মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

আনন্দ বিনোদন প্রয়োজন সবই চলছে আগের মতোই

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১
আনন্দ বিনোদন প্রয়োজন সবই চলছে আগের মতোই

করোনাভাইরাসের প্রভাবে ওলট-পালট পুরো পৃথিবীর চিত্র, একই দশা বাংলাদেশেরও। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে সংক্রমণ কিছুটা কমে এলেও দু’সপ্তাহ যেতে না যেতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউ; যেটিকে আগের চেয়ে বিপজ্জনক মনে করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসে প্রাণহানি ঠেকাতে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের না হওয়া, বাইরে এলে মাস্ক পরা, বারবার হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও সেসবে অনীহা দেখা যাচ্ছে অনেকের মধ্যেই। দেশে একদিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও অপ্রয়োজনে বাইরে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে খেতে যাওয়া, আনন্দ-বিনোদনের জন্য বেড়াতে যাওয়া চলছে ঠিক আগের মতোই।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। তখন জনগণের মনে ভীতি ছিল অনেক। ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতাও দেখা গিয়েছিল। তবে এখন আর সেই সচেতনতা নেই। দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়লেও অনেকটা গা-ছাড়া ভাব নিয়েই চলাফেরা করছেন নগরবাসী।

গত ২৯ মার্চ দেশে পাঁচ হাজার ১৮১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ। এছাড়াও মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) ৫ হাজার ৪২ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর ওই দুইদিনই মারা গেছেন ৪৫ জন করে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ৫ হাজার ৯৩৭ জন ও মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ৯৯৪।

এমন পরিসংখ্যানের পরেও বর্তমানে নগরবাসীকে অসচেতন অবস্থায় চলাচল করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা পোস্টের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষই মাস্ক ছাড়া চলাচল করছেন। গণপরিবহনে, খাবার হোটেলের ওয়েটার, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রেতা-ক্রেতাসহ বেশির ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক চোখে পড়েনি। অনেকের আবার মাস্ক থাকলেও সেটা থুতনিতে। সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি তো উড়োজাহাজের মতো মানুষের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।

dhaka post

ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে কিছু সময় পর পর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা। কিন্তু সেই বিষয়টি কতিপয় মানলেও বেশিরভাগের কাছে তা উপেক্ষিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি জনসাধারণের জন্য অনেকটাই বিপজ্জনক। এর ফলে বড়সড় বিস্ফোরণ হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

রাজধানী ঘুরে আরও দেখা গেছে, পাড়ার চায়ের দোকান, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সমাবেশসহ প্রায় সব জায়গায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যত্রতত্র চলছে পন্যের বা টাকার হাত বদল। এতে করে ভাইরাসটি আরও দ্রুত জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধানমন্ডি শংকর বাস স্ট্যান্ডে কথা হয় চা বিক্রেতা জলিলের সঙ্গে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভুলবশত অনেক সময় মাস্ক ব্যবহার করতে মনে থাকে না। এছাড়া দোকানে অনেক কাস্টমার আসে, তারাও মাস্ক পরে না।

সিটি কলেজের সামনে কথা হয় পাঠাও রাইডার শাহীন চাকলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, সব সময় তো হেলমেটের মধ্যেই থাকি, তাই মাস্কটা আলাদা করে পরা হয় না, তবে সঙ্গে ঠিকই থাকে। শুনছি আবারও নতুন করে ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে। এখন থেকে আবার পরার অভ্যাস করব।

dhaka post

কমলাপুর রেল স্টেশনে কামরুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, করোনার প্রভাবে একটা সময় সবাই মাস্ক ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়েছিল। আমিও নিয়মিত পরেছি। মাঝে সেটি বাদ পরায় আর নতুন করে অভ্যাসটা গড়ে ওঠেনি। বাঁচতে হলে তো মাস্ক পরতে হবে। আবারও শুরু করবো।

ইতিমধ্যে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ থেকে রক্ষায় সরকার নতুন করে ১৮টি নির্দেশনা জারি করেছে।

করোনাভাইরাসের এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানায় জনসাধারণের এমন উদাসীনতা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক বছর ধরেই মাস্ক ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি বেশির ভাগ মানুষই মানছে না। জনগণের নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে ভলেন্টিয়ার টিম প্রয়োজন। সরকারের এতো বেশি পুলিশ নেই যে সেটি বাস্তবায়ন করবে। মাস্ক ব্যবহারের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক বছর ধরেই মাস্ক ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে। বিষয়টি বেশির ভাগ মানুষই মানছে না। জনগণের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে ভলেন্টিয়ার টিম প্রয়োজন। সরকারের এতো বেশি পুলিশ নেই যে সেটি বাস্তবায়ন করবে। মাস্ক ব্যবহারের জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

তিনি আরও বলেন, ‘এবার ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত দুইদিনে ৪৫ জন করে মানুষ মারা গেছে। এই মানুষগুলো কী কী কারণে মারা গেছেন, তার বিশ্লেষণ পাওয়া গেলে ভালো হতো। আবার পেরিফেরিতে আইসিইউ নেই। যদি সেখানে আইসিইউয়ের ব্যবস্থা করা যায় তবে ঢাকার দিকের চাপ কমবে।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
     12
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com