বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ০৩:৩১ অপরাহ্ন

ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ দেশের অন্যতম স্থান টাঙ্গাইলের এক হাজার ৮৮২শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই!

হাফিজুর রহমান টাঙ্গাইল জেলা প্রতিবেদক : ভাষা আন্দোলনে টাঙ্গাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও জেলার দুই হাজার ৫৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এক হাজার ৮৮২টিতেই শহীদ মিনার নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেম ও বাঙালির চেতনাবোধ জাগ্রত করার প্রচেষ্টা অনেকাংশে বিফল হচ্ছে। অথচ
টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নয় উপজেলা সদরের শহীদ মিনারগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠানের অন্যতম স্থানে পরিণত হয়েছে। ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে সরকারের হুলিয়া মাথায় নিয়ে তৎকালীন রমেশ হলের কাছে(বর্তমানে সাধারণ পাঠাগারের পশ্চিমপাশে) টাঙ্গাইলে সর্বপ্রথম ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়।

বর্তমানে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি প্রথমটির তৃতীয় সংস্করণ।জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলার মোট এক হাজার ৬২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এক
হাজার ৩২৯টিতে শহীদ মিনার নেই। এরমধ্যে ঘাটাইলের ১৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যলয়ের মধ্যে ১৪টিতে শহীদ মিনার রয়েছে; একইভাবে সখীপুরে ১৪৭টির মধ্যে ৭৬টিতে, গোপালপুরে ১৫৯টির মধ্যে ৮টিতে, বাসাইলে ৭৯টির মধ্যে ৮টিতে, টাঙ্গাইল সদরের ১৬৪টির মধ্যে ১৭টিতে, দেলদুয়ারের ১০০টির মধ্যে ৮ টিতে, মির্জাপুরে ১৭০টির মধ্যে ৪৫টিতে, কালিহাতীর ১৭০টির মধ্যে ৩০টিতে, মধুপুরে ১১০টির মধ্যে ২৮টিতে, নাগরপুরে ১৫৬টির মধ্যে ১৫ টিতে, ভূঞাপুরে ১১০টির মধ্যে ২১টিতে এবং ধনবাড়ীর ৮৫টির মধ্যে ২৪টিতে জেলায় মোট ২৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ এই প্রতিবেদক কে বলেন, বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার
নির্মাণের জন্য সরকারীভাবে বরাদ্দ থাকে না। তবুও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় উদ্যোগে ২০১৮সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা জেলায ১৬১টি বিদ্যালয়ে নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র সখীপুর উপজেলায়ই ৭০টি নতুন শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে।
এদিকে, জেলা শিক্ষা অফিসের অধীনে ৯৩৮টি হাইস্কুল, কলেজ, কারিগরি, এবতেদায়ী ও মাদ্রাসা রয়েছে। এরমধ্যে ৫৫৩টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।

অফিস সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল সদরের ১০৪টির মধ্যে ১৭টিতে, বাসাইলের ৪২টির মধ্যে ১৫টিতে, কালিহাতীর ৮৭টির মধ্যে ৫২টিতে, সখীপুরের ১০১টির মধ্যে ২৭টিতে, ঘাটাইলের ১১৫টির মধ্যে ৩৮টিতে, গোপালপুরের ৮৪টির মধ্যে ৪৩ টিতে, মধুপুরের ৭৭টির মধ্যে ৩২টিতে, ধনবাড়ীর ৬৬টির মধ্যে ২৬টিতে, মির্জাপুরের ৭৬টির মধ্যে ৫০টিতে, দেলদুয়ারের ৩৮টির মধ্যে ২৩টিতে, নাগরপুরের ৭৭টির মধ্যে ৩৭টিতে ও ভূঞাপুরের ৭১টির মধ্যে ২৫টিতে জেলায়
মোট ৩৮৫টি প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার লায়লা খানম এই প্রতিবেদক কে বলেন, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনারের প্রয়োজন রয়েছে। শুভ দিক হলো মাদ্রাসাগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হচ্ছে। টাঙ্গাইলের ৬টি উপজেলায় ১২টি মাদ্রাসায় শহীদ মিনার রয়েছে।

এ বিষয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষা সৈনিক টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম(৯৩) এই প্রতিবেদক কে বলেন, ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সমৃদ্ধ দেশের অন্যতম স্থান টাঙ্গাইল। জেলার এতোগুলো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার কেন নেই? এটা অত্যন্ত লজ্জার ও হতাশাজনক। এতে আমাদের দেশপ্রেম ও বাঙালির চেতনাবোধ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে! আইন করে
হলেও মাদ্রাসাসহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ বাধ্যতামূলক করা উচিত।টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম এই প্রতিবেদক কে বলেন, শহীদ মিনার আমাদের ইতিহাস- ঐতিহ্য এবং বাঙালি চেতনার ধারক-বাহক। কোমলমতি শিশুসহ সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মনে মাতৃভাষার সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য মাদ্রাসাসহ
প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা উচিত। জেলায় এতোগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, এর সঠিক তথ্য আমাদের কাছে ছিল না। শহীদ মিনার নির্মাণে আমরা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুপ্রাণিত করব। প্রয়োজনে আর্থিক সাহায্য দেয়া হবে। একই সাথে শহীদ মিনার নির্মাণে স্থানীয় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com