বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন

নওগাঁ-৬ আসনে নৌকার অবস্থান ভালো হলেও ধানের শীষে রয়েছে চরম অন্ত:দ্বন্দ্ব

নওগাঁ-৬ আসনে নৌকার অবস্থান ভালো হলেও ধানের শীষে রয়েছে চরম অন্ত:দ্বন্দ্ব

নওগাঁ প্রতিনিধি: দেশের উত্তর জনপদের সীমান্ত ঘেষা জেলা নওগাঁ। এই জেলাতে রয়েছে ৬টি আসন। এই আসনগুলোর মধ্যে নওগাঁর আত্রাই ও রাণীনগর এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মাঠ পর্যায়ে নিজেদের গ্রহনযোগ্যতা মজবুদ করে তৈরির জন্য সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন দুই দলেরই নেতা কর্মীরা।

বিএনপি থেকে চ’ড়ান্ত ভাবে মনোনিত প্রার্থী চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর দীর্ঘ ১২বছর পর আবারো রাজনীতির মাঠে ফিরে এসেছেন। হঠাৎ রাজনীতিতে তার ফিরে আসা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশের। দুই ভাই সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে কোন মিল না হওয়ায় সেই দ্বন্দ্ব দিন দিন চরমের দিকে রূপ নিচ্ছে। তাই এই আসনে বর্তমানে নৌকার অবস্থান ভালো হলেও নিজেদের দ্বন্দ্বের কারণে ধানের শীষের অবস্থা খুবই নাজুক।

নওগাঁর আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলা এক সময় সর্বহারা ও বহুল আলোচিত বাংলাভাইয়ের (জেএমবি) অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীর। জোট সরকারের শেষের দিকে এই জনপদে আগমন ঘটে বহুল আলোচিত বাংলা ভাই নামক সন্ত্রাসী বাহিনীর। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষের দিকে আলমগীর কবীর এলডিপিতে যোগ দেন। একই বছরে এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেন। তখন এই আসনের ধানের শীষের হাল ধরেন তারই ছোট ভাই বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বুলু। তিনি প্রায় এক যুগ ধরে এই দুই উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে ছিলেন। তিনি গত ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার কাছে পরাজিত হন। তিনি নেতাকর্মীদের সুখ-দু:খের সময় পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তাকেই মনোনয়ন দেওয়ার দাবী ছিলো এই আসনের বিএনপির নেতা-কর্মীর। কিন্তু হঠাৎ করেই তার বড় ভাই আলমগীর কবীর পুণরায় বিএনপিতে ফিরে আসায় দল থেকে তাকে চ’ড়ান্ত ভাবে মনোনয়ন প্রদান করেছে। এতে দুই উপজেলার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া, হতাশা, চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের দেখা দিয়েছে। অপরদিকে গত ২২ নভেম্বরে নওগাঁ-৬ আসনের বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা আলমগীর কবীরকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে।

রাণীনগর থানা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএস আল ফারুক জেমস বলেন, এই অঞ্চলের বিএনপির সংকটময় সময়ের একমাত্র ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন আনোয়ার হোসেন বুলু। অথচ এই একনিষ্ট কর্মীকে মনোনয়ন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে করে এই জনপদের বিএনপি সমর্থিত মানুষরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। আমরা আগেও বুলু ভাইয়ের ছিলাম এখনো আছি। আমরা বুলু ভাইয়ের নির্দেশের দিকে চেয়ে আছি। বুলু ভাই আমাদেরকে যে নির্দেশ দেবেন সেই মোতাবেক দুই উপজেলার বিএনপির নেতা ও কর্মীরা কাজ করবে।

রাণীনগর উপজেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল বারী মোল্লা বলেন, নৌকা প্রতিক উন্নয়নের প্রতিক তা এই অঞ্চলের তৃণমূল থেকে শুরু করে সবারই জানা। আমাদের মাঝে কোন দ্বিদ্ধা বা দ্বন্দ্ব নেই। এখন আমরা হাতে হাত আর কাঁধে কাঁধ রেখে নৌকার পক্ষে কাজ করছি। কোন পরাশক্তিই আমাদের বিজয়কে ঠেকাতে পারবে না। কারণ এই জনপদের মানুষ আর সর্বহারা ও বাংলা ভাইয়ের তান্ডব দেখতে চায় না। তারা শান্তি আর সুখে বসবাস করতে চায়। এই জনপদে গত ১০বছর যাবত শান্তির যে সুবাতাস বইছে তা ধরতে রাখার জন্য নৌকার কোন বিকল্প নেই। তাই আমি আশাবাদি আগামী নির্বাচনেও সবাই ভোট দিয়ে নৌকাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com