রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের আছে উন্নয়ন, বিএনপির প্রচারণায় ‘দিল্লিকা লাড্ডু’

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮

বাংলা আমার ডেস্ক : সংসদ নির্বাচনের আর খুব বেশিদিন বাকি নেই। আর মাত্র তিন সপ্তাহের মতো সময় জাতীয় নির্বাচনের। দেশবাসীর মনে বইছে ভোট উত্তেজনা। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মাঝেই বেশি লক্ষ্যণীয়। যেখানে দেশের সর্বস্তরের জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য নিজদের পছন্দের দেশের পরবর্তী নেতৃত্ব আনবে। এরইমধ্যে নির্বাচন কমিশন মনোনয়ন যাচাই বাছাই শেষে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যব্যবস্থাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা নির্দিষ্ট দিনটিতে অনুষ্ঠিত ভোট যুদ্ধে জনগণের সহযোদ্ধা হওয়া।

এদিকে নির্বাচনে প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোটারদের মন জয় করতে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। প্রার্থীতা ও প্রতীক পেয়ে কেউ নিজের ও দলের প্রচারণায় ব্যস্ত। কেউবা প্রার্থীতা না পেয়েও দলকে সঙ্গ দিচ্ছে। জনগণের একটি ভোট পাওয়ার আশায় নিজেদের অতীত উন্নয়ন উপস্থাপনের পাশাপাশি আশ্বাস দিচ্ছেন জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তাদের ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার।

আর এই প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও পিছিয়ে নেই। স্বশরীরে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌছে কিংবা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করছে প্রচারণায়। যেখানে সরকারপক্ষ তাদের গত টানা দুই মেয়াদে দেশের প্রতিটি সেক্টরের (বিভাগে) উন্নয়নের চিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলছে।

তবে প্রচারণার ক্ষেত্রে আ.লীগের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির উন্নয়নের কোটা যেনো একেবারেই শূণ্য। কারণ বিএনপির ক্ষমতার মেয়াদে সরকারি পর্যায়ে প্রতিটা ক্ষেত্রেই তাদের দুর্নীতির মাত্রা সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর সে সকল দুর্নীতি ও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে অদৃশ্য চাদরে লুকিয়ে সরকারের সমালোচনাকে পুঁজি করেই জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টায় রয়েছে বিএনপি নেতারা।

আওয়ামী লীগের আছে উন্নয়ন
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট তার পূর্বের বিএনপি সরকারকে বিপুল ভোট ও আসনের ব্যবধানে পরাজিত করে সরকার গঠন করে। এরপর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে বিএনপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বচনে অংশ নেয়নি। যেখানে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে আ. লীগ। আর এই দুই মেয়াদে বিএনপির সরকারের গড়ে যাওয়া ‘বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুঁড়ি’ অপবাদ ঘুচিয়ে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনে বহুমুখি অবদান রাখে হাসিনা সরকার। সেই সাথে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরিত করে প্রযুক্তি জনগণের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসার বিষয়টি অন্যতম।

শুরুর দিকে ডিজিটাল শব্দটি নিয়ে অনেকে ঠাট্টা-মশকরা করলেও সময়ের গড়ানোর সাথে সাথে দেশের মানুষ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ মূল্য উপলব্ধি করতে পারে। যেখানে গত দশ বছরের সরকারের বিচক্ষণ কর্মপরিকল্পনায় জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূল, যুদ্ধপরাধীদের বিচার, শিক্ষা, বিজ্ঞান, বেকারত্ব কমিয়ে আনা, সড়ক ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, খাদ্য, ব্যবসায় প্রভৃতি শাখায় অগ্রগতি ফলাফল দেখে সমালোচকদের মুখেও যেনো কুলুপ আটে।
আর এসব সাফল্যই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিজিটাল বাংলাদেশের কারিগর শেখ হাসিনার অবলম্বন।

বুধবার স্বাধীন বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে সাধারণ প্রার্থীর বেশেই নিজের সংসদীয় আসন থেকে প্রচারাভিযান শুরু করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন দল আ. লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। তবে এরই মধ্যে জনগণ প্রধানমন্ত্রীর এবারের নির্বাচনী ইশতিহারের পূর্বানুমান করতে পারছে।
সরকারদলীয় শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রে এবারের ইশতেহারের অন্যতম মৌলিক পয়েন্ট হলো- গত দশ বছরে সরকার অধীনে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণের যে যোগ্যতা অর্জন করেছে সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে গ্রামগুলোতেও শহরের মতো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা।

বিএনপির প্রচারণায় ‘দিল্লিকা লাড্ডু’
আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে পরিচিত বিএনপির প্রচারণার ধরণ অনেকটা ‘দিল্লিকা লাড্ডু’র মতো। জনশ্রুত একটি প্রবাদ আছে, “দিল্লিকা লাড্ডু যে খাবে সে পস্তাবে, যে না খাবে সেও পস্তাবে।” ক্ষমতার মেয়াদে বিশ্বব্যাপী দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিন করার মতো নিম্নমানের কাজের দিশারী বিএনপির জনসমর্থন অনেকটা সেরকমই।
বিএনপির সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দশ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে জেলে রয়েছে। তার বড় ছেলেও একাধিক দুর্নীতি-লুণ্ঠন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। সাজা ভোগের ভয়ে জিয়া পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে ফেরারি আসামী হয়ে প্রায় এক যুগ ধরে যুক্তরাজ্যে পালাতক রয়েছে।

বিএনপি সরকারের বিগত মেয়াদে তাদের নেতাকর্মীদের অপরাধ ও দর্নীতির বিষয়গুলো যারা এরই মধ্যে বিচক্ষণতার সাথে উপলব্ধি করেছেন, তারাও বুঝতে পেরেছেন যে “দিল্লিকা লাড্ডু সেদিন কেন যে খেলাম!” যার অর্থ দাঁড়ায়, বিএনপিকে তখন ভোট দেয়াতেই তারা দেশের উন্নয়নের বদলে বরং দেশের মানুষের আস্থা-বিশ্বাস, সম্পদ ও অর্থ লুটেপুটে খেয়ে নিয়ে দেশকে পিছিয়েছে শতবছর।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনে সারাবিশ্বের কাছে যে বাংলাদেশ অনুকরনীয় ও সম্মানীত হয়, সেখানে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ সুনাম অকল্পনীয় নিচে নেমে যায়। তৎকালীন উন্নয়নশীল দেশে থেকে শুরু করে উন্নতদেশগুলো ‘বাংলাদেশকে তলা বিহীন ঝুঁড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বিএনপি সরকারের এক একজন সাংসদ ও মন্ত্রীরা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ-লুণ্ঠন ও পাচার, হত্যা, গুম, জঙ্গি ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদসহ নানা কৃতকর্মের সাথে জড়িয়ে যায়। বনানীর তৎকালীণ ‘হাওয়া ভবনে’ বসে জিয়া পুত্র তারেক দুর্নীতির ‘মাস্টার প্ল্যান’ করে তা পরিচালনা করতো বলে এরই মধ্যে আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে। আর সেই নেতারাই আজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণকে আশার বানী শোনাচ্ছে। যেখানে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তারেক রহমানের রমরমা মনোনয়ন বাণিজ্যের জেরে বিএনপির ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা একে একে বিএনপির থেকে পদত্যাগ করছে।

সূত্র জানায়, দলটির অনেক সমর্থক আবার তারেক রহমানের এ ধরণের দ্বিমাতাসুলভ আচরণের ক্ষোভ ঝাড়তে নিজেদের দলের অন্য নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু দলটির কেন্দ্রবিরোধী দলগুলোর ওপর সে হামলার দায় চাপাচ্ছে।
সুত্র:বাংলা আমার।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
15161718192021
22232425262728
293031    
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com