শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

রাণীনগরে শিক্ষকদের স্বজনপ্রীতিতে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা ॥ ভেঙ্গে পড়েছে পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ

রাণীনগরে শিক্ষকদের স্বজনপ্রীতিতে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা ॥ ভেঙ্গে পড়েছে পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরের ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহি বিদ্যাপিঠ। এই বিদ্যাপিঠে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫শত ৯৪জন শিক্ষার্থীরা পাঠগ্রহণ করে। কিন্তু এই বিদ্যাপিঠে থাকা পুরাতন শিক্ষকদের স্বজনপ্রীতির কারণে চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, এই বিদ্যাপিঠের কতিপয় শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছেন প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবসা। যে সকল শিক্ষার্থীরা এই সব শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ে তাদেরকে প্রতিটি পরীক্ষার পূর্বে সকল প্রশ্ন বলে দেওয়া এবং বইয়ের পাতায় কোনটি কত নম্বর প্রশ্নের উত্তর তা লিখে দেওয়া হয়। এছাড়াও পরীক্ষার কক্ষে সেই সব শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখে দেওয়া, খাতা যাচাই-বাছাই করাসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন এই বিদ্যাপিঠের শিক্ষকরা।

এমন কি পরীক্ষার সময় প্রশ্নের উত্তর হাতে লিখে এনে শিক্ষার্থীদের খাতায় উত্তর লিখে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এতে করে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষা নামক মেরুদন্ডটি। শিক্ষকদের স্বজনপ্রীতির কারণে এই ঐতিহ্যবাহি বিদ্যাপিঠের ঐতিহ্য ও সুষ্ঠু পাঠদানের পরিবেশ ভেঙ্গে পড়েছে। এই অবস্থার কারণে সকল অভিভাবকদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা, আশঙ্কা ও চাপাক্ষোভ।

বিদ্যাপিঠে বিভিন্ন শ্রেণিতে অধ্যায়নরত একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায় যে তারা যে শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ে সেই শিক্ষকরা তাদেরকে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্রে আসা প্রশ্ন বলে দেন। বইয়ের পাতায় লিখে দেন কোনটি কোন প্রশ্নের উত্তর। এছাড়াও পরীক্ষার সময় কোন কিছু না পারলে খাতায় লিখে দেন।

সম্প্রতি পরীক্ষার শিক্ষক জুম্মাতুন নেছা (শিখা) পরীক্ষার কক্ষে দায়িত্বপালন করার সময় প্রিয় শিক্ষার্থীর পরীক্ষার খাতায় নিজের হাতের তালুতে লিখে আনা প্রশ্নের উত্তর লিখে দেন। দায়িত্ব পালন করা বাদে তিনি তার কাছে প্রাইভেট পড়া শিক্ষার্থীর খাতা যচাই-বাছাই করেন। শুধু তিনিই নন এই বিদ্যাপিঠের অন্যান্য পুরাতন শিক্ষকরাও প্রাইভেট পড়ানোসহ এই সকল অবৈধ কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবকরা জানান এই বিদ্যাপিঠে যুগ যুগ সময় পার করা অর্থোলোভী শিক্ষকদের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা নামক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। আমরা অভিভাবকরা পড়ে গেছি মহাবিপদে। শিক্ষকদের কাছে সন্তানদের প্রাইভেট না পড়ালে পরীক্ষায় যতই ভালো করুক না কেন নম্বর কম দেওয়া হয়। একাধিকবার প্রতিবাদ করেও অবস্থার এতটুকু পরিবর্তন হয় নাই।

কিন্তু পরীক্ষার কক্ষে এসে শিক্ষকদের প্রিয় শিক্ষার্থীদেরকে খাতায় নিজ হাতে প্রশ্নের উত্তর লিখে দেওয়া, উত্তর বলে দেওয়া এবং পরীক্ষার পূর্বে প্রাইভেট সেন্টারে পরীক্ষার সকল প্রশ্ন জানিয়ে দেওয়া, মূল বইয়ে কোনটি কত নম্বর প্রশ্নের উত্তর লিখে দেওয়াসহ তাদের নানা অবৈধ কর্মকান্ডে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।
তারা আরো বলেন এই শিক্ষকরা বহু বছর একই বিদ্যাপিঠে থাকার কারণে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এই সব শিক্ষকদের কারণেই প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভালো করলেও খাতা কলমে পিছিয়ে পড়ে যাচ্ছে আর স্বজনপ্রীতির কারণে দুর্বলরা চলে আসছে সামনের দিকে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিদের কাছে বলে তেমন কোন ফল পাওয়া যায়নি। তাই দিন দিন উপজেলার এই ঐতিহ্যবাহি বিদ্যাপিঠটি হারাতে বসেছে তার দীর্ঘেিদনর ঐতিহ্য।

বিদ্যাপিঠের শিক্ষক জুম্মাতুন নেছা (শিখা) বলেন আমার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগগুলো মিথ্যে। আমি কখনোই এই কাজগুলো করি না।

বিদ্যাপিঠের প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া সুলতান বলেন আমি এই বিষয়ে শিক্ষকদের কঠোর ভাবে হুশিয়ার করে দিবো। এই সব চিহ্নিত শিক্ষকদের আর পরীক্ষার কক্ষের দায়িত্ব প্রদান করবো না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার মো: শামছুজ্জামান বলেন এই বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। উপযুক্ত প্রমানাদি পেলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com