বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন

নাচোলে ১০ পরিবারের অভিযোগ: কথিত লাইনম্যানকে ঘুষ না দিলে মিলছেনা সংযোগ

নাচোলে ১০ পরিবারের অভিযোগ: কথিত লাইনম্যানকে ঘুষ না দিলে মিলছেনা সংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক,নাচোল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ২নং ফতেপুর ইউপির ফুরশেদপুর(কাঁটাপুকুর)গ্রামের ১০টি পরিবার পল্লী বিদুতের লাইনম্যানকে বাড়িপ্রতি ৩হাজার টাকা না দিতে পারায় ৩বছর যাবত পল্লী বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগ পাচ্ছে না বলে ভুক্তভুগীরা অভিযোগে জানিয়েছেন।সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ফুরশেদ পুর মৌজার কাঁটাপুকুর গ্রামের একটি খাস পুকুর পাড়ে দীর্ঘ প্রায় ১৮/২০বছর যাবত বাড়িঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছেন।

 

ওই গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের ছেলে জয়নাল(৫৫), মৃত ফাঁকুর ছেলে আবুল কাশেম(৪৫), মৃত মাজেদ আলীর ছেলে জালাল(৬০), মৃত ইউনুসের ছেলে শফিকুল(৪১), আতাউর(৫০), নজরুল ইসলাম(৫২), মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে আকবর হোসেন(৩১) জালাল উদ্দীনের জেহের আলী(৩৫), ইয়াশিনের ছেলে আজিজুল(৪৫), সাইফুল(৩৩), ও আবুল কাশেমের ছেলে বাবু(২৬) ২০১১৬ইং সালের শেষের দিকে ওই এলাকার টেকনিশিয়ান শাজাহান ও জোবায়ের আলীর মাধ্যমে বিদ্যুতের পোল স্থাপণ, পোল থেকে ড্রপ তার টাঙানো, ঘর ওয়ারিং, আর্তিং রড স্থাপণ, মিটার ও সুইচ বোর্ড লাগানোর কাজ শেষ করেন।

কিন্তু লাইনম্যানদেরকে বাড়ি প্রতি ৩হাজার টাকা দিতে না পারায় ৩বছর যাবত প্রতিটি বাড়ির আবাসিক সংযোগ বন্ধ আছে। লাইনম্যানেরা ওই এলাকায় বৈদ্যুতিক ট্র্যান্সফরমার স্থাপনের জন্য সংযোগ প্রার্থীদেও নিকট থেকে আরো ৮হাজার টাকা লাগবে বলে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের নাচেল সাব জোনাল অফিসের এজিএম আনোয়ার হোসেনের দৃষ্টি আকর্শন করলে তিনি জানান, ওই ১০টি পরিবারকে সংযোগ দিতে গেলে ট্র্যান্সফরমার আপগ্রেডের প্রয়োজন হতে পারে। তবে টাকা লাগার কথা নয়। আর প্রতিটি বাড়ির জন্য লাইনম্যানদের ৩হাজার টাকা দাবীর ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না।

 

অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবেন। তিনি আরো জানান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের গত ২/৫/২০১৯ তারিখের সার্কুলার অনুযায়ী খাস জমি বা খাস পুকুর পাড়ে বসবাসকারীদের বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে অকুপেন্সী সনদ লাগবে। এদিকে ফতেপুর ইউপির ৮নং ওয়ার্ড সদস্য(মেম্বার) সর্তুজা রেজা জানান, লাইনম্যানদেও চাঁদা দাবীর কারণে এতদিন সংযোগ হয়নি এটি সত্য নয়। সংযোগ প্রার্থীদেরকে বিনে টাকায় কে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিবে। এটি মামার বাড়ির আবদার ছাড়া আর কিছু নয়। লাইনম্যান শাজাহান ও জোবায়ের টাকা চাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন ১০টি পরিবার সরকার থেকে মাঙনা মিটার সুইচ ও সংযোগ পাবে এই আশায় বসে আছে। আমাদের কিছুই করার নেই।
অপরদিকে নাচোল সদর ইউপির হাঁকরইল গ্রামের মৃত আবুল কামেমের ছেলে সরকারের ভেস্টেট জমিতে বাড়ঘর নির্মান করে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় ১৮/১৯বছর যাবত বসবাস করে আসছেন। ওই পাড়ায় একই রকম সম্পতিতে আরো অন্তত ১২/১৩টি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হযেছে। তিনি গত ০২/০৫/২০১৯ তারিখে ১১৫ টাকা জমা দিয়ে সদস্য হন। ভেস্টেট জমিতে বসবাসের জন্য আরো ৯০০টাকা জমা দিয়ে সাব জোনাল অফিসের নির্দেশে মিটার, মেইন সুইচ, আর্তিং রড ক্রয় করে ঘর ওয়ারিং করান।

 

 

কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের নাচোল সাব জোনাল অফিসের এজিএম এর অনিয়মের কারণে প্রায় ৫মাস যাবত বিভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে হয়রানী করছেন। এ ব্যাপারে নাচোল সাব জোনাল অফিসের এজিএম প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের অনিয়মের প্রতিবেদন স্থানীয় কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে সংযোগ প্রার্থী মাহাবুরকে সাংবাদিকদের ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী মাহাবুর জানান, তিনি ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, দুদক ও বিভিন্ন দপ্তরে হয়রানীর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com