শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:০৭ অপরাহ্ন

ভর্তি বঞ্চিতদের আবারো আবেদনের সুযোগ

ভর্তি বঞ্চিতদের আবারো আবেদনের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএসসি পাস করে এখনো প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেনি। এই সব শিক্ষার্থী আগামী ৭ জুলাইয়ের পর পুনরায় আবেদনের সুযোগ পাবে।

 

আন্তঃ শিক্ষাবোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কোন কোন কলেজে শূন্য আসন আছে সে তালিকা প্রস্তুত করছি। আগামী ৭ জুলাই সেটি প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির বিষয়েও সভার মাধ্যমে নোটিশ প্রকাশ করা হবে।’

 

আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন, সংশ্লিষ্ট কলেজ কিংবা বোর্ডের ত্রুটির কারণে ভর্তি হতে পারেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। কিন্তু বোর্ড বলছে মূলত শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভুলের কারণেই ভর্তি হতে পারেনি।

 

 

এ বিষয়ে কলেজ ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থী তার যোগ্যতা না থাকা সত্বেও একই কলেজে বারবার আবেদন করছে। যার কারণে তারা ওই কলেজ পায়নি। এটা একবার না পাওয়ার দ্বিতীয়বার তারা সংশোধন হয়ে গেল। তেমন কোনো সমস্যাই হতো না। এরপরও নির্দিষ্ট কিছু ত্রুটি বিচ্ছুতির কারণে যারা ভর্তি বঞ্চিত হয়েছে তাদের ব্যাপারে আগামী সপ্তাহে নোটিশ দেওয়া হবে। আশা করছি, কেউ বাদ পড়বে না।’

 

 

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, একাদশে প্রথম পর্যায়ে আবেদন করেছিল ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ১০ জন ভর্তির জন্য কলেজ পায়নি। ভর্তির জন্য ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৩২৫ জনকে নিশ্চায়ন করা হয়েছে। তবে কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি সাড়ে ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী।

 

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও কলেজে গিয়ে ভর্তি হতে পারছে না। কলেজে গেলে বলা হচ্ছে বোর্ডে যেতে। আবার বোর্ডে গেলে বলা হচ্ছে কলেজ যেতে। এভাবে হয়রানি হতে হচ্ছে।

 

 

জানা গেছে, জিপিএ ও পাসের ভিত্তিতে এবার কলেজগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। গত বছর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এ, বি ও সি- এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ৬৫০ শিক্ষার্থী ও পাসের হার যদি ৭০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে সেই কলেজ ‘এ’ ক্যাটাগরির। ৬০০ শিক্ষার্থী ও পাসের হার যদি ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ থাকলে তা হবে ‘বি’ ক্যাটাগরির। আর ৬০০ এর কম শিক্ষার্থী এবং পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকা কলেজগুলো হবে ‘সি’ ক্যাটাগরির।

 

 

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, আবেদনের ক্ষেত্রে সব শিক্ষার্থী শুরুতেই ‘এ’ ক্যাটাগরির কলেজগুলো নির্ধারণ করে। কিন্তু সেসব কলেজের আসন পূর্ণ থাকায় তারা সুযোগ পান না। শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে আবেদন করলে এ সমস্যা হতো না।

 

 

গত ২৩ মে কলেজে ভর্তি আবেদনের শেষ দিন পর্যন্ত ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও একটি মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করে প্রায় ১৪ লাখ ভর্তিচ্ছু। এদের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করে ১০ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি এবং এসএমএসের মাধ্যমে তিন লাখ ৬৫ হাজারের বেশি। শুধু ঢাকা বোর্ডেই তিন লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ভর্তিচ্ছু আবেদন করে।

 

 

পরে ১৯ ও ২০ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়। ২১ জুন রাত ৮টার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। ২২ ও ২৩ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের সিলেকশন নিশ্চায়ন করা হয়। ২৪ জুন রাত ৮টার পর থেকে তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়। সকল প্রক্রিয়া শেষে ২৭ থেকে ৩০ জুন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হয়।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com