শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন

তরুনদের উদ্দ্যেগে প্রতিষ্ঠিত সিংড়ায় মজার স্কুলে শিশুদের মজা শেখানো হয়

তরুনদের উদ্দ্যেগে প্রতিষ্ঠিত সিংড়ায় মজার স্কুলে শিশুদের মজা শেখানো হয়

রাজু আহমেদ, সিংড়া(নাটোর) ঃআমাদের মজার স্কুল”, একটি স্বেচ্ছাসেবি স্কুল। সিংড়া উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে পৌর এলাকার স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে খোলা আকাশের নিচে চলে আমাদের মজার স্কুল এর ক্লাস। ২০১৭ এর ৬ জানুয়ারি মাত্র ৩০ জন শিশু নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ স্কুলটি। শিশুদের নীতি নৈতিকতা, আচার আচারন, মুক্তিযোদ্ধা,দেশপ্রেম সম্পর্কে শিক্ষা দেয়ার জন্য তরুনদের সেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত মজার স্কুল। উদ্দ্যোক্তারা চান শুধু সিংড়ায় নয় বাংলাদেশের প্রত্যকটি উপজেলায় তরুনরা একটি করে মজার স্কুল গড়ে তুলুক, যাতে করে শিশুদের প্রতিভার বিকাশে সহায়ক হয়।

 
বর্তমানে শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩০০। ধনী গরিব সকল শিশু এক সারিতে বসে এখানে সব কিছু শেখে আর মজা করে। এ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সিংড়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের আলোকিত মুখ চঞ্চল মাহমুদ সংগ্রাম।তিনি বলেন, “শিশুদের বাধাধরা সিলেবাসে বা চাপ দিয়ে নয়, শিশুদের শেখাতে হবে মজা করে আনন্দ বিনোদনের মধ্য দিয়ে। এখানে বর্ণমালা, অভিনয়ের মাধ্যমে ছড়া বলা, নৈতিক গল্পের মাধ্যমে নৈতিকতা, বাবা,মা গুরু জনের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশপ্রেমসহ ভাল ভালো অভ্যাস শেখানো হয়। ক্লাস চলে সপ্তাহে দুদিন, মঙ্গলবার ও শুক্রবার। প্রতিদিন ক্লাসের শেষে শিশুদের দেওয়া হয় কেক, বিস্কুট অথবা চকলেট।

 
প্রতিষ্ঠাতা চঞ্চল মাহমুদ সংগ্রাম আরো বলেন, নিজের উপার্জিত অর্থের কিছু অংশ অর্থাৎ টিউশনের টাকা দিয়ে খরচ চালাই । এজন্য আমাকে অনেক গুলো টিউশনি করাতে হয়। তবে কখনো কেউ কেউ বাচ্চাদের জন্য চকলেট বা কেক নিয়ে স্কুল দেখতে আসে। দিনদিন স্কুলের খরচ বেড়েই চলেছে। কেউ অর্থনৈতিক সহযোগীতা করলে আমাদের সুবিধা হবে। কারন শিশুদের ক্লাস শেষে কিছু না দিলে তাদের আনন্দে ভাটা পড়ে, এজন্য ক্লাস শেষে তাদের আনন্দের অংশিদার হতে পারে যে কোন অভিভাবক, কিংবা আমাদের বন্ধু হিসেবে যে কেউ মজার স্কুলের পাশে দাঁড়াতে পারেন। শিশুদের জন্য রয়েছে বেশ কিছু খেলনা, যা নিয়ে শিশুরা আনন্দে মেতে থাকে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে শিশুদের বিভিন্ন শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখানো হয়।

তবে সিংড়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি শিশুদের বিনোদনের সুবিধা এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।তিনি প্রজেক্টরসহ খেলাধুলার সামগ্রী দিয়েছেন, এতে করে শিশুদের বিনোদনের চাহিদা পুরন হয়েছে। এছাড়া মজার স্কুলে প্রতিমন্ত্রী পলকের সহধর্মিণী আরিফা জেসমিন কনিকা, সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো: জান্নাতুল ফেরদৌস তিনিও মজার স্কুল পরিদর্শন করেছেন ও সহযোগিতা করেছেন।

 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিংড়া পৌরসভার স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে ক্লাস চলছে মজার স্কুলের শিশুদের। সবার মাঝে আনন্দ, একসাথে এতগুলো সাথীকে পেয়ে খুশি তারা। ধনী,গরীব কোন ভেদাভেদ নাই, সবাই এক কাতারে, শিশুদের মায়েরা দুর থেকে শিশুদের কার্যক্রম দেখছেন, তারা নিজ নিজ শিশুদের উৎসাহ যোগাচ্ছেন। তাদের বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আকতার বানু নদী, লিরা জামানসহ কয়েকজন অভিভাবক জানালেন, মুলত প্রি প্রাইমারী হিসেবে মজার স্কুল থেকে তাদের শিশুরা মানসিকভাবে তৈরি হচ্ছে। যা একেবারে নতুনত্ব, তরুনদের এ উদ্দ্যেগ প্রশসংনীয়। ক্লাসে আসার জন্য শিশুদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের না আনলে মন খারাপ করে, কান্না করে, এখান থেকে শিখে বাড়িতে গিয়ে তারা চর্চা করে, যেটা অনুপ্রেরণা দেয়। শিশুদের আগ্রহে প্রতি সপ্তাহে তাদের মজার স্কুলে নিয়ে আসতে হয়।

 
আমাদের মজার স্কুল’ নিয়ে অনেক বেশি আশা ও স্বপ্ন আছে তাদের “। ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে চলছে “আমাদের মজার স্কুল”। সত্যি ব্যতিক্রমধর্মী একটি স্কুল এটি, যা বাংলাদেশে প্রথম। এই স্কুলটিকে আরও এগিয়ে নিতে ধনী, সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কারণ “আমাদের মজার স্কুল” স্বপ্ন দেখে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে শিশুদের পৌছে দিবে আগামীর পথে। তারা ছোট থেকেই স্বপ্ন দেখবে নিজেকে তৈরি করার, নিজের প্রতিভার প্রমান দেবার।

 


©2014 - 2018. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Design & Developed BY ThemesBazar.Com