রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

৬৬ হাজারের বেশি গৃহহীন পরিবার ঘর পাচ্ছেন আজ

নিউজ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২১
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আধা পাকা ঘর এবং জমি পাচ্ছেন ৬৬ হাজারেরও বেশি পরিবার।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে আধা পাকা ঘর এবং জমি পাচ্ছেন ৬৬ হাজারেরও বেশি পরিবার।

শনিবার ৬৬ হাজার ১৮৯ পরিবারের কাছে আধা পাকা ঘর হস্তান্তর করা হবে। এটিই বিশ্বে গৃহহীন মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দেওয়ার সবচেয়ে বড় কর্মসূচি। এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর। রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে।

সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনার জন্য সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসাবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি নাগাদ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে আরও এক লাখ বাড়ি বিতরণের কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এই কাজ করছে। খাসজমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্বপ্ননীড়’, কোথাও নামকরণ হচ্ছে ‘শতনীড়’, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ’।

গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, “মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনার জন্য কাজ করছেন।”

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে বাড়ি বিতরণের কর্মসূচি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন।

আহমদ কায়কাউস বলেন, গৃহ ও ভূমিহীন মানুষের মাঝে হস্তান্তরের জন্য সরকার ১,১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বে প্রমবারের মতো ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীতে দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা করে তাদের ঘর করে দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৩ জানুয়ারি ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাস জমির মালিকানা দিয়ে বিনা পয়সায় দুই কক্ষবিশিষ্ট ঘর প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে মুখ্য সচিব কায়কাউস বলেন, “ছয় মাসেরও কম সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে আরও প্রায় এক লাখ পরিবারকে ঘর উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আরও বলেন, শুধু ঘরই নয়, প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই পরিবারগুলোর কর্মসংস্থানেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

নীলফামারী জেলায় ৬৩৭টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে আছে সদর উপজেলায় ৯৯, সৈয়দপুরে ৩৪, ডোমারে ৩৮, ডিমলায় ১৮৫, জলঢাকায় ১৪১ ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ১৪০টি পরিবার। বসতভিটার জন্য উপকারভোগীদের মধ্যে ১২.৭৪ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে খাসজমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩৪টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। যশোরের মণিরামপুরে ২৬২টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে আজ ১৯৯টি ঘর হস্তান্তর করা হবে।

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ৩৫টি পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাচ্ছে। এর মধ্যে সোনামুখী ইউনিয়নের তিনটি, চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯, মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ১৪, গান্ধাইল ইউনিয়নের পাঁচ ও কাজিপুর সদর ইউনিয়নের চারটি পরিবার রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় আজ ২০টি পরিবারকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ২০০টি ভূমিহীন পরিবারকে ‘মুজিববর্ষের উপহার’ এই ঘর দেওয়া হবে।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ছয় ইউনিয়নে ৪৩০টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। বয়স্কদের ৪৪টি, দিনমজুর ২৩৫টি, মুক্তিযোদ্ধা তিন, বিধবা ৩০, প্রতিবন্ধী ১২, ভিক্ষুক ২৭, ক্ষুদ্রজাতির ৭৮ ও তৃতীয় লিঙ্গের একটি পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ২১টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৫টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ২০০ পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে সদর ইউনিয়নে ৩১টি, জয়মনিরহাটে ৯, আন্ধারিঝাড়ে তিন, পাইকেরছড়ায় ২১, বলদিয়ায় ২৩, চরভূরুঙ্গামারীতে ১৫, শিলখুড়িতে ২৬, পাথরডুবীতে চার, তিলাইয়ে ১৮ ও বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নে ৫০টি ঘর তৈরি করা হয়েছে।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় ১০৪টি পরিবার ঘর পাচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০টি ঘর প্রস্তুত হয়েছে। আজ এগুলোর চাবি উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আরো ২০টি ঘরের কাজ চলছে।

শরীয়তপুরের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয় উপজেলায় ৬৯৯টি ঘর তৈরি করা হয়েছে। সদরে ৫০টি, নড়িয়ায় ১২১, জাজিরায় ৫৪, ডামুড্যায় ৬৬, ভেদরগঞ্জে ৩৬০ ও গোসাইরহাট উপজেলায় ৪৮টি ঘর বরাদ্দ হয়েছে। ডামুড্যার পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় বিলের মধ্যে তৈরি হয়েছে দুই সারিতে ২২টি ঘর। সেখানে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই।

নাটোরের বড়াইগ্রামে ১৬০টি পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ঘর তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। আজ হস্তান্তর করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com