মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

অন্তঃসত্ত্বা ইউএনওকে ওএসডি:সংসদে ক্ষোভ

অন্তঃসত্ত্বা ইউএনওকে ওএসডি:সংসদে ক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও হোসনে আরা বেগমকে অন্তসত্বার কারনে ওএসডি করায় তার আবেগ ঘন স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দেশবাসী জানতে পেরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে সারা দেশে। সোমবার রাতে সংসদের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। ওই নারী ইউএনওর ওএসডির কারণ জানতে চেয়েছেন পাশাপাশি একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। পরে তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে কথা বলেন নারায়নগঞ্জ সদর আসনের এমপি এ কে এম শামীম ওসমান।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, আজকের পত্রিকার মাধ্যমে দেখলাম একজন নারী ইউএনও এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মা হওয়াটাই অপরাধ। সেই নারী ইউএনও দীর্ঘ ৯ বছর পর মা হতে যাচ্ছিল।

তিনি বলেন, সেই নারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কাজের কোন গাফিলতি ছিল না, বরং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রশংসা করেছেন। তার সন্তান প্রসব করার সময় আগামী এপ্রিল মাসে। কিন্তু তিনি যখন ডাক্তার দেখাতে গেছেন তখন আকষ্মিক জানতে পারেন তাকে ওএসডি করা হয়েছে। সেদিন ওএসডি হওয়ার খবর শুনে তাৎক্ষণিক মানসিক চাপে তিনি অসুস্থ হয়ে পরেন। অকালপক্ক সন্তান প্রসব করায় বাচ্চাটা এখন মৃত্যু পথযাত্রী। দীর্ঘ ৯ বছর পর মা হওয়ার আকাঙ্খাটা উপলবদ্ধি করতে পেরেছেন। সে যদি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকে তাহলে একজন সন্তান সম্ভবা নারীকে কেন ওএসডি করা হলো। এ ঘটনায় আমি বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

পরে এ কে এম শামীম ওসমান বলেন, বিষয়টিতে আমি লজ্জিত, কেননা ঘটনাটি আমার নির্বাচনী এলাকায়। তিনি আমার এলাকার সদরের ইউএনও। একজন সৎ কর্মজীবী, অত্যন্ত কর্মঠ, ভাল একজন কর্মকর্তা হিসেবে উনি আমার কাছে বার বার প্রতিয়মান হয়েছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে যখন অনেকেই চান তাদের পছন্দমত লোক বসাতে তখন আমাকেও বলা হয়েছিল। আমি সেই সময় মেয়েটিকে বলেছিলাম আপনি পারবেন কি না? তখন তিনি ৪-৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তখন তিনি বলেছিলেন আমি কাজটি করতে পারলেই সুস্থ থাকব। সেসময় আমি তাকে একজন ভাই হিসেবে বলেছিলাম আপনি কাজ করতে পারেন তবে এক শর্তে অধিক কাজ করবেন না। এই বাচ্চাটা ৯ বছরের চেষ্টার ফসল।

তিনি বলেন, আমি জানতে চাই কার নির্দেশে তাকে ওএসডি করা হলো, বদলি করলে একটা কথা ছিল। ওএসডি করার পর বাচ্চা প্রসব করল সেই বাচ্চাটির যে অবস্থা আমি শঙ্কিত, বাচ্চাটি বাঁচবে কি না? যদি খারাপ কিছু হয় তাহলে আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।

উল্লেখ্য, ইউএনও হিসেবে যোগ দেয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি হোসনে আরাকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সন্তান সম্ভবা ওই কর্মকর্তা খবরটা পাওয়ার পরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অক্সিজেন সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় অনাগত সন্তানের। ভর্তি হন হাসপাতালে। দেরি না করে ডাক্তার করেন সিজার। জন্ম নেয় অপরিপক্ক এক শিশু। ঠাঁই হয় এনআইসিইউতে। এখন বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ওই শিশুটি।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com