শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

মোবাইল ইন্টারনেটে সোমালিয়ার চেয়েও বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে?

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১

বাংলাদেশের যেসব মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাদের একটি বড় অংশই যোগাযোগ, ব্রাউজিং বা বিনোদনের ক্ষেত্রে মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেটের গতি নিয়ে মানুষের অভিযোগের শেষ নেই।

গ্রাহকদের অভিযোগ, কোনো ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কিংবা ১২তলার ওপরে গেলে তিনি তার অপারেটর থেকে আর নেটওয়ার্ক পান না। আবার ঢাকার বাইরে অনেক জেলাতেও একই জটিলতার মুখে পড়তে হয় তাকে। এভাবে যখন তখন সংযোগ চলে যাওয়া বা ইন্টারনেট স্পিড কমে যাওয়ার কারণে তিনি যে প্যাকেজগুলো কেনেন তার বেশিরভাগই অপচয় হয়ে যায়।

ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার চেয়েও বাংলাদেশে ইন্টারনেটে গতি খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশের চাইতে কম গতির ইন্টারনেট রয়েছে আফগানিস্তানে।

অনলাইনে ইন্টারনেটের গতি পরিমাপক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট স্পিডটেস্ট-এর গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত গ্লোবাল ইনডেক্সের বরাত দিয়ে এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোট ১৪০টি দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। যা গত বছরের চাইতে এক ধাপ পিছিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মালদ্বীপ। দেশটির অবস্থান ৪৫তম।

এরপরেই ৮৮তম অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমার। নেপালের অবস্থান ১১৪তম। এর চার ধাপ পিছিয়ে ১১৮তম অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। ১২০তম অবস্থানে শ্রীলঙ্কা। ভারত ১৩১তম অবস্থানে। এবং সবচেয়ে নীচে ১৪০তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।

মোবাইলের ইন্টারনেটের গতিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ১৮৩ এমবিপিএস এর বেশি। তার পরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, চীন, সৌদি আরব, নরওয়ে, কুয়েত ও অস্ট্রেলিয়া। ওইসব দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ১০০-১৭০ এমবিপিএস এর বেশি।

আর বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি মাত্র ১০.৫৭ এমবিপিএস।

আর ভারতে ১২.৪১ এমবিপিএস এবং পাকিস্তানে প্রায় ১৮ এমবিপিএস।

যে কারণে গতি কম, কী ভাবছে কর্তৃপক্ষ?

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরগুলোর যে পরিমাণ গ্রাহক রয়েছে, সে হিসেবে তাদের স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের পরিমাণ কম।

তিনি বলেন, “ধরুন একটি অপারেটরের গ্রাহকের সংখ্যা ৮ কোটি। কিন্তু তাদের স্পেকট্রাম বরাদ্দ আছে মাত্র ৩৭ মেগাহার্টজ। যেখানে গ্রাহক হিসেবে তাদের থাকার কথা ছিল ১০০ মেগাহার্টজের মতো। এই বেতার তরঙ্গই হল মোবাইল নেটওয়ার্কের মেরুদণ্ড। এটি ঠিক না থাকলে, কোনটাই ঠিক থাকবে না।”

গত এক বছর বাংলাদেশে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার দুই গুণ বেড়েছে। কিন্তু এর সাথে মানিয়ে নিতে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অর্থাৎ তাদের বেতার তরঙ্গের ব্যবহার সে অনুপাতে বাড়েনি।

এ কারণে গ্রাহকরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ইন্টারনেটের গতি পাচ্ছে না বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা টুজি থেকে থ্রিজিতে আসতে ২৪ বছর সময় নিয়েছি। ২০১৩ সালে থ্রিজি আসার ৫ বছরের মাথায় ২০১৮ সালে আমরা ফোরজিতে আসি। ২০১৯ সালে অপারেটরগুলো প্রস্তুতিমূলক কিছু কাজ করেছে। ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের কারণে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ সেভাবে এগোয়নি।’

বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের কাছে ফোরজি হ্যান্ডসেট না থাকাও এই ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী।

স্পেকট্রাম বরাদ্দে নিলাম আয়োজন

মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গ। এখন এই মোবাইল ইন্টারনেটের এই গতি বাড়ানোর জন্য আগামী সোমবার (৮ই মার্চ) নতুন স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য নিলাম আয়োজন করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই নিলাম থেকে অপারেটররা প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম কিনে নেয়ার পর আগামী মাস থেকে ইন্টারনেট সেবার অগ্রগতি হবে বলে তারা আশা করছেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com