রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

“‘”‘পরিশ্রমের তুলনায় মূল্য কম”” আজ ও পাখা পল্লীর উন্নয়ন হয়নি

"'"'পরিশ্রমের তুলনায় মূল্য কম"'' আজ ও পাখা পল্লীর উন্নয়ন হয়নি

শামীম পারভেজ – নাটোর থেকে: নাটোরে বাগাতিপাড়ায় তালগাছশূন্য গ্রামের হাত পাখা তৈরি শিল্পীদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি। সরকারি অনুদানের টাকায় নদী ও রাস্তার ধারে ১৪শ’ তালগাছ লাগানো হয়েছে। কম সুদে ঋণ পেলে শিল্পীদের স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।
বাগাতিপাড়ার নিভৃত পল্লীর সবুজ ছাঁয়ায় ঘেরা হাপানিয়াগ্রাম। এর এক অংশ তালপাখা পল্লী নামে পরিচিত। এখানে অর্ধশত পরিবার পৈত্রিক ব্যবসা তালপাখা শিল্পে জড়িত। গ্রীষ্মকালে তালগাছের পাতা থেকে তৈরি হাত পাখার শীতল বাতাসে ক্লান্ত মন শান্ত হয়। বিদ্যুৎ শূন্য পরিবারে হাত পাখা পরম বন্ধু। প্রচন্ড দাবদাহ, ভ্যাপসা গরম  ও বিদ্যুতের লোডশেডিং বেশি হলে হাতপাখার চাহিদা বাড়ে।এ পল্লী থেকে প্রতি গ্রীষ্ম মৌসুমে ৩ লক্ষাধিক হাত পাখা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, তালগাছশূন্য এ পল্লীর আধাপাকা রাস্তার দূ’পাশের  অর্ধশতাধিক বাড়ির আঙ্গিনায় রৌদ্রে ছড়ানো-ছিটানো হাতপাখা বানানোর নানা উপকরণ। প্রতি বাড়ির পুরুষ ও নারী শিল্পীরা পাখা তৈরির কাজে ব্যস্ত। পুরুষরা  সংগ্রহকৃত তালপাতা  কেটে পাখার সাইজ করছেন। মেয়েরা নিপূণ হাতে তালপাখায় বাঁশের খিল সূতা দিয়ে আটকাচ্ছেন। কেউ পাখা রঙ করছেন।
কম আয়ে কষ্টে চলছে  তাঁদের সংসার। এ পল্লীর আলা- উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, খায়রুল  ইসলাম,আলম হোসেন, হানিফ আলী ও  মকলেসুর রহমান তালপাখা তৈরির উপকরণ সংগ্রহ ও  পাখা সরবরাহে সংপৃক্ত। আলা-উদ্দিন জানান, চাঁপাই-নবাবগঞ্জ ও নঁওগা থেকে ছোট তাল গাছের পাতা সংগ্রহের পর  রৌদ্রে শুকিয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হয়। কিছুদিন পর ভেজা নরমপাতা গোলাকার করে কেটে
মাঝখানে দূ’খন্ড করা হয়। প্রতি পাতা থেকে দূ’টি পাখা তৈরি হয়। পাতা সংগ্রহসহ প্রতি পিচ পাখার  তৈরি খরচ হয় ৭/৮ টাকা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বিক্রি হয় প্রতি পিচ ১৪/১৫ টাকায়। পরিশ্রমের তুলনায় আয় সীমিত। কম সুদে ঋণ পেলে ব্যবসার প্রসার ঘটানো সম্ভব।
মকলেসুর রহমান জানান,গত অর্থ বছরে এ পল্লীর “পাখা শিল্প উন্নয়ন সমিতি” তালগাছ লাগানোর জন্য ৯০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান পায়। অনুদানের টাকায় আড়ানি-পুঠিয়া পাকা রাস্তার দূ’ধারে উমরগাড়ি থেকে ফুলতলা পর্যন্ত এবং মূসা খাঁ নদীর দূ’ধারে ১৪শ’ তালগাছের চারা লাগানো হয়েছে। হাতপাখা শিল্পী সামিরা বেগম জানান, সাংসারিক কাজের ফাঁকে তিনি বাড়তি আয়ের জন্য হাতপাখা সেলাই করে প্রতিদিন ৮০/৯০ টাকা আয় করেন।  ১শ’ পাখা সেলাই ও রঙ করলে মজুরি পান ৫০ টাকা। এ পল্লীর শতাধিক মহিলা হাতপাখা শিল্পে কাজ করেন।
জামনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস জানান, হাতপাখা শিল্পের উন্নয়নে কম সূদে ঋণ ব্যবস্থা হওয়া দরকার।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com