শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০২:২১ অপরাহ্ন

মনোনীত প্রার্থীদের পোস্টারে নেই জিয়া, খালেদা! ক্ষোভ বিএনপিতে

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে কোথাওই যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না জিয়া পরিবারকে। যদিও ইতোমধ্যে শত শত কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য সেরেছে পরিবারটি। তা দিয়ে লন্ডনে পলাতক তারেকের আরাম আয়েশের ব্যবস্থা হলেও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার ব্যবস্থা হয়নি।

এমনিতেই বিএনপি পার করছে স্মরণকালের ভয়াবহতম দুঃসময়। নিজেদের শাসনামলের সন্ত্রাস-দুর্নীতি ও জঙ্গীবাদের দায় আজও বয়ে বেড়াচ্ছে দলটি। আর স্বাভাবিকভাবেই এসব অপকর্মের জন্য জিয়া পরিবার হয়েছে ঘৃণিত। কেননা, বিএনপির কর্ণধার হিসেবে দলটির নিয়ন্ত্রণ এই পরিবারের হাতেই। যদিও সম্প্রতি জিয়া পরিবারকে মাইনাস করতে বিএনপির ভেতর থেকেই একটি আলাদা শক্তিশালী বলয় গড়ে উঠেছে।

বিএনপির নাজুক অবস্থা দিন দিন হয়েছে নাজুকতর। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খড়কুটো ধরেই বাঁচতে চাইছে তারা। এ যাত্রায় তারা পাশে পেয়েছে একদল দলছুট ক্ষমতালোভী খোকা বাবুদের।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একেবারেই সন্নিকটে। রাজাকার-যুদ্ধাপরাধী, দাগী আসামী, জঙ্গীরাও পেয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন। জামায়াত, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জেএসডি, বিজেপি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামসহ বেশকিছু দল মাঠের লড়াইয়ে আছে ধানের শীষ প্রতীক নিয়েই।

তবে ঝামেলা বেঁধেছে অন্য জায়গায়। এসব দলের প্রার্থীদের অনেকেই জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া বা তারেকের ছবি ব্যবহার করতে চাচ্ছেন না। এর কারণ হিসেবে একাধিক প্রার্থীর সমর্থকেরা বলেন, পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে আমরা বিএনপির প্রতীক নিয়েছি। এতে ভোট কতটুকু পাই, তা নিয়ে সংশয় আছে। তার ওপরে জিয়া, খালেদা বা তারেকের ছবি ব্যবহার করলে জামানত বাজেয়াপ্তের শঙ্কা থাকবে।

এমনিতেই তারা তুমুল বিতর্কিত। দু’জন তো সাজাপ্রাপ্ত আসামী। তাদের ছবি ব্যবহারের প্রশ্নই আসেনা।

কর্মীদের এমন মনোভাবের প্রতিফলন নির্বাচনী পোস্টারেও দেখা যায়। মৌলভীবাজার-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সুলতান মো. মনসুর আহমেদ। তিনি তার পোস্টারে প্রথম দফায় জিয়া, খালেদা বা তারেকের ছবি ব্যবহার করেননি। এ নিয়ে তুমুল ক্ষোভ দেখা দেয় বিএনপিতে। নেতাকর্মীরা বলতে থাকেন, সুলতান মনসুর যদি জিয়া পরিবারকে এতোই ঘৃণা করেন, তাহলে ধানের শীষ প্রতীক কেন নিলেন! বিএনপি নেতাকর্মীরা সুলতান মনসুরকে হুমকি দিতেও শুরু করেন।

অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি দ্বিতীয় দফার পোস্টারে খালেদা জিয়ার ছবি সংযুক্ত করেন। তাতেও ক্ষোভ কমেনি বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের। তারা জিয়াউর রহমান ও তারেকের ছবিও যুক্ত করার দাবীতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। সবমিলিয়ে এই আসনে সুলতান মনসুর ও বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে আছে। উত্তপ্ত এ পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী রেজা কিবরিয়াও অগ্রাহ্য করেছেন জিয়া পরিবারকে। তিনি তার পোস্টারে এই পরিবারের কারো ছবি রাখেননি। রেজার এমন আচরণে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা রয়েছেন মারমুখী অবস্থায়। তারা ইতোমধ্যে রেজা কিবরিয়াকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন।

নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াত ইসলামী জোটের শরিক বিএনপির ধানের শীষেই ভোটে নেমেছে। কিন্তু পোস্টারে দলটি জোটের প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার ছবি বা নাম ব্যবহার করছে না। এ নিয়ে বিএনপিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিএনপি এবার মোট ২২ আসনে জামায়াতকে ছাড় দিয়েছে। এর মধ্যে ২১টিতে জামায়াতের প্রার্থী ধানের শীষ এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।

বিষয়টি জানতে পেরে অবাক হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কর্মীরা যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, তার সঙ্গে আমি একমত। আমারও ভাষ্য, যেহেতু তারা ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন, তাদের তো জিয়া পরিবারের ছবি ব্যবহার করা উচিত ছিল। এটা ঠিক হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক প্রার্থী আছেন কারাগারে। কেউ কেউ আত্মগোপনে। সাতক্ষীরায় জামায়াতের দুই প্রার্থী ভোট চেয়েছেন স্থানীয় চারটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। সেখানে তারা কেউই জিয়া পরিবারের কারো ছবি ব্যবহার করেননি।

জামায়াতের প্রার্থীদের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ কারণে বেশির ভাগ আসনেই শরিক দলের প্রার্থীদের পাশে নেই তারা।

খুলনা-৬ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামাতে নানা অনুনয়-বিনয় করছেন জামায়াতের নেতারা। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না।ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসানুল বান্না বলেন, ‘যারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি পোস্টারে ব্যবহার করছেন না, তারা চরম ভুল করছেন। যার মার্কা ছাড়া নিজেদের কোনো অস্তিত্ব নেই, তাকেই অবজ্ঞা করছেন।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থীও তার পোস্টারে জিয়া পরিবারের কাউকে রাখেননি। এ আসনে বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনির হোসাইন কাশেমীকে ধানের শীষ প্রতীক দেয়। কাশেমীর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম একটি ধর্মভিত্তিক দল। এ দলের কর্মী সমর্থকেরা পোস্টারে বিতর্কিত জিয়া বা খালেদার ছবি রাখতে নারাজ। তাই কাশেমীও সে পথে পা বাড়াননি।

কাশেমীর এমন আচরণের ফলে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কাউকেই তার পাশে দেখা যাচ্ছেনা। বরং নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাশেমীর তুমুল সমালোচনায় মুখর রয়েছেন। তারা হুমকি দিয়েছেন যে, জিয়া পরিবারের ছবি ব্যবহার করা না হলে কাশেমীকে প্রকাশ্যে লাঞ্চিত করা হবে। এ হুমকির ফলে কাশেমীকেও ভোটের মাঠে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তিনি পোস্টার ছাপিয়েই আপাতত দায় সেরেছেন। যোগাযোগ করেননি বিএনপির স্থানীয় কোনো নেতার সাথেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গণফোরাম ও এলডিপির নেতারাও তাদের পোস্টারে জিয়া, খালেদা বা তারেকের ছবি ব্যবহারে ইতস্তত বোধ করছেন। তাদের যুক্তি, ‘বিতর্কিত কারো অপকর্মের বোঝা আমরা নিতে পারবো না’। তবে ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ যুক্তি প্রযোজ্য হবে কিনা, তার সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
সুত্র:বাংলা আমরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com