শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :

জাবিতে  ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকান্ডে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কিত প্রশাসন

জাবিতে  ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকান্ডে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কিত প্রশাসন

জাবি প্রতিনিধি: প্রথমবষের ভর্তি পরীক্ষা আটকে দেওয়া, সাংবাদিক মারধর, ক্যান্টিন বয়দের মারধর সহ ইভটিজিং, ছিনতায় ও চাঁদাবাজির মত নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড করে চলছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এসকল কর্মকান্ডে একদিকে বিব্রত হচ্ছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অপরদিকে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দলকে এ শঙ্কার কথা তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চ্যানেল আই অনলাইনের সাংবাদিকসহ এক নারী শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীদের বহিস্কার নিয়ে তালবাহানা করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ ঘটনাই প্রথমে ৭ শিক্ষার্থী (শাখা ছাত্রলীগের কর্মী) কে বহিষ্কার করলেও একই দিনে মূল দোষীদের বাদ দিয়ে ৪ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

 

কিন্তু এ আদেশের ২দিন পর অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সেই বহিষ্কারাদেশও স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসকল বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক ও নিপীড়িত শিক্ষার্থীর সহপাঠিদের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেন। উপাচার্য বলেন, ভর্তি পরীক্ষার জটিলতার কারণে বহিস্কার আদেশ স্থগিত রাখা হয়েছে। এসময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে ছাত্রলীগের ভুমিকার কথাও বলেন। একবার পরীক্ষা আটকে রাখা হয়েছিল, যা ভতিইচ্ছুদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। তাই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে দূরে থাকতেই এমনটা করা হয়েছে।

 

তিনি এসময় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।বিশেষ সুত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক মারধরের ঘটনায় বহিষ্কারকৃত ৪ শিক্ষার্থী সভাপতি জুয়েল রানা গ্রুপের রাজনীতি করে কিন্তু মূল হোতারা সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল গুপের। প্রথমে ৭জনকে কহিস্কার করলেও পওে সম্পাদক গ্রুপের সদস্যদের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়। এতে সভাপতি জুয়েল রানা গ্রুপের চাপে বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি বিশেষ মহলের চাপে প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ।’

 
এদিকে, গত সপ্তাহ ধরেই শাখা ছাত্রলীগের বিতর্কিত কর্মকান্ড করে চলছে। গত বুধবার (৩ অক্টোবর) বাসি ভাতে’র অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের ৫ ক্যান্টিন কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী মাজহারুল ইসলাম সৈকত দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। একই সাথে সে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী।

 

এর আগে, ২ অক্টোবর মঙ্গলবার এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করা কেন্দ্র করে মীর মশাররফ হোসেন হল ও আল বেরুণী হলের ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্য কয়েক দফা সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ তাদের ১০ কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

 

এর আগে বুধবার(৩ অক্টোবর) দুই হলের সংঘষের ঘটনায় সুষ্ট বিচারের দাবিতে আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগের নেতারা ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের জীববিজ্ঞান অনুষদের ১ম শিফটের ভর্তি পরীক্ষা আটকে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের হস্তক্ষেপে নির্ধারিত সময়ের আধা ঘন্টা পরে পরীক্ষা শুরু হয়।

 
এসকল বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, ছাত্রলীগগের এমন কর্মকান্ড সংগঠনের আদর্শ বর্হিভূত। এছাড়াও তিনি শাখা ছাত্রলীগের নেতাদের সংযত ও আরো দায়িত্ববান হবার নির্দেশ দেন। গতকয়েক দিনের বিতর্কিত কর্মকান্ডে সম্পর্কে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ছাত্রলীগের কোন কর্মকান্ড ভর্তি পরীক্ষা কোনভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না বলে তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় শাখা ছাক্রলীগ ভর্তিইচ্ছুদের জন্য মেডিকেল ক্যাম্প গঠন, তথ্য সহায়তা কেন্দ্র সহ নানা ভাবে সহযোগিতা করছে। আর যারা বিতর্কিত কাজ করেছে আমরা তাদের ১০ জনকে একমাসের সাময়িক বহিষ্কার করেছি। কোন প্রকার অন্যায় কাজকে জাবি শাখা ছাত্রলীগ মেনে নেবে না, এ ঘটনার তদন্ত শেষে সুষ্ট বিচার হবে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com