মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

সিরাজগঞ্জে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ভবন নির্মাণ

সিরাজগঞ্জে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ভবন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বহুলী-ছোনগাছা রোডে বক্স কালভার্টের দু’পাশের মুখ বন্ধ করে ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী।

 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বহুলী ইউনিয়নের নয়নজুলি, ছাব্বিশা, ধীতপুরকানু, আলোকদিয়া ও বহুলী গ্রামের কৃষি জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য বহুলী-ছোনগাছা রোডে একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কালভার্টের নিচ দিয়ে পানি নিস্কাশন করার জন্য ইছামতি নদী পর্যন্ত সরকারি জমি (হ্যালট) বা ক্যানেল রয়েছে। এই বক্স কালভার্ট নির্মাণ করার ফলে সরকারি জমি (হ্যালট) বা ক্যানেল দিয়ে বহুলী ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের পানি নিষ্কাশন হয়ে ইছামতি নদীতে গিয়ে অবতরণ করে।

 

 

আর সেই পানি ইছামতি নদী দিয়ে ফুলজোড় নদীতে পড়ে। এমনিভাবে বহুলী ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের কৃষি জমির পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী আলোকদিয়ার গ্রামের হাবিবুর রহমান বহুলী-ছোনগাছা রোডের পশ্চিমে সরকারি জমি (হ্যালট) বা ক্যালন মাটি ভর্তি করে নিজস্ব বিল্ডিংয়ের রাস্তা নির্মাণ করেছেন ও কালভার্টের পশ্চিমে স্থানীয় প্রভাবশালী ধীতপুর গ্রামের মজনু, নুর আলম ও আব্দুল বারী বিল্ডিং নির্মাণ করছেন।

 

 

এবিষয়ে বিল্ডিং মালিক ধীতপুর গ্রামের মজনু বলেন, আমার জমির উপর দিয়ে সরকারি রাস্তা ও কালভার্ট তৈরি করেছে এখন যদি কালভার্টের মুখ বন্ধ হয় এখানে আমার কিছুই করার থাকে না।

 

এবিষয়ে বহুলী ইউয়িনের ভূমি অফিসের নায়েব তারেক মোরশেদ বলেন, ‘আমি তিন বছর ধরে এখানে চাকরি করছি, এমনভাবে সরকারি জায়গা দখল করে কালভার্টের মুখ বন্ধ করেছে আমি খেয়াল করিনি। সদর উপজেলা ভূমি অফিসকে অবগত করা হয়েছে। সারর্ভেয়ার এসে মেপে পরিমাপ করে যদি কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনাটি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে সারর্ভেয়ারকে পাঠিয়ে ছিলাম। তারা সরেজমিনে দেখে এসেছে। এর পরে আমি নিজে গিয়ে দেখবো। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা করার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বহুলী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলম বলেন, এই কালভার্টে নিচ দিয়ে ৫টি গ্রামের পানি ইছামতি নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু এখন ৫টি গ্রামের পানি নিষ্কাশন হবে না। ফলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবার ফলে স্থানীয় কৃষকরা বছরে ৩টি মৌসুমের ফসল উৎপাদনের পরিবর্তে বছরে ১টি ফসল উৎপাদন করতে পারবে।

 

 

বহুলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সরকার বলেন, সরকারি জায়গা দখল ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বিল্ডিং নির্মাণ করার বিষয়ে কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি সারর্ভেয়ার এসে মেপে দেখে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে তারা।

৫টি গ্রামের পানি নিষ্কাশনের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন বহুলীর নয়নজুলি, আলোকদিয়া, ছাব্বিশা, ধীতপুরকানু ও বহুলী গ্রামের কৃষকরা।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com