বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

রামেক হাসপাতালে চিকিৎসক পেটালেন যুবলীগ নেতা

রামেক হাসপাতালে চিকিৎসক পেটালেন যুবলীগ নেতা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধর করেছেন এক যুবলীগ নেতা। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত সুমন উজ্জামান সুমন (২৮) নগরীর বেলপুকুর থানার পশ্চিম জামিরা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পুঠিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাকে আটক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রায় আধাঘন্টা চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন চিকিৎসকরা। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতার শাস্তির আশ্বাসে চিকিৎসায় ফিরে গেছেন চিকিৎসকরা।

অভিযুক্ত সুমন পুঠিয়ার বেলপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান বদিও ছেলে। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ দারার অনুসারী তারা।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় বাবা-ছেলে মিলে বিরোধী পক্ষের উপর হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালান। ওই তাণ্ডবে অন্তত ১০ জন আহত হন। এদের মধ্যে সুমন ও তার অনুসারী মনিরুল ইসলাম (৩০) চিকিৎসা নিতে রামেক হাসপাতালে আসেন রাতেই। সেখানে গিয়েও চিকিৎসকের উপর চড়াও হন যুবলীগ নেতা।

হাসপাতাল পুলিশ বক্সে ইনচার্জ সহকারী উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, সুমন হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। তার অনুসারী মনিরুল ভর্তি হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে। দুজনের কেউই ততটা গুরুতর আহত নন।

তিনি আরো বলেন, সকাল ১০টার দিকে সুমন ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়েছিলেন। সেখানে মনিরুলের চিকিৎসা হচ্ছেনা অভিযোগে তিনি দায়িত্বরত চিকিৎসক ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডেও রেজিস্টার আহসানুজ্জামান পিংকুর সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান।

এক পর্যায়ে ওই চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করেন সুমন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আটক করে হাসপাতাল পরিচালকের দপ্তরে নিয়ে যায়।পরে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ওই চিকিৎসক। এনিয়ে আইনত ব্যবস্থা নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে কয়েক দফা যোগাযোগ করে হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমানের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, নগরীর বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ দারা আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন না এমন খবর সোমবার দুপুরে ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

এতে উল্লাস প্রকাশ করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি তুহিন উজ্জামান ও তার অনুসারীরা। এরই জেরে সন্ধ্যায় বেলপুকুর রেলগেট এলাকায় তাদের উপর হামলা চালায় দারার অনুসারীরা।

ওই হামলায় নেতৃত্ব দেন স্থানীয় চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান ও তার ছেলে সুমন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হন। এসময় দলীয় কার্যালয়সহ ভাংচুর করা হয় দুটি দোকান ও দুটি বাড়ি।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এখনো এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে এনিয়ে থানায় এখনো কোন পক্ষ অভিযোগ দেয়নি বলে জানান ওসি।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com