রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন

কোনো দলই প্রার্থী চুড়ান্ত করতে পারছেনা কেন?

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৮

নিউজ ডেক্স :মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনেও কোনো দল বা জোটই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে পারেনি। তাই এক আসনে একই দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর।

৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিন দল ও জোট থেকে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে তাদের প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। বাকিরা বাদ পড়বে। এই বাদ পড়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ স্বতন্ত্র হিসেবে বুধবার মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

দল যদি মনোনয়ন চূড়ান্ত না করে, তাহলে তারা শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন। কিন্তু ভয়ের বিষয় হলো, এই সময়ে দল বা জোট থেকে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে অনেক প্রার্থী তাদের শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন। আর তাতে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

এবার জোটের অন্যান্য শরিক দলের জন্য ৭০টি আসন রেখে বাকি ২৩০ আসনে ২৫০ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০টি আসনে দুই জন করে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আর বিএনপি ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে ৮০০’রও বেশি প্রার্থীকে।

কোনো কোনো আসনে তারা ৪-৫ জনকেও মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে কিছু মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মামলার চিন্তা মাথায় রেখে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে। তবে বিদ্রোহ ঠেকাতে অথবা সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় অধিকাংশ আসনেই একাধিক প্রার্থী দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগও যেসব আসনে প্রার্থী নিয়ে সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি সেসব আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।

কিন্তু সংকট আরো বড় হয়েছে জোট নিয়ে। কারণ, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কেউই তাদের জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে পারেনি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দল ছাড়াও আছে এরশাদের জাতীয় পার্টি, বিকল্প ধারা, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং কিছু ইসলামি দল ও জোট।

তারা তাদের মতো মনোনয়ন দিয়েছে এবং শেষ দিনে তারা মনোনয়ন পত্র দাখিলও করেছে। যেমন, ওয়াকার্স পার্টিকে মোট ৫ টি আসন দেয়া হবে। তাদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে ৩৪ জন। জাসদকে দেয়া হতে পারে ২টি আসন। তাদের হয়ে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন ৫ জন। জাতীয় পার্টি কতটি আসন পাবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তারা মনোনয়ন দিয়েছে ১১০ জনকে।

এদিকে বিএনপি বলছে, জোটের শরিকদের আসন তারা পরে ছেড়ে দেবে। তাদের আট শতাধিক প্রার্থী ৩০০ আসনেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। তবে ২০ দলের সঙ্গে তারা আসন বন্টন প্রায় চূড়ান্ত করেছে, কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট-এর গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ বাকি শরিকদের সঙ্গে আসন চূড়ান্ত হয়নি।

জামায়াত শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জামায়াতকে ২৫টি আসন দিতে চাইলেও তারা আরো বেশি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। নাগরিক ঐক্য আসন পেতে পারে ২টি, কিন্তু তারা মনোনয়ন জমা দিয়েছে ৮টি আসনে।

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বা তার মেয়ে ব্যারিস্টার সারা হোসেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। আর বিকল্পধারার ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী আগেই নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফেনীর একটি এবং বগুড়ার ২টি আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হলেও তিনি যে প্রার্থী হতে পারছেন না তা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনটি আসনেই বিকল্প প্রার্থী আছে। আর বিএনপির পাঁচ নেতা আমানউল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান এবং মো. আব্দুল ওহাব প্রার্থী হতে পারছেন না। তাদের আসনগুলোতেও একাধিক বিকল্প প্রার্থী আছে বিএনপির।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনূ মজুমদার বলেন, ‘দুটি বড় দলই কৌশল হিসেবে একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। আসলে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিশ্চিত হতে চাইছে।বিএনপি চাইছে, তারা যদি নির্বাচন থেকে বেরিয়ে আসতে চায়, তাহলে যেন বেরিয়ে আসতে পারে। আর আওয়ামী লীগও চাইছে ভালো অবস্থানে থাকতে। তবে এতে করে সমস্যা হবেই। যারা দলের হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাদের মধ্যে যারা শেষ পর্যন্ত পাবেন না, তারা হতাশ হবেন৷ তারা তো একটা সমস্যার সৃষ্টি করবেনই’।

আর সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন-এর প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ‘যেখানে একাধিক প্রার্থীর সমর্থন কাছাকাছি, সেখানে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে তারা শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন, দ্বন্দ্ব-সংঘাত হতে পারে। আর যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী আছে, সেখানে ঝুঁকি আরো বেশি৷বিএনপির এত বেশি প্রার্থী হওয়ার কারণ তাদের ঝুঁকি আছে, মামলা আছে’ ফলে যাতে বাতিল হলেও শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকে’।

‘আওয়ামী লীগও ঝুঁকি বিচেনায় কিছু আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। আরেকটি কারণ, যাতে বিদ্রোহী প্রার্থী না হতে পারে। কারণ, দলের মনোনয়ন নিয়ে যারা মনোনয়পত্র দাখিল করেছেন, তারা কিন্তু আর বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারবেন না। প্রত্যাহারের শেষ দিনে দল যাকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেবে, তিনিই প্রার্থী হবেন বাকিদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে’।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com