শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনের বাস ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১
রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনের বাস ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

রাজশাহীতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে বাস ধর্মঘট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। পরিবহন শ্রমিক নেতারা বলছেন, বগুড়ার এক সংঘর্ষের জেরে এই বাস ধর্মঘট। তবে বিএনপির নেতারা অভিযোগ করে বলছেন, তাদের বিভাগীয় সমাবেশে জনসমাগম ঠেকাতে বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার সকাল থেকে রাজশাহী থেকে সকল রুটের বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কোন বাস রাজশাহী ঢুকছে না, রাজশাহী ছেড়েও কোন বাস যাচ্ছে না। একরকম অচল হয়ে পড়েছে বিভাগীয় এই শহর।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। তারা হিউম্যান হলার, সিএনজি এবং অটোরিকশায় চড়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করছেন। সামর্থ্য থাকলে কেউ কেউ মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার ভাড়া করছেন। কিন্তু গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

শিরোইল বাস টার্মিনালের সামনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন একদল আদিবাসী নারী-পুরুষ। তারা চাঁপাইনববাবগঞ্জে যাবেন। সরেন টুডু নামের একজন জানালেন, তিন দিন আগে তারা একটি অনুষ্ঠানে নাটোরে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফেরার পথে পড়েছেন বিড়ম্বনায়। নাটোর থেকে হিউম্যান হলারে চেপে রাজশাহী এসেছেন বাড়তি ভাড়া দিয়ে। এখন চাঁপাইনববাবগঞ্জ যাবেন। সে জন্য অন্য একটি হিউম্যান হলারের চালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি চলছে।

নগরীর নওদাপাড়ায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শিরোইল বাসটার্মিনাল থেকে দ্বিতীয় দিনের মত নওদাপাড়া থেকেও ঢাকার পথে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি। ছাড়েনি আন্তঃজেলাসহ কোনো রুটের বাস। তবে টার্মিনালগুলোতে বাস কাউন্টার খোলা রয়েছে।

বাস বন্ধ প্রসঙ্গে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, বগুড়ায় পরিহন শ্রমিক ইউনিয়নের বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির একটি প্রতিবাদ সভা ছিল গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেখানে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালায়। চারটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর প্রতিবাদে সেদিনই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু মাঝে পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ধর্মঘট শুরু করা হয়নি। নির্বাচন শেষ হওয়ামাত্র ধর্মঘট শুরু হয়েছে। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, তাদের বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে হঠাৎই রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এর কারণ বিভাগীয় সমাবেশে যেন মানুষ না আসতে পারে। এছাড়া আর কিছু না। এটি রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ নস্যাৎ করার অপচেষ্টা বলেও দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

অবশ্য রাজশাহী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউল হক টিটো বলেছেন, বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে তারা সড়কে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন। গাড়ি ভাঙচুর করা হতে পারে বলেও তাদের আশঙ্কা। আর তাই শ্রমিকের জীবন ও যানবাহনের নিরাপত্তার জন্য বাস বন্ধ করা হয়েছে।

তবে এ কথা মানতে নারাজ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। বিএনপির সমাবেশের সাথে আমাদের কিছু আসে যায় না। আমরা আমাদের কর্মসূচি পালন করছি। যদি তাই হতো তাহলে অন্য স্থানের বাস রাজশাহী আসছে না কেন?’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com