বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯, ০২:২১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
প্রকৃতপক্ষে আ’ লীগ সরকারই আলেমদের কল্যাণে কাজ করে : মেয়র লিটন ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৫তম বার্ষির্কী আজ প্রাথমিক শিক্ষকদের চর এলাকায়, আসছে চর ভাতা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নানা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার, রাসিক মেয়র অপহরণ নয় প্রেমের টানে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছিল স্কুলছাত্রী : পুলিশ সুপার রাজশাহীতে ছেলে হারানো ডিডির সূত্র ধরে ল্যাপটপ উদ্ধার: শিক্ষার্থী আটক রাজশাহীর ভদ্রা পার্কে আপত্তিকর অবস্থায় ৯ শিক্ষার্থী ধরা গোদাগাড়ীতে স্ত্রীর উপর অভিমান করে প্রবাসী যুুবকের আত্মহত্যা বাগমারায় জেলা প্রশাসকরে মতবিনিময় সভা রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে কাজের সুযোগ হবে ১৪ হাজার তরুণের

প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক প্রাচীন নিদর্শন শেরপুরের খেরুয়া মসজিদ

প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক প্রাচীন নিদর্শন শেরপুরের খেরুয়া মসজিদ

শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি মোঃ ছানোয়ার হোসেনঃ বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলাধীন শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামে অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক নির্মাণ শৈলীর এক প্রাচীন নিদর্শন এই খেরুয়া মসজিদ। মসজিদের সামনের দেয়ালে উৎকীর্ণ শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশাল এটি নির্মাণ করেছিলেন। জেলার শেরপুর উপজেলা সদর হইতে মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই খেরুয়া মসজিদ যা বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন। প্রায় ৪৩০ বছর ধরে টিকে থাকা এই মসজিদ টি মোগল-পূর্ব সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত। মসজিদটি টিকে আছে চার কোণের প্রকাণ্ড আকারের মিনার আর চওড়া দেয়ালের কারণে। ইটে খোদাই করা নকশা ক্ষয়ে গেছে এবং চুন-সুরকির প্রলেপ ঝরে গেছে।
চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা পাতলা লাল ইটের দেয়ালগুলো ১.৮১ মিটার চওড়া। তার ওপর ভর করেই ছাদের ওপর টিকে আছে খেরুয়া মসজিদের তিনটি গম্বুজ। খেরুয়া মসজিদ বাইরের দিক থেকে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা ১৭.২৭ মিটার, প্রস্থ ৭.৪২ মিটার। পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলান দরজা। মাঝেরটি আকারে বড়। উত্তর-দক্ষিণে একটি করে খিলান দরজা। কোনোটিতেই চৌকাঠ নেই। ফলে দরজার পাল্লা ছিল না। পূর্বের বড় দরজাটির নিচে কালো পাথরের পাটাতন। পূর্বের দরজা বরাবর পশ্চিমের দেয়ালের ভেতরের অংশে তিনটি মেহরাব। মেহরাবগুলোর ওপরের অংশ চমৎকার কারুকাজখচিত। মসজিদটির নিচের অংশে ভূমি পরিকল্পনা মোগল স্থাপত্যরীতির। ওপরের অংশ মোগল-পূর্ব সুলতানিরীতিতে। চার কোণে দেয়াল থেকে খানিকটা সামনে চারটি বিশাল মিনার। ছাদের ওপর তিনটি ৩.৭১ মিটার ব্যাসের অর্ধ গোলাকৃতির গম্বুজ।
কার্নিশ ধনুকের মতো বাঁকা। তার তলায় সারিবদ্ধ খিলান আকৃতির প্যানেলের অলংকরণ। অত্যন্ত সুন্দর এর দেয়ালের গাঁথুনি। নান্দনিক বৈচিত্র্য আনা হয়েছে ইটের বিন্যাস ও খাড়া প্যানেল তৈরি করে। সামনের অংশের ইটে আছে ফুল-লতা-পাতা খোদাই করা নকশা। মিনার, গম্বুজ, নকশা ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনিতে পুরো স্থাপত্যটি অত্যন্ত নান্দনিক হয়ে উঠেছে। মসজিদের সামনে সবুজ ঘাসে ঢাকা আয়তাকার মাঠ। মসজিদের কিনার দিয়ে তাল, নারকেল, আম, কদমগাছের সারি। এক পাশে মৌসুমি ফুলের গাছও আছে। ইটের প্রাচীরের ওপর লোহার রেলিং দিয়ে পুরো চত্বর ঘেরা। মোট জায়গার পরিমাণ প্রায় ৫৯ শতাংশ। নামাজের সময় মুসল্লিরা ছাড়া সাধারণত কেউ ভেতরে প্রবেশ করে না। তাই প্রাঙ্গণটি নিরিবিলি এবং খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। গাছ গাছালি ঘেরা সবুজ পরিবেশে তিন গম্বুজওয়ালা প্রাচীন স্থাপত্যটিকে মনোরম দেখায়।
খেরুয়া মসজিদের নামকরণের ব্যাপারে স্পষ্ট কোন ধারনা পাওয়া যায় নাই। ফার্সিতে ‘খায়ের গাহ্’ বলে শব্দ আছে। যার অর্থ ‘কোনো স্থানের ভেতরে’। রাজা মানসিংহ যখন বাংলার সুবাদার, তখন তিনি শেরপুরে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন।এই দুর্গের কোনো অস্তিত্ব এখন নেই। তবে মসজিদটি যদি শেরপুর দুর্গের ভেতরে নির্মিত হয়ে থাকে, তবে ‘খায়ের গাহ্’ থেকে খেরুয়া নাম হতে পারে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। প্রাচীন এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় হয়।বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটির সংস্কার সহ সীমানা প্রাচীর তৈরি করে দেওয়ায় মসজিদের পরিবেশটি অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম হয়েছে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com