বৃহস্পতিবার, ১৩ মে ২০২১, ১০:১১ অপরাহ্ন

রাজশাহী চার উপজেলা: জলাবদ্ধতা নিরসন, ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি ছাড়াও সেচ সুবিধা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ মে, ২০২১
রাজশাহী চার উপজেলা: জলাবদ্ধতা নিরসন, ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধি ছাড়াও সেচ সুবিধা

রাজশাহীর চার উপজেলার কৃষি নিয়ে বহুমুখি সমস্যার সমাধান হয়েছে কৃষকের। বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একটি প্রকল্প সম্পন্নের ফলে রাজশাহীর চার উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও পবা উপজেলায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার খাল-খাড়ি পুনঃখনন হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা নিরসনপূর্বক আবাদি জমি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রায় ১২ হাজার কৃষক পরিবার উপকৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

 

এছাড়া প্রকল্প এলাকার চাঁদপুর বিল, মুর্শেদপুর বিল, বেলঘরিয়া বিল, মাওথা বিল, মেরামতপুর বিল, কাঁকড়মারি বিল, শাহাপুর বিল, মহেন্দ্রা বিল, ছত্রগাছা বিল ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহ জলাবন্ধতামুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৮ কোটি টাকা (জিওবি) ব্যয়ে জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও পবা উপজেলায় কাজ সম্পন্ন করেছে। প্রকল্প এলাকায় ৩৫০ হেক্টর জমির সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের ফলে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে ৭ হাজার ৭০০ মে. টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন হবে। একদিকে জমি বেড়েছে, অন্যদিকে উৎপাদনও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এছাড়া পুনঃখননকৃত খালে ভূ-পরিস্থ পানির সংরক্ষণ, সেচ কাজে ব্যবহার ও ভূ-গর্ভস্থ পানির রিচার্জ বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। পাতকুয়া খননের মাধ্যমে কম পানিগ্রাহী ফসলের চাষ ও ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিমাত্রা ব্যবহার কমে যাচ্ছে। সেচ কাজে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার হচ্ছে। বনায়ন নীতিমালার আলোকে বৃক্ষরোপনও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- ৪ হাজার ৩৫ মিটার রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, ৮টি লাইট কালভার্ট, ৭টি ফুটওভার ব্রিজ ও ১ টি সুইচগেটসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০টি পাতকুয়া খনন, পানি বিতরণ ব্যবস্থা নির্মাণ ও সৌরশক্তি চালিত পাম্প স্থাপন। ১০টি ২.০ কিউসেক সৌরশক্তি চালিত এলএলপি পাম্প স্থাপন ছাড়াও প্রায় ৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও ঔষধি বৃক্ষরোপন করা হয়েছে।

সূত্রটি আরও বলছে- একসময় সাধারণত খাল-খাড়িসমূহ নিষ্কাশন নালা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু জলবায়ু, জনিত কারণে ও ক্রমান্বয়ে পলি পড়ে ক্রমে খাল-খাড়িগু ভরাট হয়ে যায়। কোথাও কোথাও খাস-খালগুলো এলাকার প্রভাবশালীগণ নিজেদের দখলে নিয়ে ঘরবাড়ি, দোকানপাট তৈরি, পুকুর খনন করে অবৈধভাবে দখল করায় পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে সেই নিস্কাশন খাল-খাড়ি জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করায় মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছিল।

এছাড়া জলবদ্ধতার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। জনগণের দাবিতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে খাল-খাড়ি পুনঃখনন করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিলে জমাকৃত অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশিত হয়ে খালে সংরক্ষিত হচ্ছে। এতে করে বৃষ্টির পানির সংস্থান বাড়ছে। এ পানি মানুষ সেচ কাজে ব্যবহার করতে পারছে। ফলে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবারের উপর চাপ হ্রাস পাচ্ছে। সংরক্ষিত পানির একটি অংশ ভূ-গর্ভস্থ পানির রিচার্জ বাড়াচ্ছে এবং পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তা করছে।

কৃষক মো. বিদ্যুৎ জানান- বেলঘরিয়া বিলে বৃষ্টির পানি হলে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এখন আর জলবদ্ধতার সম্ভাবনা নেই। ফলে এই জমিগুলোতে ইচ্ছেমতো কৃষকরা বিভিন্ন ফসল ফলাতে পারবেন। অপর কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন- জলবন্ধতার কারণে আখ ছাড়া অন্য ফসল তেমন ফলানো সম্ভব হতো না। এখন সেই সমস্যা থাকবে না। খাল খননের ফলে সংরক্ষিত পানি সেচ কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে করে শুষ্ক মৌসুমেও সেচের সমস্যা থাকছে না।

বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসমাম জানান- এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকাবাসী উপকৃত হচ্ছে। এখন এলাকার বিভিন্ন স্থানের জলাবন্ধতা নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। এতে করে একদিকে জলবন্ধতার ও সেচ সমস্যার সমাধান হলো। ফলে হাজারও মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা লাঘব হলো।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com