সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন

যে কারণে সরে দাঁড়ালেন বরখাস্ত এসআই আকবরের আইনজীবী

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০
যে কারণে সরে দাঁড়ালেন বরখাস্ত এসআই আকবরের আইনজীবী

সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত মো. রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আসামি পুলিশের বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেনের পক্ষে নিযুক্ত সিলেট জেলা আইনজীবী মো. মিসবাউর রহমান আলম সরে দাঁড়িয়েছেন। আলোচিত এ মামলা থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

 

আজ শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) আইনজীবী মো. মিসবাউর রহমান আলম বলেন, নিজের পেশাদারিত্ববোধ থেকে এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত আসামি পুলিশের বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরূপ মন্তব্য তৈরি হয়েছে। ফলে নিজে থেকেই নিজেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত মো. রায়হান আহমদ হত্যা মামলার অভিযুক্তি প্রধান আসামি আকবরকে গ্রেপ্তার করার পর তার পক্ষে গত ১০ ডিসেম্বর আইনি লড়াই চালানোর জন্য ওকালতনামা জমা দেন আইনজীবী মো. মিসবাউর রহমান আলম। তখন এই আইনজীবী বলেছিলেন, আইনি সহায়তা পাওয়া একজন মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। তাই আমি আকবরের পক্ষে আদালতে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

রায়হানের মৃত্যুর পর তার বাড়িতে গিয়ে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা বলেছিলেন, এই মামলায় আসামিদের পক্ষে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আদালতে দাঁড়াবেন না। আইনজীবী সমিতির নেতাদের এমন বক্তব্যের পরও রায়হান হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আকবরের পক্ষে মিসবাউর রহমানের ওকালতনামা জমা দেওয়ায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনলাইনে অনেকেই এই আইনজীবীকে নিয়ে নানান বিরূপ মন্তব্য করেন।

 

 

এই আইনজীবী বলেন, এই দৃষ্টিকোন থেকেই আকবরের পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত হতে আমি সম্মত হয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু মানুষের চরম নেতিবাচক ও অশালীন মন্তব্য আমাকে হতাশ করেছে। আমার কারণে আমার সিনিয়র আইনজীবী বা আমার পরিবার স্থুল আক্রমণের শিকার হোক তা কখনোই কাম্য হতে পারে না। তাই আমার সিনিয়র এবং পরিবারকে অশালীন ও স্থুল আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে আকবরের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে বিরত হলাম।

 

গত ১১ অক্টোবর সকালে মারা যান নগরের আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদ (৩৪)। বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতেই হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তামান্না আক্তার।

 

মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি কমিটি তদন্ত করে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এ ঘটনায় এই ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার জনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান বন্দরবাজার থানার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা আকবর হোসেন ভূঁইয়া। এরপর গত ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
     12
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com