বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন

জামায়াতের রোকন ঘাতক অধ্যক্ষ সিরাজকে বাঁচাতে অপতৎপরতা চরমে

জামায়াতের রোকন ঘাতক অধ্যক্ষ সিরাজকে বাঁচাতে অপতৎপরতা চরমে

নিউজ ডেস্ক: ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে বাঁচাতে মিছিল-মিটিং, লবিং-গ্রুপিং করছে একটি মহল। আর এই অপতৎপরতায় পৃষ্ঠপোষকতার করছে স্থানীয় দু’জন কাউন্সিল মাকসুদুর রহমান ও শেখ মামুন। মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে একাধিক স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতা।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী অন্তত ১৫ জন নেতা, দু’জন কাউন্সিলর ও মাদ্রাসা কমিটির সদস্য মাকসুদ আলম ও শেখ মামুন, আবদুল কাদের, নূরউদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীমসহ আরো অনেকেই ঘাতক সিরাজ উদ দৌলাকে বাঁচাতে মিছিল-মিটিং এবং সমাবেশ করে হত্যা ও যৌন নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধকে বৈধতা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এদের মধ্যে পুলিশি অভিযানে আফছার উদ্দিন ও নূরউদ্দিন গ্রেফতার হলেও প্রভাবশালী কাউন্সিলর মাকসুদসহ বাকিরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

 

গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে। ওইদিনই মামলার জেরে গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। গ্রেফতার হওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে পরিকল্পিতভাবে মিছিল করে বেশকিছু শিক্ষার্থী, যারা অধ্যক্ষ’র মাধ্যমে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করেছেন। অধ্যক্ষকে বাঁচানোর জন্য পৗর কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম মাকসুদ নেপথ্যে কাজ করছিলেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসছে। এছাড়াও অধ্যক্ষের যেকোনো অপকর্মের দোসর ছিলো ওই একই মাদ্রাসার দুই ছাত্র নূরউদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন। নুসরাতের গায়ে ২০১৭ সালে একবার চুন নিক্ষেপ করেছিল তাদেরই একজন- নূরউদ্দিন।

 

নুসরাত জাহান রাফি ছাড়াও সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আরও অনেক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ আছে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে। ওই মাদ্রাসায় গ্রুপিং, মাদ্রাসার অর্থ তছরুপের অভিযোগের পাশাপাশি মাল্টি-পারপাস কোম্পানি খুলে অর্থ-আত্মসাৎ, অন্য একটি মাদ্রাসার চেক জালিয়াতি ও নাশকতা অভিযোগের মামলাও আছে তার বিরুদ্ধে। এরমধ্যে পাঁচ মামলায় বেশ কয়েক বার জেলও খেটেছেন ওই অধ্যক্ষ।

 

এদিকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সিরাজ উদ দৌলার মতো নরপশুকে রক্ষা করতে যারা মিছিল-মিটিং করেছেন তারা মূলত অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং ঘৃণ্য অপরাধকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। কোনোভাবেই খুনিকে সমর্থন করা যায় না এবং এসব অপরাধের পৃষ্ঠপোষকতাকারী, মদদ’দাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com