মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন

বদলগাছী উপজেলা প্রকৌশলীর দূর্নীতির তদন্তে দুদকের কাছে অভিযোগ

বদলগাছী উপজেলা প্রকৌশলীর দূর্নীতির তদন্তে দুদকের কাছে অভিযোগ

আশরাফুল নয়ন, নওগাঁ প্রতিনিধি :  নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লাগামবিহীন দূর্নীতির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার। দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সচিব স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়, এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী ঢাকাসহ বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় প্রেসক্লাবে অভিযোগের অনুলিপি পাঠানো হয়।

 
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলার বদলগাছী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রকৌশলী হিসেবে ২০১২ সালে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে কোন এক উচ্চ পদস্থ আমলার সঙ্গে সখ্যতা থাকায় কাউকে তোয়াক্কা করেন না। ফলে লাগামবিহীন ভাবে দূর্নীতি ও অনিয়ম করে চলেছেন তিনি। তার দূর্নীতিতে অতিষ্ট স্থানীয় ঠিকাদার ও জনসাধারন। এতে করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় তিনি একই উপজেলায় কর্মরত থাকায় নিজের খেয়াল খুশি মত কাজ করে চলেছেন।

 
তিনি প্রকৌশলী হয়েও গোপনে কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে যুক্ত থেকে যৌথভাবে ঠিকাদারী ব্যবসা করেন। আর সে কারণে অবৈধভাবে ঐসব ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়াসহ লাগামহীন দূর্নীতি করে চলেছেন। তার অধীনে যেসব কাজ বাস্তবায়ন হয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ হলেও দেখেও না দেখার ভান করেন। আর যেসব ঠিকাদার তার চাহিদা মত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানী করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের মাধ্যমে তিনি এখন টাকার পাহাড় বানিয়েছেন। যা তার এবং তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও সম্পদের উপর তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।

 
অভিযোগে আরো উল্লেখ আছে, ইতিপূর্বে তিনি ২০১৬ সালে এডিপির সিডিউল বিক্রির অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাত করেন। সিডিউল ক্রয় না করলেও অবৈধভাবে লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকা অযোগ্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়াসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে তার বিরুদ্ধে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ হলে বিভাগীয় তদন্তে তা সত্য প্রমানিত হয়। কিন্তু কোন এক উচ্চ পদস্থ আমলার সঙ্গে সখ্যতা থাকায় তা মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়। এরপর তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন।

 
রাস্তা কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের কাজের জন্য স্থানীয় জনগণ তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ফলে নিজেকে তিনি বিভিন্ন জায়গায় দম্ভ করে বলে বেড়ান ‘সরাসরি আমার সচিবের সঙ্গে সম্পর্ক আছে’। পত্রিকায় এসব প্রতিবেদন ও মানবন্ধন বা কোন অভিযোগ আমার কিছুই করতে পারবে না।

 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাকরাইল উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন সংস্কার কাজের নামে গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১০ লক্ষ টাকা অর্থ বরাদ্দ করে সেই অর্থ দিয়ে পাশের অন্য একটি ভবনের উপর সামান্য কিছু টাকা খরচ করে একটি ঘর নির্মান করে বাকি টাকা আত্মসাত করেছেন। উপজেলার খাদাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের সর্বনিম্ন দরদাতা ঠিকাদারকে কাজ না দিয়ে টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে অন্য ঠিকাদারকে কাজ দেয়া হয়। বিলাশবাড়ি ইউনিয়নের নাজিরপুর ব্রীজ হতে এনায়েতপুর হাট পর্যন্ত রাস্তা নির্মানে ঠিকাদারের সঙ্গে জোগসাজসে ৩নং ইট নিয়ে নিম্নমানের কাজ করা হয়। এ বিষয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।

 

 
অভিযোগটির তদন্তের সুবিধার্থে অনিয়মের কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে- উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মানের সময় ভীত খননের পর অতিরিক্ত মাটি অপসারনের নামে মিথ্যা অর্থ বরাদ্দ ও আত্মসাত। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এলজিএসপি বা অন্য কোন ফান্ড হতে বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পে পূনরাই এডিপির প্রকল্প দেখিয়ে কাজ না করে অর্থ আত্মসাতসহ এরকম নানাবীধ অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে বলে উল্লেখ আছে।

 

 
খাদাইল বিদ্যালয় কাজে সর্বনিম্ন দরদাতা বগুড়ার সান্তাহারের নাসিফ কনস্টাকশনের স্বত্তাধিকারী জাহিদুল বারী বলেন, ‘যেদিন টেন্ডার উন্মুক্ত করা হয়, সেদিন আমার জেলা পরিষদের নির্বাচন থাকায় উপস্থিত থাকতে পারিনি। কিন্তু আমি ছিলাম সর্বনিম্ন দরদাতা। অথচ অযথা একটা ত্রুটি ধরে আমাকে বাদ দিয়ে অন্য এক ঠিকাদারকে কাজটি দেয়া হয়। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ব্যস্ততা থাকায় বিষয়টি নিয়ে আমি আর চ্যালেঞ্জে যায়নি। তবে প্রকৌশলী কাজটা মোটেও ঠিক করেননি।’
বদলগাছী উপজেলা স্থানীয় ঠিকাদার এম জামান পিন্টু বলেন, ‘ওই প্রকৌশলী একটা বাজে লোক। টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বুঝেন না। সরকারকে আমরা নিয়মিত ট্যাক্স দেয়। কিন্তু কোটেশনের যেসব কাজ হয় প্রকৌশলী বাহির থেকে ঠিকাদারী লাইসেন্স নিয়ে এসে তা নিজেই করেন বলে জানান তিনি।’

 

 
বদলগাছী উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, একটি মহল সুবিধা না পেয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে আমার বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আর আমার কাজে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। তবে নিউজটি না করার শর্তে পরে তিনি দেখা করতে বলেন।
দুদক রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক মোরশেদ আলম অভিযোগটি পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com