শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

গেম অব থ্রোনস : যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন দর্শকরা

গেম অব থ্রোনস : যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন দর্শকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গেম অব থ্রোনস- আর. আর. মারটিন এর লেখা কাহিনীর ওপর নির্মিত ফ্যান্টাসি টিভি সিরিজ– আকাশচুম্বী দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। চলুন জেনে নেই সিরিজটির সাম্প্রতিক পর্ব, দ্য লাস্ট অব দ্য স্টার্ক, নিয়ে কোন প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে।

 

এখন প্রচারিত হচ্ছে এই সিরিজের শেষ সিজন, যার আর মাত্র দুই পর্ব বাকি!

 

***স্পয়লার অ্যালার্ট (সতর্কতা)***
আপনি কি পর্ব ৪ ‘দ্য লাস্ট অব দ্য স্টার্ক’ এর কিছু বিষয় নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন? গুগলে কিছু প্রশ্নের উত্তর হন্যে হয়ে খুঁজছেন?

এ সিরিজের বাকি আছে আর মাত্র কয়েকটি পর্ব। মনে হচ্ছে এর কাহিনী তরতর করে সামনে এগোচ্ছে আর আপনি এই অবিশ্বাস্য দ্রুত গতির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলছেন?

কোনো অসুবিধা নেই তাতে! গেম অব থ্রোনস নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত পাঁচটি বিষয় এখানে দেওয়া হল:

১. মিসান্দে কী বলেছিল?
মিসান্দে—ড্রাগন কুইন ড্যানেরিস টারগারিয়েন এর একসময়ের ক্রীতদাস, পরবর্তীতে যাকে দেখা গেছে রানির বিশ্বস্ত উপদেষ্টা হিসেবে, ‘দ্য মাউন্টেন’ খ্যাত গ্রেগর ক্লিগেইনের হাতে মারা যায়।

মারা যাবার আগে তার উচ্চারিত শেষ শব্দ ছিল: দ্রাকারিস।

ইতোমধ্যে এটা সবারই জানা যে দ্রাকারিস শব্দটি উচ্চারণ করে ড্যানি টারগারিয়েন তাঁর ড্রাগনদের শত্রুদের আগুনে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেন।

তাহলে মিসান্দে কেন এটি বলল?

গেম অব থ্রোনস ভক্তরা মনে করছেন, তার এই বিদায়ী উচ্চারণ রানির প্রতি তার আনুগত্যের প্রকাশ তো বটেই, সেই সাথে ড্রাগন রানির কাছে একটাই স্পষ্ট বার্তা পাঠায়: শত্রুদের পুড়িয়ে মারুন।

২. দ্রাকারিস অর্থ কী?
ভ্যালেরিয়ান ভাষায় ‘দ্রাকারিস’ এর আক্ষরিক অর্থ ড্রাগন ফায়ার বা ড্রাগনের আগুন। সিরিজে ক্রমেই যেটি হয়ে ওঠে ড্যানেরিস এর আক্রমণ সংকেত।

শিরশ্ছেদ হওয়ার আগে মিসান্দে-এর বলা এই শেষ শব্দটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ: ড্যানি সারাজীবন চেষ্টা করেছে নিজেকে তাঁর অত্যাচারী বাবার চেয়ে ব্যতিক্রম প্রমাণ করার— তাঁর বাবা ‘দ্য ম্যাড কিং’, যে কিনা মৃত্যুর সময়ও চিৎকার করে বলেছিলেন—সবাইকে পুড়িয়ে মারো!

ড্রাগন কুইন নিজেকে একজন মহানুভব শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক ছাড় দিয়েছে, হাজারো নিষ্পাপ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা থেকে বিরত থেকেছে।

তবে, সার্সি, আয়রন থ্রোনের বর্তমান রানি, তাঁর এই মহানুভবতাকে দুর্বলতা ভেবে ভুলও করতে পারে।

৩. গেম অব থ্রোনসের সিজন-৭ এর পর্ব-৪ এ কে মারা যাবে?
আমরা এখনই জানি ড্যানেরিস-এর সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু মিসান্দেকে কেমন নিষ্ঠুরভাবে মাথা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

আর কে মরণের পথে হাঁটবে? এর মধ্যেই বিদায় জানাতে হয়েছে রেগাল নামে ড্রাগনকে।

বিশ্বাসঘাতক ইউরন গ্রেজয় এক বিশাল তীর ধনুক দিয়ে এই ড্রাগনকে আকাশ থেকে ভূপাতিত করে।

রেগালের মৃত্যু এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। ড্রাগনটি যেভাবে আকাশ থেকে সাগরের ওপর আছড়ে পড়ল এবং ধীরে ধীরে নীল পানিতে তলিয়ে গেল তা অনেক ভক্তকে কষ্টের সাগরে ডুবিয়েছে।

ফলে তিনটি ড্রাগন থেকে জীবিত রইল আর মাত্র একটি ড্রাগন, ড্রোগোন।

যেটি জন্ম দেয় সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নের…

৪. রেগাল কি সত্যিই মারা গেছে?
দেখে তো আমাদের বেশিরভাগেরই এমন মনে হয়েছে।

রেগালের গায়ে কয়েকটি বিশাল তীর বিঁধেছিল: একটা বুকের ভেতরে, আরেকটা একদম ঘাড়ের ভেতরে বিদ্ধ হয়েছিল আর প্রচুর পরিমাণে রক্ত ঝরছিল।

পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পরে ড্রাগনটিকে আর দেখা যায়নি।

তবে মৃত ড্রাগনের ফিরে আসাও নতুন কিছু নয়। এ ড্রাগনের আরেক ভাই ‘ভিসেরিয়ন’কে নাইট কিং এর সৈন্যদলে ‘জোম্বি-আইস-ড্রাগন’ হিসেবে ফিরে আসতে দেখা গেছে।

তবে নাইট কিং আর তার হোয়াইট ওয়াকার সৈন্যদলও তো ফিরে গেছে। তাহলে?

রেগালের কপালে আসলে যে কী ঘটেছে তা নিয়ে আরো সংশয় দেখা দেয় সার্সি আর ইউরনের মধ্যকার কথোপকথনের পর, যেখানে আয়রন থ্রোনের রানি তাকে জিজ্ঞাসা করে যে সে ওই ড্রাগনটির মৃত্যুর ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত কিনা।

আশাবাদী ভক্তরা এখনো আশার আলো খুঁজছে কারণ সাগরে তলিয়ে যাওয়ার পরে রেগালের মৃতদেহ কোথাও দেখা যায়নি।

আর পুনর্জন্ম থিওরিতে বিশ্বাসীদের বিশ্বাস আরো পাকাপোক্ত হয়েছে পরের পর্বের টিজার দেখার পরে।

সেখানে দেখা যায়, ইউরন গ্রেজয় ড্রাগনের চিৎকার শুনে বিস্ময়ভরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।

৫. গেম অব থ্রোনসে কী হচ্ছে?
পর্ব-৪, দ্য লাস্ট অব দ্য স্টার্ক, সম্পর্কে আপনার যা যা জানা দরকার:

নাইট কিং আর তার হোয়াইট ওয়াকার সৈন্যদলকে পরাজিত করে বিজয় উদযাপনের আগে পর্ব তিনের যুদ্ধে মারা যাওয়া সকলের মৃতদেহ ঐতিহ্য অনুসারে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
ড্যানেরিস জন স্নোকে অনুরোধ করে তার আসল পরিচয় প্রকাশ না করতে, বিশেষ করে এ ব্যাপারে সানসা ও আরিয়াকে যেন সে একটি শব্দও না বলে।
জন, সর্বদা ভালো ছেলে, মনে করে– তারা সবাই এখন একটি পরিবার এবং এ পরিবারের ভেতরে কোন গোপন বিষয় থাকা উচিত নয়।
জন তার বোনদের কাছে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশের পর আরিয়া এক বিশেষ মিশন নিয়ে উইন্টারফেল থেকে বের হয়ে কিংস ল্যান্ডিং এর দিকে রওনা হয়।
পথে আরিয়ার সাথে দেখা হয় ‘দ্য হাউন্ড’-এর—যে নিজেও এক বিশেষ মিশন নিয়ে চলেছে। কী হতে পারে সে মিশন?
সানসা জনের গোপন বিষয়টি টিরিয়নকে বলে, টিরিয়ন বলে ভ্যারিসকে। হ্যাঁ, সাবেক প্রধান গুপ্তচর, ভ্যারিস।
ভ্যারিস জানায়, জন-এর জটিল পারিবারিক ইতিহাস আর ‘গোপন’ কোন বিষয় নয়, বরং এটি এখন একটি তথ্যমাত্র।
প্রথমবারের মত টিরিয়ন ও ভ্যারিস প্রশ্ন তোলে, ড্যানেরিস কি আসলেই আয়রন থ্রোনের উত্তরাধিকারী? তাহলে শেষ খেলায় পাশা কি উল্টে যাবে?
ততক্ষণে সার্সি তার সৈন্যদলকে আসন্ন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে আর কিংস ল্যান্ডিং-এর সব নাগরিককে ‘রেড কিপ’ এ অবস্থান করার নির্দেশ দেয়।
ড্যানেরিস যদি তাকে পরাজিত করতে চায়, তাহলে আগে সব নিষ্পাপ বেসামরিক লোককে হত্যা করতে হবে।
রেগাল নামের ড্রাগনটি ভূপাতিত হয় ফলে মিসান্দে ইউরন গ্রেজয়ের হাতে ধরা পড়ে।
টিরিয়ন সার্সিকে শেষবারের মত অনুরোধ করে মিসান্দেকে হস্তান্তর করে আয়রন থ্রোন ছেড়ে দিতে যাতে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এড়ানো যায়।
জবাবে, সার্সি মিসেন্দির ঘনিষ্ঠ বন্ধু, ড্রাগন কুইন ও তার প্রেমিকের সামনেই নির্দয়ভাবে তার মাথা কেটে ফেলে।
ড্যানেরিস কি শেষ পর্যন্ত ‘উন্মাদ রানি’তে পরিণত হবে?


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com