শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ১২:১৪ অপরাহ্ন

ধনবাড়ীতে বাক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ ঘটনায় অবশেষে মামলা

ধনবাড়ীতে বাক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ ঘটনায় অবশেষে মামলা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে বাক প্রতিবন্ধী অসহায় বিধবা এক নারী (৩৫) ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মীমাংসা চেষ্টার এক পর্যায়ে অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে।উপজেলার ধোপাখালী বাজারে ফার্মেসির মালিক পল্লী চিকিৎসক মিনহাজ উদ্দিনর মিনু চিকিৎসার কথা বলে তার দোকানের ভিতরে নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে।

 

মঙ্গলবার (২৫জুন) রাত ৮ টার দিকে ধর্ষিতার ভাসুর আজমত আলী বাদী হয়ে মিনহাজ উদ্দিন মিনুকে আসামী করে ধনবাড়ী থানায় ওই ঘটনায় মামলা করেছেন। মিনহাজ উদ্দিন মিনু ধোপাখালী বাজার সংলগ্ন কদমতলী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হযরত আলীর ছেলে। ধর্ষিতার বাড়ী একই ইউনিয়নের হাজরাবাড়ী গ্রামের ঘোনাপাড়ায়।

 

বিচারের কথা বলে জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় মাতাব্বর শ্রেণির লোকজনের সময় ক্ষেপণ ও প্রহসনের বিচারের উদ্যোগে প্রতারণার শঙ্কায় ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে বিচার প্রার্থী হয়। পরে নানা প্রক্রিয়া শেষে মামলা দায়ের হলো।

 

মামলার বাদী আজমত আলী জানান, গত ২১ জুন শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টির সময় ধোপাখালী বাজারে গিয়েছিল তার মৃত ছোট ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী। ইশারায় তাকে চিকিৎসার লোভ দেখিয়ে দোকানে নিয়ে মিনু ওই বাক প্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনা বাড়ীতে গিয়ে অপরাপর অন্যান্য নারীকে বুঝাতে চেষ্টা করে ধর্ষিতা ওই বাক প্রতিবন্ধী নারী। সবাই বিষয়টি বুঝতে পারে। এলাকায় বিষয়টি জানাজানিও হয়ে যায়।

 

এক পর্যায়ে মিনুর বিরুদ্ধে স্থানীয় ধোপাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আকবর হোসেন ও ইউপি সদস্য নারায়ন, স্থানীয় আ’লীগ নেতা আ: মান্নান, রফিক সহ মাতাব্বরদের কাছে অভিযোগ করে বিচার প্রার্থী হয় দরিদ্র ও অসহায় ওই নারীর পরিবার। গত সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে ধোপাখালী ইউনিয়ন পরিষদে এ নিয়ে শালিসী বোর্ড গঠিত হয়। ধর্ষিতার পক্ষের তিন জন, ধর্ষকের পক্ষের তিন জন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষের তিন জন ইউপি সদস্য নিয়ে গঠিত ওই বোর্ড দর কষাকষিতে শেষ পর্যন্ত মীমাংসায় আসতে পারেনি।

এব্যাপারে ধোপাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকবর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মিনু ডাক্তারের সাথে যে ঘটনা ঘটছে এইটা কোন ঘটনাই না। তার ধোপাখালী ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠকে আপোষ মীমাংসার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন এটি মীমাংসার জন্য স্থানীয় নারায়ন মেম্বার আর আমি সহ অনেকেই বসেছিলাম কিন্তু প্রতিবন্ধীর পরিবার মীমাংসা হয়নি।

অবশেষে মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দিকাকে বিষয়টি অবহিত করে ধর্ষিতার পরিবার। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বড় বিলম্ব হয়ে গেছে জানিয়ে থানায় অভিযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। পরে রাতেই ধনবাড়ী থানায় ধর্ষিতার ভাসুর আজমত আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ধনবাড়ী থানার ওসি মজিবর রহমান মামলা রুজু হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, মামলার একমাত্র আসামীকে গ্রেপ্তারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com