মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

আলাপচারিতায় এ কে সরকার শাওন

আলাপচারিতায় এ কে সরকার শাওন

“আকাশের বুকে আলোর মেলায়;
মন ছুঁয়ে যায় সোনালী স্মৃতিতে,
মনের ক্যানভাসে একে যাই তোকে;
নাইবা এলি আমার বেলকনিতে!”

“আমার মনের কথা-কাব্য
রইবে ভুবন জুড়ে,
ক্ষণে ক্ষণে পড়বে তুমি
ভাসবে নয়ন নীরে।”

“তার চোখের নীরব ভাষা
পড়তে পারি বেশ;
এক পলকের চাহনির রেশ
হয়না কভু শেষ!”

উপরের জনপ্রিয় পংক্তিমালাগুলি রোমান্টিক কবি এ কে সরকার শাওনের। “প্রথমটি আমার বেলকনিতে” কবিতার, দ্বিতীয়টি “কথা-কাব্য” কবিতার, তৃতীয়টি ‘নীরব কথোপকথন” কবিতার। এ রকম অনেক রোমান্টিক জনপ্রিয় কবিতা তিনি লিখেছেন। যা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আসছে।

তার অন্যান্য জনপ্রিয় কবিতাগুলি হচ্ছে, বিরাগ-বচন,প্যারাগন অফ বিউটি, বিক্ষুব্ধ উর্মিমালা, প্রণয়-প্রলাপ,অনন্ত প্রতীক্ষা, অপ্সরী, একাদশীর চান, চৈতালী, আমার সর্বনাশী, তুমি আমার সজনী সেন, আপন-ছায়া, পরে কথা হবে, আমি নইতো একেলা, বিদায়-বাণী, নীল টিপ, নারী তুমিই অনন্যা, কাশ্মীরী শাল ইত্যাদি। তাঁর কবিতা অতি কাল্পনিক। কবিতা নিয়ে তিনি নিজেই বলেছেনে, “আমার কবিতার চরিত্রাবলী কাল্পনিক এবং একান্তই নিজস্ব। জীবিত, মৃত ও অর্ধ-মৃত কারো সাথে কোন মিল নেই।”
তাঁর কবিতার অন্যতম চরিত্র “সজনী সেন”। সে কি অশরীরী নাকি রক্ত-মাংসের কোন মানবী? এ নিয়ে রহস্যের কোন সুরাহা তিনি আজ ও করেননি। তার ভাষায় “হৃদয়েশ্বরী” কবিতায় তিনি লিখেছেন,

“কেউ বলে নাটোরে
কেউ বলে চিরির বন্দরে
আসলে সেই মহা-মানবী
আছে শুধু আমার অন্তরে”

কবিতা চর্চায় নিবেদিত এই প্রতিভাবানের জন্ম ১৯৬৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের গোপালপুরে। পিতা মো: আবদুল গনি সরকার একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা মিসেস সালেহা গনি সরকার ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিনী। শিক্ষা জীবনের শুরু ঝালকাঠির উদ্ধোধন হাই স্কুলে। ১৯৮৩ সালে নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, ১৯৮৫ সালে নবীনগর সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। ১৯৯১ সালে বিমান বাহিনীর এ্যারোনটিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং ইনসটিটিউট থেকে প্রথম শ্রেণিতে এসোসিয়েট ইন্জিনিয়ারিং পাশ করেন।

১৯৯৬ সাল থেকে ১০ বছর ঐ ইনসটিটিউটের প্রশিক্ষক ছিলেন। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্য স্নাতক, ২০০৭ সালে এজাম্পশন বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড থেকে ডিপ্লোমা ইন ইনফরমেশন টেকনোলজিতে স্নাতক লাভ করেন।এ ছাড়া তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

 

তিনি ষাটের দশকের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ব্রাহ্মণবাডিয়ার বাঞ্ছারামপুরের দড়িকান্দির আশেক জহির সাহেবের দ্বিতীয়া কন্যা নাজমা আশেকীন জহিরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৯১ সালের ৫ জুলাই। তিনি ও তার সহধর্মীনি শিক্ষাবিদ নাজমা আশেকীন শাওন এম. এ. এম-এড তিন কন্যা সন্তানের জনক-জননী; যারা দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠে অধ্যয়নরত।
ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য ও সৃজনশীল সব ধরনের কাজের সাথে জড়িত ছিলেন। তার লিখা গান, কবিতা, নাটক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। অনেক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথম কাব্যগ্রন্থ “কথা-কাব্য ” ২০১৯ সালের বইমেলায় বের হয়েছে। এটা রকমারীতেও পাওয়া যাচ্ছে।”চেয়ার ও চোর” “প্রলয়-প্রলাপ”, “নিরব কথপোকথন”, “আপন-ছায়া” ও ইংরেজী কাব্যগ্রস্থ “The Songs of Insane” কাব্যগ্রন্থগুলি প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।

রাজশাহী নিউজ ২৪ এর সম্পাদক এবং ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলামের সাথে আলাপকালে কবি আরও জানান, “সিনেমা/নাটকের প্রতি আমার খুব ছোট বেলা থেকেই একটু আগ্রহ ছিল। যার ফলে আমি ২০০৫ সালে র্আটি ভিজুয়্যাল নামে একটি প্রোডাকশন হাউজ গড়ে তুলেছিলাম। অনেক টিভি অনুষ্ঠান সম্পাদিত হত।”
তিনি অনেক জনপ্রিয় গানও লিখেছেন। তার জনপ্রিয় গানগুলিরে অন্যতম হচ্ছে, “সজনী সজনী সজনী”, “আমার সব কথা মরে গেছে হায়”, “যদি আনমনে কোন ক্ষনে”,“ নীড় থেকে দূরে”, “জীবনে যখন তুমি এলে না” ইত্যাদি অন্যতম।

টিভিতে প্রচারিত তার লেখা নাটক/ টেলিফিল্ম হচ্ছে, “সুটিং” “আদর্শ লিপি, “পরিবর্তন ইত্যাদি। তার প্রযোজিত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “প্রোফাইল বাংলাদেশ”, “সোনামনি” ইত্যাদি। তার ভিডিও সম্পাদনায় অনেক প্রোগ্রাম আছে। অনেক মিউজিক ভিডিও এবং টেলিফিল্ম “গিট্টু মিয়ার গিট্টু” “সুটিং” এর ভিডিও সম্পাদনা করেন তিনি যা জি সিরিজ বাজারজাত করে।
সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরপ্রাপ্ত কবি এ কে সরকার শাওন বর্তমানে বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় গ্রুপের একটি স্বনামধন্য কোম্পানির ফ্যাক্টরির প্রধান হিসাবে কর্মরত আছেন। বসবাস করছেন রাজধানীর ঢাকার নিজ বাসভবন শাওনাজে। রাজশাহী নিউজ24 এর পক্ষ থেকে তাঁর কবি প্রতিভার নিরন্তর স্ফুরণ ও তাঁর দীর্ঘায়ূ কামনা করছি।


©2014 - 2019. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com