শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন

লকডাউনের প্রথম দিনে যা হচ্ছে

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১
লকডাউনের প্রথম দিনে যা হচ্ছে

করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার রোধে সরকারের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুরু হয়েছে সাতদিনের ‘লকডাউন’। সোমবার ভোর ৬টা থেকে আগামী ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত, এ সাতদিন এ বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে প্রায় একবছর পর আবার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণের পথে যেতে হয়েছে সরকারকে। নিজেদের রক্ষায় একগুচ্ছ বিধিনিষেধের বেড়াজালে অবদ্ধ মানুষজন। তবে এই লকডাউন কার্যকর করা নিয়ে সরকারকে বেশ চ্যালেঞ্জেই পড়তে হবে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

দেশজুড়ে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ, এমনকি ট্রেন লঞ্চ যাত্রায়ও একই অবস্থা। চলাচল সীমিত করায় এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধ্যকতা দেওয়ায় অনেক কিছুই করা যাবে না, মানতে হবে বেশ কিছু ‘অপ্রিয়’ নিয়মও।

লকডাউনের মধ্যেও বিশেষ ব্যবস্থায় অফিস-কারখানা, বইমেলা খোলা রাখার সুযোগ থাকায় অনেক মানুষকে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাইরে বের হতে হচ্ছে। কিন্তু গণপরিবহন না থাকায় পড়েছেন ভোগান্তিতে। অনেক অফিসযাত্রী মানুষকে গণপরিবহনের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। অনেকে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ি বা রিকশায় চড়ে গন্তব্যস্থলে রওনা হয়েছেন।

মিরপুর, ঝিকাতলা, যাত্রাবাড়ি, কমলাপুর, বাসাবো, মালিবাগ, বাড্ডা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কর্মস্থলগামী মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকলেও গণপরিবহন নেই। অনেককে রিকশা, সিএনজি, ছোট পিকআপে করেও গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। এতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

লক্ষ্য সাতদিনেই সংক্রমণ কমিয়ে আবার নিয়মিত কার্যক্রমে ফেরা। গতবছর সংক্রমণ কমাতে ঘোষণা করা হয়েছিল সাধারণ ছুটি, যেটির কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। মহামারীকালে দীর্ঘ সময় ধরে সংক্রমণের হার কম থাকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ছন্দ ফিরতে শুরু করে। তবে সর্বক্ষেত্রে গতি পাওয়ার এ সময়টাতে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষায় ঢিলেঢালা হতেই মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকে।

গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আরও বেড়েছে। রোববার নতুন করে ৭ হাজার ৮৭ জনের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর আগে গত ২৩ এপ্রিল একদিনে ৬ হাজার ৮৩০ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

রোববারের আগে সেটিই ছিল একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা। এ পর্যন্ত দেশে মোট করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৪ জনে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৫৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট ৯ হাজার ২৬৬ জনের মৃত্যু হলো। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এর বিপরীতে গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত আরও ২ হাজার ৭০৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

রোববার জারি হওয়া সরকারি প্রজ্ঞাপনে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে লকডাউনের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লকডাউন চলাকালে জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে। তবে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা, নির্মাণ কাজ চালু থাকলেও নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় আনা-নেওয়া করতে হবে। একই সঙ্গে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ কর্তৃপক্ষকে অসুস্থ শ্রমিকদের জন্য শিল্পকারখানার কাছাকাছি ফিল্ড হাসপাতাল অথবা চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লকডাউন চলাকালে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু থাকবে। সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন বিধিনিষেধগুলো বাস্তবায়ন করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল দেবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

তবে লকডাউন কার্যকর করতে শুরুতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপন জারির পরপরই এর প্রতিবাদে রোববার দুপুরে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, কোনো কোনো খাতকে ছাড় দিয়ে আবার কোনো কোনোটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অন্যায়। রমজান ও ঈদের সময় কেনাবেচা হয়। বছরজুড়ে দোকান মালিকরা এই সময়টার দিকে তাকিয়ে থাকেন। এই সময়ের ব্যবসা দিয়ে তারা সারা বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেন। সুতরাং এ ধরনের আদেশ তারা মানবেন না বলেও ঘোষণা দেন।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব পরিবহনে কর্মীদের আনা-নেওয়ার নির্দেশনা কতটুকু পালন করবে, তা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউনের আদেশ আমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

লকডাউনের আগের দিন রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা ছেড়েছে হাজার হাজার মানুষ। রাজধানীর বাজার, রেল, বাস, লঞ্চ স্টেশনে মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সাত দিনের ছুটিতে অনেকে গ্রামে ফিরে গেছেন। আবার নানা কাজে ঢাকায় আসা অনেকেই ফিরে গেছেন। মাওয়া, শিমুলিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের ছিল উপচেপড়া ভিড়। মহাসড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারগুলোতে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই ভিড় আরও উচ্চহারে সংক্রমণের ভয় জাগাচ্ছে।

এদিকে, সংক্রমণ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, রাজধানীর কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলো রোগীর ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রায় ৯৯ শতাংশ শয্যায় রোগী ভর্তি হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
     12
17181920212223
24252627282930
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com