শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৩২ অপরাহ্ন

শার্শায় সেই গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলা পিবিআইতে হস্তান্তর

শার্শায় সেই গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলা পিবিআইতে হস্তান্তর

ইয়ানূর রহমান : যশোরের শার্শার লক্ষণপুরে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার পুলিশ হেড কোয়াটারের আদেশে মামলাটি যশোর পিবিআই গ্রহণ করেছে। এই মামলায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও একজন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ওই অজ্ঞাত আসামি এসআই খায়রুল আলম নাকি অন্য কেউ সেটি নিয়ে চলছে তোলপাড়।

শুক্রবার যশোরের নারী নেত্রী ও সাংবাদিকরা শার্শা উপজেলার লক্ষনপুর গ্রামে ওই নারীর বাড়িতে গেলে তিনি বলেন, “খায়রুলকে আমি শুধু চিনিনে, খুব ভাল করে চিনি। আমার স্বামীরে বিনা কারণে ধরে নিয়ে গেছে।

“আমার কাছ থেকে আট হাজার টাকা, চার হাজার, পাঁচ হাজার টাকা করে নিতিই থাকে। উনি পুলিশ, উনার সাথে আমি পারব না। আমাকে ভয়ভিতি দেখিয়ে চাপ দেওয়া কারণে তার কথা আমি অস্বীকার করেছি।”

মাদকের মামলায় আটক স্বামীকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ওই নারীর কাছে টাকা দাবি এবং তাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শার্শার গোড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খায়রুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে। কিন্তু খায়রুলকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে নিলেও তাকে মামলায় আসামি করা হয়নি।

এ বিষয়ে ওসি মশিউর রহমানের ভাষ্য, এসআই খায়রুলকে থানায় ওই নারীর মুখোমুখি করা হলেও তিনি তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। এ কারণে তার নাম মামলায় রাখা হয়নি। অন্য তিনজন কামরুল, লতিফ ও কাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওই নারী বলেন, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে এসআই খায়রুলসহ চারজন তার বাড়িতে গিয়ে ডেকে দরজা খুলতে বলেন। তিনি খায়রুলের সঙ্গে তার গ্রামের দুই ব্যক্তিকে দেখে দরজা খোলেন।

তার অভিযোগ, তার স্বামীর জামিনের প্রস্তাব দিয়ে বিনিময়ে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন খায়রুল। তিনি রাজি না হলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে খায়রুল ও কামারুল তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার গ্রামের লতিফ ও কাদের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

কিন্তু মামলা করার সময় ভয়ে তিনি খায়রুলের নাম বলেননি বলে তার দাবি।

বিএনপির নির্বাহী পরিষদের সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগমসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী শুক্রবার ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন।

এ সময় নিপুণ রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “ওই নারী সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। নিজেই হাসপাতালে গিয়েছেন, নিজেই মামলা করেছেন। কিন্তু তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে এসআই খায়রুলের নাম মামলার এজাহারে লেখা হয়নি।
“এসআই খায়রুলকে এজাহারে ১ নম্বর আসামি করে তাকে গ্রেপ্তার করা হোক। এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমরা এ মামলার দ্রুত বিচার চাই।”


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com