শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

অর্ধেকে নেমেছে রিকশাচালকের আয়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

বেশি আয়ের আশায় এক মাস আগে রংপুর থেকে ঢাকা এসেছিলেন রিকশাচালক জয়নাল মিয়া। রিকশা নিয়ে তার বিচরণ রাজধানীর মধুবাগ, মগবাজার ও রামপুরা এলাকায়।

এ রিকশাচালক ঢাকায় আসার এক মাসের মাথায় দেশে করোনার প্রকোপ ঠেকাতে এক সপ্তাহের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। বন্ধ ঘোষণা করা হয় গণপরিবহন। এ সময়ে রিকশাচালকদের রমরমা আয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনে জয়নালের আয় হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা। অথচ এর আগে দিনে ৮০০ থেকে ১২০০ আয় হতো তার। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কঠোর নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে তার আয় কমেছে ৬০ শতাংশের বেশি।

শুধু জয়নাল নয়, মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর রামপুরা, মধুবাগ, মৌচাক, মান্ডা ও মগবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা হলে তাদের কাছ থেকেও একই তথ্য পাওয়া গেছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের আরোপিত সপ্তাহব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে প্রথম দিন অতিক্রম করে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও রাস্তায় চলছে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও রিকশার রাজত্ব। ভাড়াও তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। স্বাভাবিকভাবে রিকশা চালকদের আয় বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

কঠোর নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে আয় বৃদ্ধি পাওয়ার পরিবর্তে উল্টো কমেছে রাজধানীর রিকশাচালকদের। নিষেধাজ্ঞা ও স্বাভাবিক সময় বিবেচনায় তাদের আয় কমেছে অন্তত ৫৫ থেকে ৭৫ শতাংশ।

রিকশাচালক জয়নাল সরকার আরোপিত বিধিনিষেধকে সমর্থন করলেও আয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘লকডাউনের (কঠোর বিধিনিষেধ) প্রথম দিনে আয় হয়েছে মাত্র ৩০০ টাকা। এর আগের দিন (রোববার) ৮০০, এর আগের দিন এক হাজার টাকা আয় হয়েছিল। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা আয় হতো। এভাবে চলতে থাকলে নিজে কী খাব, পরিবারকে কী পাঠাব?’

রাস্তায় গণপরিবহন (বাস) নেই। এখন তো রিকশায় মানুষ বেশি উঠছে। তাহলে আয় কম কেন- জবাবে জয়নাল মিয়া বলেন, ‘আয় কেমনে হইবো। রাস্তায় মানুষই তো অনেক কম। যারা আছেন তারা রিকশা কম ওঠে। কাছাকাছি কোনো পথে হেঁটে যায়।’

রামপুরা এলাকায় গত পাঁচ বছর ধরে রিকশা চালাচ্ছেন নুরুল ইসলাম। আয় কমেছে তারও। গত বছরের অভিজ্ঞতায় লকডাউন তার কাছে আতঙ্কের নাম। এবার রিকশা চালানোর সুযোগ পেলেও খুশি নন নুরুল ইসলাম। গতকাল ও আজকের আয় সম্পর্কে বলেন, ‘প্রথম দিনে দুই বেলা রিকশা চালিয়ে আয় করেছি ৪০০ টাকা। আজ প্রথম বেলায় আয় হয়েছে ৪০০ টাকার মতো। মালিকের ১২০ টাকা বাদ দিলে যা থাকবে তা নিয়ে চারজনের সংসার চালানো কঠিন। স্বাভাবিক সময়ে নিয়মিত ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা আয় করতাম।’

দূরে গেলে তো ভাড়া বেশি পান, এতে আয় বৃদ্ধি পাওয়া কথা- এমন কথা শুনে রেগে গিয়ে এ রিকশাচালক বলেন, ‘মানুষ দূরে গেলে সিএনজিতে যায়, মোটরসাইকেলে যায়। রিকশায় কেউ যেতে চায় না। গেলেও যাত্রীর সংখ্যা কম। এতে বেশি আয় সম্ভব না। লকডাউন খালি গরিবের কষ্ট।’

নুরুল ইসলামের আয় হিসাব করলে দেখা যায়, লকডাউনের কারণে তার আয় কমেছে ৫৫ থেকে ৬৩ শতাংশ।

মান্ডা এলাকার রিকশাচালক রফিক মিয়াও কথা বলেন একই সুরে। জানালেন আয় কমে যাওয়ার কথা। রফিক মিয়া বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ি যেমন নেই, তেমনই মানুষও অনেক কম। ইনকাম কেমনে হবে? আগে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা ইনকাম করতাম। এখন দিনে ৩০০-৪০০ টাকা কামাতেই জান বেরিয়ে যায়। কোনোমতে রিকশার জমার খরচ ওঠে।’ হিসাব অনুযায়ী রফিক মিয়ারও আয় কমেছে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ।

প্রায় একই চিত্র পাওয়া যায় মালিবাগের হাসান মিয়া, মৌচাকের ইয়াসিন ও খলিল মিয়ার বক্তব্যেও। তাদের দাবি, মার্কেট বন্ধ। কঠোর নিষেধাজ্ঞার খবরে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন। আগে ঢাকার বাইরে থেকে মানুষ আসতো। সরকারের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে রাস্তায়ও স্বাভাবিকের তুলনায় কম মানুষ আছে। গণপরিবহন হলেও যাত্রী অনেক কম। আয়ও কম।

রোববার (৩ এপ্রিল) লকডাউনের বিষয়টি উল্লেখ না করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সাত দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্দেশনা দেয় সরকার। যেখানে ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ মেনে চলার বিষয়ে বলা হয়েছিল।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com