শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন

চুড়ান্ত লাইসেন্স পেল সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৮
চুড়ান্ত লাইসেন্স পেল সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল

রিজু মোল্লা, সিরাজগঞ্জ থেকে: ‘মানুষের কাছে শিল্প যাবে, ঘরে থেকেই কর্ম হবে’ শীর্ষক সেøাগানে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জে গড়ে উঠছে বেসরকারি মালিকানাধীন সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল। কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৫ লাখ মানুষের। ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে উঠবে বিভিন্ন খাতের ৪০০ কারখানা। ব্যবহৃত হবে ‘গ্রিন টেকনোলজি’। সে উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের চূড়ান্ত লাইসেন্স তুলে দেয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

 
বিকেল চারটা সময় বেজা অফিসে আনুষ্ঠানিক ভাবে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল লিঃ এর চেয়ারম্যান জনাব এম এ মতিন এর হাতে চুড়ন্ত লাইসেন্স তুলে দেন বেজা চেয়ারম্যান জনাব পবন চৌধুরী । অনুষ্ঠানে বেজার উর্ধতন কর্মকর্তা সহ জোনের সকল পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। পবন চৌধুরী সাংবাদিক সহ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তর বেসরকারী অর্থনৈতিক অঞ্চল। তিনি তার বক্তব্যে সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন এর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন একটি মহৎ কাজের পিছনে দীর্ঘ সময় লেগে থাকায় আজ এই অর্থনৈতিক অঞ্চল সফলতার মুখ দেখেছে । আগামী দুই বছরের মধ্যে এই অর্থনৈতিক দৃশ্যমান হবে বলে জানান।

 
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা ও বেলকুচি উপজেলার অনাবাদি ১ হাজার ৪১ একর জমিতে গড়ে উঠছে এ শিল্পনগরী। এখানকার বেশিরভাগ জমিই কৃষিকাজ ও বসবাসের অনুপযুক্ত। নির্ধারিত সীমানায় সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। কোথাও কোথাও ভূমি উন্নয়নের কাজ হয়েছে। চূড়ান্তভাবে ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরুর জন্য অত্যাধুনিক মেশিন বসানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে পুরোদমে জমি উন্নয়নের কাজ শুরু করতে চান উদ্যোক্তারা।

 
সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক শেখ মনোয়ার হোসেন জানান, শিল্প করতে গিয়ে আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে। কিন্তু এরপরও আশানুরূপ উৎপাদন করতে পারিনি। পরবর্তী গবেষণা করে ও বিভিন্ন দেশের শিল্প পরিদর্শনে গিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ধারণা সামনে আসে। তিনি আরো বলেন, উত্তরবঙ্গের দরিদ্র মানুষের কাজের জন্য ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামে ছুটে চলেন।

 

অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে অর্থ অর্জন করে তার অধিকাংশ ব্যয় হয়ে যায় বাসা ভাড়া দেওয়া, খাওয়া দাওয়া ও যাতায়াতের জন্য। কঠোর পরিশ্রম করেও জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাদের কথা চিন্তা করেই শ্রমঘন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে ৫ লাখ মানুষ কাজ করবে। মোট জমির ৬০ শতাংশে কারখানা হবে। অন্য জমিতে পার্ক, বনায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইত্যাদি গড়ে তোলা হবে। শ্রমিকদের জন্য থাকবে অত্যাধুনিক ডরমিটরি। এছাড়া মানুষ যাতে বাড়ি থেকে কারখানায় কাজ করতে পারেন এজন্য চালু করতে হবে শ্যাটল ট্রেন, বাস ও নদীতে ট্রলার সার্ভিস।

 

আশপাশের জেলার মানুষ বাড়ি থেকে কারখানায় আসা-যাওয়া করতে পারবেন। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে কাজের জন্য দেশান্তরী না করে ঘরে ফিরিয়ে আনায়। ঘরে বসেই মানুষ করতে পারবে। এছাড়া মানুষের জীবনযাপনের জন্য যত ধরনের সেবা প্রয়োজন তার সব কিছু থাকবে এই জোনে। কোনো প্রয়োজন মেটাতে কাউকে জোনের বাইরে যেতে হবে না।

 

সূত্র জানায়, শুরুতে এটি সরকারি অঞ্চল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি হয়নি। পরবর্তী সময়ে উদ্যোক্তাদের আগ্রহে বেসরকারিভাবেই এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় বেজা। ১১ শিল্পোদ্যোক্তার সমন্বয়ে গঠিত কনসোর্টিয়ামকে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে গত বছরে জুনে প্রাক-লাইসেন্স দেয় বেজা। যৌথ উদ্যোক্তারা হলেনÑ নিট এশিয়া, রাইজিং হোল্ডিংস, এসএম ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোল্ডিংস, টেক্স টাউন, এহসানুল হাবীব, চেইঞ্জ বাংলাদেশ, মাহমুদ ফ্যাশন, রাতুল নিটওয়ার্স, মো. কামরুজ্জামান, মানামি ফ্যাশনস ও প্যারাগন ফিড।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, সরকারের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি সিরাজগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এটি বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখানে ১৫০ কোটি ডলার বা ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। এখানে সেবা পাওয়ার জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার থাকবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা কারখানা গড়ে তোলার আগেই নিশ্চিত করা হবে।
উদ্যোক্তারা আশা করছে, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে। এখানে নদীপথ আছে। সড়ক ও রেল সংযোগ রয়েছে। পাশেই রয়েছে রেল স্টেশন। বিনিয়োগ করার জন্য সিরাজগঞ্জ আদর্শ জায়গা। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পোশাকশিল্প, বস্ত্রশিল্প, পাট, ওষুধ, চামড়া, অটোমোবাইল, সিরামিক, রাসায়নিক, আইটি শিল্প ও কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে। পাঁচতারকা হোটেল, ট্রেড সেন্টার, শপিংমল ইত্যাদি থাকবে। এখানে থাকবে পর্যটন পার্ক, চলাচলের রাস্তার মাঝখানে সড়কদ্বীপের পরিবর্তে লেক। অর্থনৈতিক কর্মকা-ের এই আয়োজনে স্থানীয় বহুমানুষের কর্মের ব্যবস্থা হবে। এখানে আনুমানিক ১৫০ কোটি ডলার বা ১২ হাজার কোটি বিনিয়োগ হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com