শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:২১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
ডেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন বরাদ্দকৃত অর্থ আর্তসাত করায় রুপপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল হাসেমের পেশা ধানমন্ডি ক্লাবে অভিযানের পর ২৪ ঘন্টার জন্য সিলগালা যুবলীগের কেউ জড়িত থাকলে বহিস্কার করা হবে:যুবলীগের চেয়ারম্যান রাজশাহীতে তিন দিনব্যাপী প্রামাণ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ কর্মশালা শুরু সিংড়ায় পুকুরে মাছ লুট করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার, আহত – ২  এবার চলছে ধানমন্ডি ক্লাবে র‌্যাবের অভিযান কলাবাগান ক্রীড়াচক্রেও ছিল ক্যাসিনো, হলুদ ইয়বাসহ সভাপতি আটক রাজশাহীতে ৯৯৯-এ ফোন: আগুনে পোড়া থেকে রক্ষা পেল এ্যাম্বুলেন্স রাজশাহীর চারঘাটে পদ্মার শাখা বড়াল নদীর স্লুইস গেটে ৩টি পচা লাশ উদ্ধার কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান শুরু

উপায় না পেয়ে আমার মা এবং মামা কর্মকর্তাদের পা জড়িয়ে ধরেন: তিতাস ঘোষের বোন তন্নীসা ঘোষ

উপায় না পেয়ে আমার মা এবং মামা কর্মকর্তাদের পা জড়িয়ে ধরেন: তিতাস ঘোষের বোন তন্নীসা ঘোষ

নিউজ ডেস্ক: সচিবের অপেক্ষায় তিন ঘণ্টা দেরিতে ফেরি ছাড়ায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ির ১নং ফেরিঘাটে অ্যাম্বুলেন্সে মারা যাওয়া স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের  আশঙ্কাজনক অবস্থার কথা জানিয়ে সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের পা জড়িয়ে ধরাসহ সরকারি জরুরি সেবা-৯৯৯ সহ কোন কৌশলই মন গলাতে পারিনি কর্তাব্যাক্তিদের। তিতাস ঘোষের বোন তন্নীসা ঘোষ অভিযোগ করেন গত বুধবার (২৪ জুলাই) তিতাস একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেয়ার কথা বলেন চিকিৎসকরা। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তিতাসকে ঢাকায় নেয়ার জন্য রওনা দেই আমরা। রাত ৮টায় কাঁঠালবাড়ি ১নং ফেরিঘাটে তিতাসকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছায়। ওই অ্যাম্বুলেন্সে আমি, আমার মা এবং আমার মামা ছিলেন। ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়।

 

তন্নীসা ঘোষ বলেন, ফেরিঘাটে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছার দীর্ঘক্ষণ পরও ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্স তোলা হয়নি। এর কারণ জানতে গেলে আমাদের জানানো হয় নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন ভিআইপি তার আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবেন। তাই ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তখন আমার ভাইয়ের আশঙ্কাজনক অবস্থার কথা জানিয়ে সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাই। ‘ভিআইপি আগে যাবে, তারপর অন্যরা যাবে’ এ কথা বলে তারা আমাদের ফিরিয়ে দেন।
তন্নীসা ঘোষ আরও বলেন, এরপর বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের কাছে ছুটে যাই আমরা। তারাও আমাদের একই কথা বলে ফিরিয়ে দেন। উপায় না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে আমার মা এবং মামা বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের পা ধরেন। অনেক অনুরোধ করেছি তাদের। এরপরও তারা ফেরি ছাড়তে রাজি হননি। ওই সময় আশপাশের অনেক লোকজন অনুরোধ করলেও কারও অনুরোধ রাখেননি ওই কর্মকর্তারা। কোনো উপায় না পেয়ে সরকারি জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করলেও তারা আমাদের সহযোগিতা করেনি। এ অবস্থায় ওই ভিআইপি আসার অপেক্ষায় তিন ঘণ্টা ঘাটে বসে থাকতে হয়েছে আমাদের। শেষ পর্যন্ত রাত ১১টার দিকে ওই ভিআইপির আত্মীয়রা এলে ফেরি ছাড়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যায় আমার ভাই।

 

তন্নীসা ঘোষের অভিযোগে, বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে ফেরি আটকে আমার ভাইয়ের চিকিৎসায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছেন ওই ভিআইপি। আমার ভাইয়ের জীবন কেড়ে নিয়েছেন তিনি। এদেশে জীবনের দাম বেশি না, ভিআইপিদের দাম বেশি? আমার ভাইকে হত্যার জন্য ওই ভিআইপির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই আমরা।

 

 


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com