সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

যে কারণে মা হতে চান না চীনা নারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১
  • ৭ বার পাঠিত
যে কারণে মা হতে চান না চীনা নারীরা

সাম্প্রতিক আদমশুমারি অনুযায়ী উদ্বেগজনক হারে কমছে চীনাদের সন্তান জন্মের হার। এ পরিস্থিতি তাদের জন্য এতটাই উদ্বেগের যে বিশেষজ্ঞরা চীনে জন্মনিয়ন্ত্রণ নীতির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জন্মহার কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসাবে নারীদের মা হতে চাওয়ার অনীহাকে দায়ী করেছেন তারা।

একটি জরিপ কার্যক্রমের ভিত্তিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে নতুন প্রজন্মের অনেক নারীই সন্তান নিতে অনিচ্ছুক।

বেইজিংয়ের এমনই এক নারীর নাম লিলি (ছদ্মনাম)। দুই বছর হলো বিয়ে হয়েছে লিলির। ৩১ বছর বয়সি এ নারীর এখন পর্যন্ত মা হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি বলেন, ‘মায়েরা সবচেয়ে ভালো মা হতে পারছেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। সন্তানকে কীভাবে ভালো স্কুলে ভর্তি করাবেন, তা নিয়ে চিন্তা থাকে। সন্তান লালনপালনের ব্যয়ভার নিয়েও হিমশিম অবস্থা থাকে। পেশাগত জীবনেও প্রভাব পড়ে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ খারাপ থাকে। সার্বক্ষণিক এসব উদ্বেগ এড়াতে চাই আমি। জীবনটাকে উপভোগ করতে চাই।’

সন্তান লালনপালন নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক সুবিধা থাকলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত বলে মনে করেন লিলি। হয়তো নিজের ক্ষেত্রেও।

এ মাসের শুরুতে চীনে প্রকাশিত আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে এক কোটি ২০ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। ২০১৬ সালে দেশটিতে এক কোটি ৮০ লাখ শিশুর জন্ম হয়। ১৯৬০-এর দশকের পর চীনে সবচেয়ে কমসংখ্যক শিশুর জন্ম হয়েছে গত বছর।

এমন জরিপের পর শিগগিরই জনসংখ্যা নিয়ে সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে চীন। এমনটা ঘটলে চীনের জনসংখ্যায় তরুণদের চেয়ে বয়স্কদের সংখ্যা বেশি হতে পারে। তখনই বয়স্কদের জীবনধারণগত নতুন এক সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের সামাজিক পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। কারণ, বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে পাওয়া চীনের পুরুষদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পুরুই পারিবারিক জীবন শুরুর কথা ভাবতে পারছেন না।

আদমশুমারির তথ্য বলছে, গত বছর দেশটিতে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা তিন কোটি ৪০ লাখ নয় হাজার বেশি ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সন্তান নীতি থেকে সরে এলেও চীনে শিশুদের শিক্ষা বা সামাজিক সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো পরিকল্পনা নেয়নি। আর্থিক কোনো প্রণোদনাও দেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, জীবনযাপনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় চীনে শিশুদের লালনপালনের ব্যয়ভার অনেকেই নিতে চান না। জরিপে অংশ নেওয়া লিলির ক্ষেত্রেও হয়তো এমনটাই ঘটেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
   1234
19202122232425
2627282930  
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com