সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন

যাত্রী সেবায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অনবদ্য উদ্যোগ স্মার্টফোন ভিত্তিক ‘রেল সেবা’ অ্যাপ

রাজশাহী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ রেলওয়ে তার যাত্রী সেবা আধুনিকায়ণ ও সহজতর করার জন্য বহুমূখী পদেক্ষপ গ্রহন করেছে। এর মধ্যে নতুন যাত্রী কোচ সংগ্রহ, রেলপথ সম্প্রসারন, ডাবল লাইন নির্মান, নতুন রুট ও ট্রেন চালুকরন অন্যতম। একই ধারাবাহিকতায় রেলের টিকিট আরো সহজলভ্য করতে এবং টিকিট কালোবাজারী প্রতিহত করতে ইন্টারনেট ভিত্তিক অনলাইন টিকেটের পাশাপাশি স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রী ও রেলের যাবতীয় তথ্য ও সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে চালু করেছে রেল সেবা নামে একটি অত্যাধুনিক অ্যাপ।  বিগত ২৮শে এপ্রিল ২০১৯ ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে জাকজমকপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে অ্যাপটি উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক।

রেলওয়ে সুত্রে জানা যায় যে, ঘন্টায় প্রায় ১৫ হাজার টিকিট ইস্যু করতে সক্ষম এই অ্যাপটি সম্পূর্ণরুপে বাংলাদেশে তৈরী। স্টেশন কাউন্টার, ইন্টারনেট ও মোবাইল ভিত্তিক ই-সেবা পোর্টালের মাধ্যমে টিকিট বিক্রীর কারীগরী দায়িত্বে নিয়োজিত একই প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড মাত্র ১মাস সময়ের মধ্যে অ্যাপটি তৈরী ও চালু করেছে। বর্তমান রেলমন্ত্রী তাঁর দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই রেলওয়ের সকল কার্য্যক্রম যাত্রীবান্ধব করার উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।  মাননীয় রেলমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও উৎসাহে বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবা ব্যবহারকারীর দোরগোড়ায় পৌছে দেয়ার লক্ষে অ্যাপটিতে পছন্দসই আসন বিন্যাস অনুযায়ী তাৎক্ষণিক টিকেট কাটার পাশাপাশি সংযোজন করা হয়েছে নানাবিধ সুবিধা, যার মধ্যে আছে ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতার রেটিং, ট্রেনের অবস্থান, ট্রেন সিডিউল, আসন প্রাপ্যতা,  ট্রেনে খাবার অর্ডার দেয়ার জন্য মেনু, যাত্রী অভিযোগ জানাতে রয়েছে কমপ্লেইন সেকশন। জাতীয় কল সেন্টার (৩৩৩) ইন্ট্রিগেটেড থাকার কারনে যাত্রীরা তাদের অভিযোগ ও মতামত সহজে  জানাতে পারবেন । এখানে আরো উল্লেখ্য যে, একই প্রতিষ্ঠান ২০১০ সালে মোবাইলের মাধ্যমে রেলওয়ে টিকেটিং সেবা চালু করেন এবং সে সময়ে এশীয় মহাদেশের মধ্যে সর্বপ্রথম বাংলাদেশেই উক্ত সেবা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা উদ্বোধন করেন যা এখনও সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ এই একই ধরনের সেবা ইন্ডিয়ান রেলওয়ে চালু করে ২০১৩ সনে।

প্রথম দিকে ছোটখাট কিছু সমস্যা দেখা দিলেও সেগুলি দ্রুত নিরসন করার ফলে অ্যাপটি ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে। এ পর্যন্ত  ১ লক্ষের বেশী ডাউনলোড তার প্রমান। বিগত ২৮শে এপ্রিল চালুর পর হতে ১৭ই মে পর্যন্ত ২০ দিনে অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ১,৩৪,৬৩১ টি যাত্রীর টিকিট বিক্রী হয়েছে, যার মধ্যে ২২,০৩২ টি টিকিটই অ্যাপের মাধ্যমে কাটা হয়েছে। এছাড়া জনপ্রিয় রুটগুলির মধ্যে ১০দিনের একটি পরিসংখ্যানে লক্ষ করা যায়,  ঢাকা-চট্টগ্রামের সুবর্ণ এক্সপ্রেসে  নির্ধারিত কোটা ৩৬৫২ টি আসনের বিপরীতে অনলাইনে ২৫৬৬ টি যার মধ্যে আ্যাপের মাধ্যমে ৩৯৮ টি, ঢাকা-খুলনা রুটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস এর ১১০ টি আসনের বিপরীতে অনলাইনে ৮৯ টি যার মধ্যে আ্যাপের মাধ্যমে ২৫ টি এবং তিস্তা এক্সপ্রেসে নির্ধারিত কোটা ১৪৭৯ টি আসনের বিপরীতে অনলাইনে ৯৪১ টি যার মধ্যে আ্যাপের মাধ্যমে ২৫০ টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। এতেই অ্যাপটির কার্য্যকরিতা ও সক্ষমতা প্রমানিত হয়্। একই সংগে বুঝা যায়, কাউন্টারে লাইনে দাড়িয়ে টিকিট কেনার চেয়ে ক্রেতাদের ঝোঁক অনলাইনে ঘরে বসেই টিকিট কাটা। অ্যাপটি সম্পর্কে যথাযথ প্রচার ও ব্যবহারে অভ্যাস্ত হলে প্রতিদিনই অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ভ্রমন করছেন এমন ২ জন ভারতীয় আইটি বিশেষজ্ঞ এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ হলে তারা অ্যাপটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন ইন্ডিয়ান রেলওয়ে অ্যাপেও সরাসরি টিকেট ক্রয় করা যায় না শুধুমাত্র বুকিং করা যায় এবং যাত্রী নিজের পছন্দমত কোন সিট নির্বাচনও করতে পারেন না। তাঁরা বাংলাদেশ রেলওয়ের রেল সেবা অ্যাপের কারিগরী দিক সহজ, উন্নত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বলে উল্লেখ করেন। তাঁরা আরো বলেন যে,  অন্যান্য অ্যাপের তুলনায় রেলওয়ের অ্যাপটি কারিগরী দিক থেকে বেশ জটিল। প্রায় ১০০টির মত অনলাইন স্টেশনের সকল যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী সিট সাময়িকভাবে ব্লক করা, পেমেন্ট গেটওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করা, পেমেন্ট সম্পন্ন করে টিকেট ইস্যু করা এই জটিল বিষয়গুলি সমাধান করে স্বল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাপটি প্রস্তুত করে সেটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা একটি দুরূহ কাজ যা সাধারণ কোন আইটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব। আর এ কাজে দক্ষ জনবলের পাশাপাশি প্রয়োজন পড়ে ডাটা সেন্টার, দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ও আত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহ ব্যয়বহুল আবকাঠামো।  বেসরকারীখাতে সিএনএস লিমিটেড এর মত প্রতিষ্ঠান তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষ জনবল  ও অবকাঠামো ব্যবহার করে আধুনিক অ্যাপটি রেলওয়ে যাত্রীদের জন্য চালু করতে পেরেছন তা অচিন্তনীয় এবং আমরা অভিভূত। আর এজন্য অবশ্যই তারা প্রশংসার দাবীদার।

অ্যাপটির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক(মার্কেটিং) লে. কর্ণেল(অব.) তারেক-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  জানান, অ্যাপটি সম্পূর্ণ বাংলাদেশী প্রযুক্তি দিয়ে তৈরী ও এটি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন। তিনি আরো জানান অ্যাপে ছোটখাট কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি যদি থেকে থাকে, যা সম্মানিত রেলযাত্রীগন বা রেলওয়ে কর্তৃক তাদের নজরে আনা হলে  গঠনমূলক ও ইতিবাচক বিষয়গুলি দ্রুত নিরসনের পদক্ষেপ গ্রহন  করা হবে।   লে. কর্ণেল(অব.) তারেক আরো জানান যে, তাদের প্রতিষ্ঠানটি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রয়াসের সাথে সামজ্ঞস্য রেখে সরকারী সেবার মান ও রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে গেলেও কিছু সার্থান্বেষী মহল বিশেষ করে নাম-সর্বস্ব কিছু আইটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি সস্তা প্রচারের মোহে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অ্যাপটি সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে  সরকারী সেবা সহজীকরন ও দূর্ণীতি প্রতিরোধের চেষ্টা যাতে বিফল হয় তার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। এমনি একজন আইটি বিশেষজ্ঞ রেল টিকেটিং কার্য্যক্রম সম্পর্কে অবহিত না হয়ে অ্যাপের কার্য্যকরিতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষন করে এর কোন আন্তর্জাতিক মান নেই এবং এর ব্যাহারের ফলে টিকেট কালোবাজারি বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করেন। এতে আ্যাপটির বিষয়ে মাননীয় রেলমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে আকার্যকর করার অপপ্রয়াস মাত্র। এ বিষয়ে জনসাধারনের মধ্যে এভাবে বিভ্রান্ত না ছড়িয়ে সরাসরি সিএনএস এর নিকট গঠনমূলক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করার জন্য অনুরোধ করা হল।

ওয়ালেট কিংবা কার্ডের লেনদেনের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ে নির্ভর হওয়ায় এ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারনা না থাকায় টিকেট না পাওয়ায় আ্যপ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অ্যাপটি কিভাবে কাজ করে নিম্নে তা উল্লেখ করা হল। যখন কোন যাত্রী টিকেট ক্রয়ের জন্য অ্যাপের মাধ্যমে সিট সিলেকশন করেন তখন তা পরবর্তী ৫ মিনিটের জন্য তার জন্য সাময়িক বরাদ্দ করা হয়। এ সময়ের জন্য অন্য কোন যাত্রী তা পছন্দ বা ক্রয় করতে পারেন না। এই ৫ মিনিটের মাধ্যেই যাত্রীকে পেমেন্ট গেটওয়ে তথ্যসমূহ প্রদান করে পেমেন্ট সম্পন্ন করে টিকেট প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। পেমেন্টের তথ্য গেটওয়ে হতে নির্ধারিত সময়ের মাধ্যমে না পাওয়া  গেলে সেক্ষেত্রে টিকিট দেয়া সম্ভব হয়না। তবে এক্ষেত্রে পেমেন্ট গেটওয়ে হতেই সরাসরি কেটে নেয়া টাকা কার্ড কিংবা ওয়ালেটে  নির্দিষ্ট সময়ই ফেরৎ চলে যায়। যার ফলে গ্রাহকদের ভয় পাবার কিছ্র নেই। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সমমানের বাংলাদেশ রেলওয়ের এই অ্যাপটি দিয়ে নির্ধারিত কোটায় সকল টিকিটই বিক্রয় করা যাবে। স্বার্থানেষী মহলের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে নির্ভয়ে অ্যাপটি ব্যবহারের পাশাপাশি অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অ্যাপ সম্পর্কে মূল্যবান মন্তব্য ফেসবুক পেইজে (facebook.com/groups/railsheba/), twitter-এ @Rail_Sheba এবং WhatsApp – এ Rail Sheba গ্রুপে প্রদান করতেও তারা অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

ইন্টারনেট এবং রেল সেবা অ্যাপ এর মাধ্যমে টিকেট ক্রয়ের পদ্ধতি

ওয়েবসাইটের মাধ্যমে :

www.esheba.cnsbd.com-এ প্রবেশ করুন। এখানে দুটি অপশন আছে – একটি সাইন ইন অন্যটি সাইন আপ। যাঁদের আইডি খোলা আছে তাঁরা ই-মেইল, পাসওয়ার্ড, সিকিউরিটি কোড দিয়ে সাইন ইন করে আইডিতে ঢুকবেন। যাঁদের আইডি খোলা নেই, তাঁদের নতুন আইডি খুলতে সাইন আপে ক্লিক করে নিবন্ধন করে নিতে হবে।

ওয়েবসাইট থেকে টিকিট কাটতে চাইলে ‘Purchase Ticket’ অপশনে ক্লিক করলে একটি পেইজ ওপেন হবে। উক্ত পেইজে প্রবেশ করে সেখানে ‘Station from’ (যাত্রার শুরুর স্টেশন) এবং ‘Station to’ (গন্তব্য স্টেশন) বাছাই করুন। ‘Journey Date’ এ ভ্রমণের দিনক্ষণ বাছাই করুন। এবার আপনার যে ধরনের টিকিট দরকার, সেটা ‘Class’ এর ঘরে লিখুন। সব শেষে ‘Search Train’ বাটনে ক্লিক করুন।

ট্রেন বাছাইকরণ : আপনি যে তারিখে যে রুটে বাছাই করেছেন, সেই রুটে এক বা একাধিক ট্রেন আছে। কোনটা কখন ছাড়বে, সব দেখা যাবে ওয়েবসাইটে। এখন যে ট্রেনে ভ্রমণ করতে চান, সেটার অপশনে কতজন প্রাপ্তবয়স্ক, কতজন অপ্রাপ্তবয়স্ক তা বাছাই করুন। প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কসহ একসঙ্গে মোট চারজনের বেশি টিকিট কাটা যাবে না।

টিকিট বাছাইকরণ : এখানে দুটি অপশন আছে : ‘Auto Selection’ ও ‘Seat Selection’। যদি অটো সিলেকশন সিলেক্ট করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসন বরাদ্দ হয়ে যাবে। কিন্তু সিট সিলেকশনে ক্লিক করলে নিজের পছন্দ অনুযায়ী আসন বেছে নিতে পারবেন।

আসন বাছাইকরণ : সিট সিলেকশনে ক্লিক করলে আপনাকে নির্ধারিত বগি বা বগিগুলোর আসন পরিকল্পনা দেখাবে। এখানে সবুজ চিহিৃত আসনগুলো এখনও অবিক্রিত রয়েছে যা আপনি ক্রয় করতে পারবেন। আসন বাছাই করার পর পাশের ছোট্ট ট্যাবে আপনার আসনগুলোর নম্বর, ভাড়া, ভ্যাট, সার্ভিস চার্জসহ মোট ভাড়া দেখাবে। এরপর আপনার লিঙ্গ (পুরুষ বা নারী), বয়স—এগুলো সিলেক্ট বা পূরণ করবেন। অটো সিলেকশন করলে তারাই আপনাকে দেখাবে কয়টি আসন আছে, ভাড়া কত। তবে কোন বগি, কোন আসন—এসব দেখাবে না। এরপর লিঙ্গ, বয়স সিলেক্ট বা বাছাই করুন। ভ্রমণের ১০ দিন আগে থেকে ১২০ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আসন বাছাই করতে পারবেন। ভ্রমণের ১২০ ঘণ্টা আগে থেকে ভ্রমণের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সিট সিলেকশন বা বাছাইকরণ অপশন থাকবে না। তখন আপনাকে অটো সিলেকশনে যেতে হবে।

টিকিট কাটার সময় : টিকিট কেনার সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা।

পেমেন্ট : যে কোন ভিসাকার্ড, মাস্টারকার্ড, আমেরিকান এক্সপ্রেস, ডিবিবিএল নেক্সাস, ডিবিবিএল মোবাইল ব্যাংকিং (রকেট) থেকে টিকেটের মূল্য  পরিশোধ করা যাবে। যেটা দিয়ে টিকেট ক্রয় করবেন সেটাতে ক্লিক করুন। প্রতি সপ্তাহে দুটি টিকেটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ০৮ (আট) আসন ক্রয় করা যাবে।

এরপর ই-মেইলে ঢুকলে বাংলাদেশ রেলওয়ে থেকে একটি মেইলের মাধ্যমে একটি পিডিএফ ফাইল প্রেরণ করা হবে। এখানে ডাউনলোড ও প্রিন্ট আউট অপশন আছে। যেখান থেকে আপনি ডাউনলোড এবং প্রিন্ট আউট করতে পারবেন। যদি কাউন্টার থেকে টিকিটের হার্ডকপি নিতে চান তাহলে মোবাইল নম্বর এবং টিকিটের পিন নম্বর একটা কাগজে লিখে কাউন্টারে দিন, তারা আপনাকে টিকিট দেবে।

যাঁর নামে আইডি খোলা হয়েছে, টিকিটও তাঁর নামেই হবে। যদি তিনি ভ্রমণ করেন, তাহলে শুধু পিডিএফের প্রিন্ট কপি নিয়েই ভ্রমণ করতে পারবেন, কাউন্টার থেকে টিকিট তোলা লাগবে না। কিন্তু অন্য কেউ এই পিডিএফ দিয়ে ভ্রমণ করতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে তাঁকে কাউন্টার থেকে মোবাইল নম্বর এবং টিকিটের পিন নম্বর দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

অ্যাপের মাধ্যমে :

‘রেলসেবা’ নামে নিজেদের মোবাইল অ্যাপ এনেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে প্রথমে https://play.google.com/store/apps/details?id=com.cnsbd.railsheba এই লিংকে বা Play Store- থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। আপাতত শুধু অ্যানড্রয়েড সংস্করণে রয়েছে অ্যাপটি। তবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আইওএস সংস্করণও আনা হবে শিগগিরই। অ্যাপটি ডাউনলোডের পর ইনস্টল করে চালু করলে লগইন অপশন দেখা যাবে। যদি রেলসেবা অ্যাপে আপনি নিবন্ধন করে থাকেন তাহলে ফোন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। আর আগেই যদি আপনি বাংলাদেশ রেলের ই-সেবা ওয়েবসাইট নিবন্ধন করে থাকেন তাহলে সেই আইডি ব্যবহার করে লগইন করতে পারবেন। আর যদি অ্যাপটি নিবন্ধন না করে থাকেন তাহলে নতুন করে সাইন আপ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তারপর নতুন একটি পেজ চালু হবে। সেখানে নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল আইডি, পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। তারপর আপনার ফোনে একটি কোড যাবে। সেই কোডটি অ্যাপে সাবমিট করলেই আইডিটি তৈরি হয়ে যাবে। পরবর্তীতে টিকেট ক্রয়ের সময় জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে একাউন্ট আপডেট করে নিতে হবে।

যেভাবে কিনবেন টিকিট : প্রথমে অ্যাপের ‘purchase’ অপশনে যেতে হবে। তারপর ‘from station’ অপশনে ক্লিক করে ড্রপ ডাউন মেন্যু থেকে কোন স্টেশন থেকে যাবেন নির্ধারণ করতে হবে। যদি স্টেশন না থাকে তাহলে সার্চ বাটন থেকে স্টেশনের নাম লিখলে স্টেশন খুঁজে পাওয়া যাবে। একই পদ্ধতিতে কোথায় যাবেন তা নির্ধারণ করতে হবে ‘to station’ অপশন থেকে। এরপর ‘journey date’ থেকে কোন তারিখ যাবেন নির্ধারণ করে ‘search train’ বাটন চাপতে হবে। তাহলে ট্রেনের তালিকা পাওয়া যাবে। সেখান থেকে যে ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে তা দেখা যাবে। সেখানে ‘select class’ অপশনে ক্লিক করে কোন ধরনের আসন নেবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর ‘adult’ ও ‘child’ অপশন থেকে টিকিটের ধরন ও সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর ‘select seat’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আসন নির্বাচন করতে হবে। তারপর নতুন একটি পেজে টিকিটের সম্পর্কে বিস্তারিত দেখা যাবে। সেখান থেকে ‘pay now’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে অনলাইনের পেমেন্ট অপশনগুলো দেখা যাবে। ভিসাকার্ড, মাস্টারকার্ড, এমেক্স কার্ড এবং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এখানে উল্লেখ্য যে, সিলেকটেড পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ০৫ (পাঁচ) মিনিট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। ০৫ (পাঁচ) মিনিটির মধ্যে টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে টিকেট কাটা সম্ভব হবে না। এমতাবস্থায় টিকেট ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলেও টিকেটের টাকা কর্তন করা হলে নির্ধারিত পেমেন্ট গেটওয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ০৮ (আট) কর্ম দিবসের মধ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত প্রদান করা হবে। টাকা পরিশোধের ৩০ (ত্রিশ) মিনিটের মধ্যে অ্যাপস History থেকে  টিকিট ডাউনলোড করা যাবে। এছাড়াও ফিরতি মেইলের মাধ্যমে গ্রাহকরা টিকেটের কনফারমেশন পাবেন।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com