শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন

জাবির ছাত্র শৃঙ্খলা বিধির বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

জাবির ছাত্র শৃঙ্খলা বিধির বিতর্কিত ধারা বাতিলের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী শৃঙ্খলা অধ্যাদেশে সংযোজিত ৫ এর (ঞ) এবং ৫ এর (থ) নং ধারা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক’ দের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিতর্কিত এ দুটি ধারা বাতিলের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা।

 
বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আচরণবিধি অংশে উল্লিখিত ৫ (ঞ) এবং ৫ (থ) উপধারা দুটি বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ (চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা) এবং অনুচ্ছেদ ৪০ (পেশা বৃত্তির স্বাধীনতা) এর পরিপন্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি যেখানে ঢালাওভাবে উপধারায় উল্লিখিত কর্মকা- সংগঠিত হতে পারে। উপরন্তু, অসত্য, তথ্য বিকৃতি, অশালীন বার্তা বা অসৌজন্যতামূলক বার্তার কোনো সংজ্ঞা কিংবা ব্যাখ্যা না থাকার ফলে উপধারা দুটি নিপীড়নমূলক হয়ে উঠতে পারে এবং উঠবে এটাই স্বাভাবিক।’

 

 

এসময় বিশ^বিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ‘ঢাকাটাইমস২৪.কম’ এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি রাইয়ান বিন আমিন বলেন, ‘ধারা দুটি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করছে। স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিতায় বাঁধা সৃষ্টি করছে। তাই অবিলম্বে এই ধারা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’ অপর বক্তব্যে বিশ^বিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও ‘ডেইলি ইনডিপেনডেন্ট’ এর বিশ^বিদ্যালয় প্রতিনিধি প্লাবন তারিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি মহল নিজেদের দুর্বলতা, দুর্নীতি ঢাকার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মুখ চেপে ধরতে হীন চক্রান্ত করছে। তাই বিতর্কিত এই ধারা দু’টি বাতিল না করলে আমরা বৃহৎ আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’

 

 
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান, শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মাদ দিদার, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান শাহিন। এসময় বক্তরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার বিকাশ এবং লালন-পালনের যথাযথ স্থান। এই উপধারা দুটি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ভীতি ও শঙ্কা তৈরি করবে, যা শুভ নয়। তারা আরো বলেন, এটি ‘‘দুরভিসন্ধিমূলক’’ ধারা। যা শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরকে চেপে ধরতে সাহায্য করবে। তাই অবিলম্বে ধারা দুটি বাতিলের জোর দাবি জানাই উপস্থিত সকলে। সাংবাদিকদের দাবিতে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয় জাবি ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী), বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট অর্গানাইজেশন।

 
উল্লেখ্যে, গত ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় ধারা দুটি অনুমোদন পেয়েছে। এর পর থেকেই বিতকিত এ দুটি ধারা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভেতরে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত গণমাধ্যম কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, ধারা দুটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চাকে রুদ্ধ করার জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে। অধ্যাদেশের ৫ এর (ঞ) নং ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ছাত্র/ছাত্রী অসত্য এবং তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন স্থানীয়/জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক সংবাদ মাধ্যমে/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ/প্রচার করা বা উক্ত কাজে সহযোগিতা করতে পারবে না। এবং ৫ এর (থ) নং ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ছাত্র/ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ছাত্র/ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর উদ্দেশ্যে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টানেটের মাধ্যমে কোনো অশ্লীল বার্তা বা অসৌজন্যমূলক বার্তা প্রেরণ অথবা উত্যক্ত করবে না।

 
অধ্যাদেশ মতে, ধারা দুটির ব্যতয় ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চোখে ‘অসদাচরণ’ বলে গণ্য হবে। এ জন্য লঘু শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, সতর্কীকরণ এবং গুরু শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, সাময়িক বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকার উর্ধ্বে যে কোনো পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com