটি আমাদেরই এক স্টাফের সন্তান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।’

সুনিতের মতো আরো পাঁচ শরও বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে পেটের পীড়ায়। আর অভিভাবকরা তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন।

খবর পেয়ে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল শনিবার বিকাল থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল সংস্থার প্রতিনিধি মাহফুজা রুমাও বিকাল থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেন।

জামালপুর স্বাস্থ্যবিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত অন্যান্য শিশুদের চিকিৎসা ও অভিভাবকদের কাউন্সেলিং চলছে।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার পর কী কারণে এমন হলো তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তবে এই মুহূর্তে কিছুই বলা যাচ্ছে না।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com