সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

‘ট্রাফিক জ্যাম’-এর কবলে মাউন্ট এভারেস্ট

‘ট্রাফিক জ্যাম’-এর কবলে মাউন্ট এভারেস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাউন্ট এভারেস্টে ট্রাফিক জ্যাম! শুনতে অবাক লাগলেও বুধবার (২২ মে) এমন পরিস্থিতির মুখেই পড়েছেন পর্বতারোহীরা। একই সঙ্গে ২০০ জন অভিযাত্রীর পর্বতারোহণের চেষ্টায় ট্রাফিক জ্যামের মতোই পরিস্থিতি তৈরি হয় পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বতশৃঙ্গে।

 
এনডিটিভি’র খবরে বলা হয়, ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার উঁচু এভারেস্টে সামিটের লক্ষ্যে বুধবার ভোরে বিভিন্ন দেশের পর্বতারোহীরা ক্যাম্প ফোরে পৌঁছান। কিন্তু উপরে ওঠার চাপ এতটাই বেশি ছিল যে বহু পর্বতারোহীকে ওই ক্যাম্পেই দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয়। তাতে কয়েক জনের ধৈর্যচ্যুতিও হয়।

 

জ্যামে পড়া মানেই অপেক্ষা বাড়তে থাকা। দীর্ঘ অপেক্ষায় দেখা দিতে পারে অক্সিজেন সঙ্কট। বাধ্য হয়ে মাঝরাস্তা থেকে ফেরত এসেছেন অনেকেই। ফলে এভারেস্টের শেষ ধাপে গিয়েও বেশ কয়েকজন অভিযাত্রীরই সামিট করা হল না এ বছর।

 

এমন বিচিত্র ঘটনার কথা এর আগে খুবই কম শোনা গেছে। নেপাল সরকার বলছে, ২০১৯ সালে এভারেস্ট সামিটের জন্য ৩৮১ জন পর্বতোরোহীর নাম নথিভুক্ত হয়েছে। যা এতোদিনের মধ্যে রেকর্ড।

 

১৪ মে নেপাল সরকার এভারেস্ট সামিটের রুট খুলে দিলে আট সদস্যের শেরপার দল এ বছর প্রথম শৃঙ্গের চূড়ায় পৌঁছায়। তারা ছাড়া আরো ৪৩টি দল এভারেস্ট সামিটের লক্ষ্যে পর্বতারোহণ শুরু করেছে বলে জানা যায়।

 

বছরের এই সময়টাই এভারেস্ট জয় করার জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। প্রতিবছর অসংখ্য পর্বতারোহী সামিট করেন। আর প্রত্যেককে পথ দেখিয়ে দেয়ার জন্য সঙ্গে থাকেন কয়েকজন করে শেরপা। তারা বিভিন্ন জিনিসপত্রও বহন করেন। সেই হিসাবে এবার এভারেস্টে উঠেছে ১ হাজারের বেশি মানুষ। এরই মধ্যে এভারেস্টে ওঠার বেস ক্যাম্পে দলে দলে পর্বতারোহীরা পৌঁছাতে শুরু করেছেন।

 

পর্বতারোহীদের সহকারী হিসেবে মোট পাঁচবার পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রেখেছেন সোনাম শেরপা। তিনি বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকতে থাকতেই সবাই চূড়ায় উঠতে চায়। সবারই তাড়া থাকে। কিন্তু পর্বতারোহীদের অভিযানের ক্ষেত্রে কোনো সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই। তাই সেখানে ‘ট্রাফিক জ্যাম’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এভারেস্ট জয় করে ফেরার সময় প্রায় সময়ই অক্সিজেনের অভাব থাকে। তখন যদি লম্বা লাইনের মধ্যে পড়তে হয়, তাহলে অনেকের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।

 

১৯৫৩ সালে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারি ও শেরপা তেনজিং নোরগে। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত ৪ হাজার ৪০০ জন দুর্গম এভারেস্ট জয় করতে সক্ষম হয়েছেন বলে নেপাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com