শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন

মধুপুর বনের জায়গায় অবৈধ সীমানা নির্ধারণের অভিযোগ

মধুপুর বনের জায়গায় অবৈধ সীমানা নির্ধারণের অভিযোগ

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বনাঞ্চলের মধুপুরের বন বিভাগ কে না জানিয়ে বনের জায়গায় অবৈধ ভাবে সীমানা নির্ধারণ করার অভিযোগ তুলেছেন মধুপুর বন বিভাগের রাজাবাড়ী বিট কর্মমর্তা জহিরুল ইসলাম।রাজাবাড়ী বিট কর্মমর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, টাঙ্গাইলের মধুপুরের রসুলপুর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুর আওতাধীন বিএফ ফায়ারিং রেঞ্জ এ ফায়ার পাওয়ার ডোমো, আন্ত: উইং ফায়ারিং প্রতিযোগীতা, আকাশ থেকে ভূমি এবং ভূমি থেকে আকাশে গোলাবর্ষণ সহ নানা বিধ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সংঘটিত হয়ে থাকে।

 

 

কিন্তু স্থানীয় কিছু বে সামরিক ব্যাক্তিবর্গ প্রায়শ: বিমান বাহিনীর জায়গা নিজেদের কর্র্তৃত স্থাপনের অপচেষ্টা করে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বিমান বাহিনীর জমি রক্ষার্থে সীমানা দেওয়াল নির্মাণ জরুরী বলে ফয়সাল আমান ইভান স্কো: লী: পক্ষে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান(প্রশাসন) তিনি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা টাঙ্গাইল , জেলা প্রশাসক, সামরিক ভূ-সম্পত্তি প্রশাসন এবং বিমান বাহিনীর প্রতিনিধি সমন্বয়ে সরেজমিন সীমানা নির্ধারনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত চিঠি দেন।

 

কিন্তু মধুপুর রসুলপুর ফায়ারিং রেঞ্জের কিছু অসাধু কর্মকর্তাগন বন বিভাগের প্রায় ২০ থেকে ২৫ একর জায়গা নতুন করে নিজেদের ইচ্ছামত বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে না রেখে সীমানা নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে আমি সহ আমার অফিসের বন বিভাগের লোকজন বিমান বাহিনীর রসুলপুর ফায়ারিং রেঞ্জের লোকজন কে বাধা দিতে গেলে আমাদের কথা অমান্য করে উল্টো আমার রাজাবাড়ী বিট অফিসে গিয়ে আমাদের বন বিভাগের কর্মকর্তা সহ কর্মচারীদের কে ভয়ভীতি দেখিয়ে শাসিয়ে আসেন।

 

 

রাজাবাড়ী বিট অফিসের কমিউনিষ্ট ফরেষ্ট ওয়ার্কার শাজাহান আলী, খলিলুর রহমান সহ আরো অনেকে জানান, আমরা সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমাদের বিট কর্মমর্তা জহিরুল ইসলাম সহ সকলেই ঘটনাস্থলে গিয়ে বিমান বাহিনীর লোকজন কে বাঁধা দিলে তারা আমাদের কথা না মেনে তারা নিজেরাই তাদের ইচ্ছামত সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করেন। পরে আমাদের রাজাবাড়ী বিট অফিসে এসে আমাদের কে নানা ভাবে ভয়ভীতি প্রর্দশ করে যায় ।

 

স্থানীয় এলাকাবাসী আজিজ, হাবিবুর , সোলাইমান সহ আরো অনেকেই জানান, আমাদের মধুপুর বনের আগের যে প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল তা এখন আর নেই। এর পিছনে রয়েছে বিভিন্ন কারন যেমন, ভূমিদস্যুদের হাতে বন ভূমি উজাড়, বিমান বাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জের প্রশিক্ষণের সময় গোলাবর্ষণের বিকট শব্দের কারণে বনের পশু পাখি সহ সকল ধরনের জীব জন্তু বনে এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। আমাদের এলাকা বাসীর দাবী যাতে মধুপুর এই বনে ভূমিদস্যু সহ অবৈধ দখলদার দের হাত থেকে মধুপুর বনের জায়গা রক্ষা করা হোক । তাহলেই ফিরে পাবে মধুপুর বনের সৌন্দর্য্য প্রাকৃতিক পরিবেশ।

 

 

জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ টাঙ্গাইল বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার আ: জলিল তিনি সাংবাদিকদের জানান, ১৯৭৯ সালে ১ শ ৩ একর ৫০ শতাংশ জায়গা এবং ১৯৮৪ সালে ২ শ ১ একর ৯০ শতাংশ জায়গা বিমান বাহিনী কে তাদের একান্ত প্রয়োজনে ব্যাবহার করার জন্য বন বিভাগের কাছ থেকে নেয়। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুর আওতাধীন বিএফ ফায়ারিং রেঞ্জ, মধুপুর রসুলপুর এর কিছু অসাধু কর্মকর্তাগন নিজেরাই আমাদের বন বিভাগের রাজাবাড়ী বিট অফিস ও আমার আফিসের কাউকে সাথে না রেখেই তারা তাদের এরিয়ার সীমানার খুঁটি থেকে বন বিভাগের আরো প্রায় ২০ থেকে ২৫ একর জমি বাড়িয়ে নতুন করে সিমেন্টর খুঁটি দিয়ে সীমানা নির্ধারন করছে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com