সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ১০:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

আজ ভয়াল ১৩ মে: টাঙ্গাইলে শোক ও আতঙ্কের দিন

আজ ভয়াল ১৩ মে: টাঙ্গাইলে শোক ও আতঙ্কের দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের বাসাইলে মিরিকপুরের টনের্ডো দিবস আজ। ১৯৯৬ সালের ১৩ মে বিকাল ৫টায় স্মরণকালের ভয়াবহ টনের্ডো আঘাত হানে। এতে করে সেদিন কয়েক হাজার লোক প্রাণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকটি গ্রাম লন্ড-ভন্ড হয়ে যায়।

 

অনেকের ঘরের চালা উড়ে যাওয়ায় গোলার ধান পর্যন্ত ঝড়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। অনেক ঘরবাড়ি, গাছপালা, গবাদিপশু নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অনেক নারী-পুরুষের পরনের কাপড় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়।

 

অনেককে সম্পূর্ণ বস্ত্রহীন ক্ষতবিক্ষত দেহে বিভিন্ন কৃষি জমি, জঙ্গল, পুকুর-ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যা থেকে রাস্তায় শুরু হয় লাশের মিছিল। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসতে থাকে আহত ও নিহত মানুষবাহী গাড়ি। সে এক বিভীষিকাময় দৃশ্য।

 

বৈদ্যুতিক খুঁটি ও নলকূপের উপরের অংশ, দালানের ছাদ পর্যন্ত উঠে যায়। ধান কাটার মৌসুম থাকায় উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার ধানকাটা শ্রমিক জড়ো হয়েছিল এ অঞ্চলে। মিরিকপুর-সৈদামপুরের আতঙ্কগ্রস্থ মাঠের বহু শ্রমিক মিরিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দালানে আশ্রয় নিয়েছিল। দালান বিধ্বস্ত হওয়ায় তারা সেখানেই চাপা পড়ে মারা যায়।

 

এলাকার গ্রামের বহু লোক নিখোঁজ হয়। পরদিন তাদের মৃতদেহের খোঁজ মেলে পার্শ্ববর্তী নদী, পুকুর, খাল ও বিলে। মৃত মানুষ, গবাদিপশু ও মাছের দুর্গন্ধে বাসাইলের বাতাস ভারী হয়ে গিয়েছিল।

 

মিরিকপুর ছাড়াও উপজেলার বর্নীকিশোরী, হান্দুলিপাড়া, কলিয়া, কাউলজানী, খাটোরা, ফুলকী, বাদিয়াজান, সুন্না গ্রামের অংশবিশেষ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়। বর্নী কিশোরী উত্তরপাড়ার একই পরিবারের মৃতদেহ প্রায় আধমাইল দূরের বিল থেকে উদ্ধার করা হয়।

 

অনেক পরিবারের কেউই জীবিত ছিল না। বাসাইল উপজেলা হাসপাতালসহ পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলো ছিন্ন ভিন্ন আহত লোকজনে ভরে গিয়েছিল। উপজেলায় টর্নেডো আক্রান্ত এলাকায় একাধিক গণকবর সৃষ্টি হয়েছিল।

 

ঝড়ে উপজেলার ১৭ গ্রামের ৫ হাজার পরিবারের প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৩ হাজার ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ রুপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫-৬টি কাঁচাবাজার, প্রায় ২০ হাজার গবাদিপশু, ১০ হাজার হাঁস-মুরগি, সাড়ে ৩০০ টিউবওয়েল ও ৩০ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

সরকারি হিসাবে মৃতের সংখা ৩৩৭ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃতের সংখা ছিল কয়েক হাজার। টাকার অংকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা। আজো কালো মেঘের আনাগোনা দেখলে বাসাইলের মানুষের মনে ভেসে ওঠে সেই মিরিকপুরের ঝড়ের স্মৃতি।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com