সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ১০:২১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

চা বিক্রেতা থেকে মাদক কারবারী : এখন কোটি পতি

চা বিক্রেতা থেকে মাদক কারবারী : এখন কোটি পতি

ইয়ানূর রহমান : ছিল চা বিক্রেতা, ২যুগ ধরে মাদক বিক্রেতা। এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। তারা দু’ভাই। বাসস্থান শার্শা উপজেলার দক্ষিন বুরুজ বাগান গ্রামে। গ্রামের অভ্যন্তরে বসেই মাদকের কারবার শুরু করলেও এখন পরিধি দেশ ব্যাপী। তাদের পিতার নাম আব্দুল কাদের সরদার। সহদর ভায়েরা হল আয়নাল ও জয়নাল।

 

শার্শা সহ সমগ্র দেশ ব্যাপী আয়নাল ও জয়নালের মাদক ব্যবসার পরিচিতি সহ ডজনেরও উপরে মাদক মামলা রয়েছে তাদের নামে। শুধুমাত্র শার্শা থানায় মামলা নয়। যশোর সহ ঢাকা-চট্রগ্রামেও তাদের নামে মাদক আইনে মামলা রয়েছে। জেল-হাজত বাসও করেছে অসংখ্য বার।

 

জনশ্রুতি রয়েছে, মাদক ব্যবসার সুবিধার জন্য বিয়ে করেছে একাধিক। ভারত সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের রয়েছে অসংখ্য বউ। যেখানে যখন সুবিধা সেখানে অবস্থান তাদের।

 

আয়নাল ও জয়নালের বাবা ছিলেন অতি দরিদ্র। নাভারন বাজারে চালনিতে চাল বেচত। সারাদিনের আয়ের উপর সংসার চলত। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা ছিল তাদের। তবে তাদের বাবা আব্দুল কাদের ছিলেন একজন সৎ মানুষ। অবশ্য গ্রামের মুরুব্বিরা তাদের বাবর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না করে বলেছেন, বাবার নামটা ছেলে দুটো ডুবালো। বাবার মৃত্যুর পর নাভারন সোনালী সিনেমা হলের অভ্যন্তরে চায়ের দোকান দেয় তারা। সেখানে থেকেই মাদকের বড় বড় চালানের কারবার শুরু।

 

অবশ্য দিনের বেলাই গ্রামের কোন মানুষ তাদের টিকিটিও দেখতে পান না। তাদের ব্যবসার সুবিধার জন্য শতাধিক টোকাই রেখেছেন। যারা মাদক বহনের কারবারের সাথে জড়িত রয়েছেন ৷

 

র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ( ডিবি, সিআইডি ) ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সদস্যরা আয়নাল ও জয়নালের মাদক ঘাটিতে অভিযান পরিচালনা করেছে। মাদকদ্রব্য তৈরির সরঞ্জাম ও মাদক সহ তাদের আটক করেছে বেশ কয়েক বার। শুধু তাই নয়, তাদের স্ত্রী’রাও মাদক সহ বারবার আটক হয়েছে। জেল-হাজত বাসও করেছে স্ত্রী’রা।

 

পুলিশের একটি সুত্র জানায়, সম্প্রতি কুথ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আয়নাল ৯লক্ষ ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে আটক হয়। ৬মাস জেল-হাজত বাসের পর কয়েকদিন আগে বাড়িতে ফিরে এসেছে। তবে সে বাড়িতে ফিরলেও তারা দু’ভাইকে গ্রামবাসী কখনই দেখে না। রাতের আধারে তাদের আনা-গোনাটায় বেশি।

 

গ্রামের একটি নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, মাঝে মাঝে আয়নাল ও জয়নালের দেখা মিললেও তাদের পাহারাই ডজন খানেক যুবককে দেখা যায়। যারা এরাকার অপরিচিত।

 

তাদের ব্যাপারে শার্শা থানা পুলিশের ইনচার্য মনিরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আয়নাল ও জয়নালের নামে একাধিক মামলা থাকলেও তারা রয়েছে জামিনে। তবে তাদেরকে আটকের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গ্রামবাসী সহযোগীতা করলেই তাদের আটকের ব্যাপারে সহজ হতো।

 

শার্শা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহারাব হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনাল ও জয়নালকে আটক করে বিশেষ ব্যবস্থা নিলে নাভারন এলাকা থেকে মাদক নির্মুল করা সম্ভব হতো। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সদয় হতে হবে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com