সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৯ অপরাহ্ন

ইতিহাসের ৭৬তম হিরোশিমা দিবস আজ

ভাস্কর সরকার (রাবি):
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১
ইতিহাসের ৭৬তম হিরোশিমা দিবস আজ

‘সংঘাত নয় শান্তি’ এই মূল মন্ত্রকে সামনে রেখে যুগে যুগে মানুষ বাসযোগ্য পৃথিবীতে শান্তির পথ খুঁজেছেন চিরদিন৷ কিন্তু জাতি-ধর্ম, নারী, বর্ণ, রাজনীতি কিংবা অর্থের মোহের বশে গোঁড়ামি এবং লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্ষমতার রোষানলে পড়ে বারংবার শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে এই পৃথিবীতে৷ আসলে ভার্সাই চুক্তির ফলে ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের সমাপ্তি ঘটার পর রাজনৈতিক প্রতিশোধের তীব্র রূপ দেখা দিলে জার্মানিতে আরেকটি যুদ্ধের দানা বাঁধতে শুরু করে।

 

মূলত ১৯৩৩ সালে অ্যাডলফ হিটলার ও তার নাৎসি পার্টির জার্মানির রাজনৈতিক অধিগ্রহণ এবং এর আগ্রাসী বৈদেশিক নীতি; এবং ক্ষুদ্র পরিসরে কারণ ছিল ১৯২০-এর দশকের ইতালীয় ফ্যাসিবাদ এবং ১৯৩০-এর দশকে জাপান সাম্রাজ্যের চীন প্রজাতন্ত্রের আক্রমণ। জার্মানি ও জাপানের স্বৈরশাসকেরা এই সামরিক আগ্রাসনমূলক পদক্ষেপ নেবার পর অন্য দেশগুলি যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং সামরিক প্রতিরোধ শুরু করে। ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটে এবং ১৯৩৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৫ সালের ৬ই আগস্ট সকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী জাপানের হিরোশিমা শহরের ওপর ‘লিটল বয়’ নামের নিউক্লীয় বোমা ফেলে৷ ঘড়ির কাঁটায় তখন জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিট। এর তিন দিন পর নাগাসাকি শহরের ওপর ‘ফ্যাট ম্যান’ নামের আরেকটি নিউক্লীয় বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

আজ সেই ভয়াল ৬ আগষ্ট; পৃথিবীর ইতিহাসে বিভৎস, জঘন্যতম ও লজ্জাজনক কালো অধ্যায় ‘হিরোশিমা দীবস’৷ যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষেপ করা পরমাণু বোমা হামলায় কেঁপে উঠেছিল জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি। মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২৯ যুদ্ধবিমান থেকে হিরোশিমা শহরে লিটল বয় নামে যে পরমাণু বোমাটি ফেলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে জাপানের প্রায় দেড় লাখ মানুষ নিহত হন। মাটির সঙ্গে মিশে যায় শহরের বেশিরভাগ স্থাপনা। নিমিষেই সাজানো একটি নগরী ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়। বোমা হামলার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় তেজস্ক্রিয়তার কারণে বছর শেষে আরও ৬০ হাজার মানুষ মারা যান।

পরবর্তিতে ৯ আগস্ট জাপানের নাগাসাকি শহরে ‘ফ্যাটম্যান’ নামে আরেকটি যে শক্তিশালী পরমাণু বোমা ফেলা হয় এতে নাগাসাকির প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ নিহত হন। এছাড়া, তেজস্ক্রিয়তার কারণে সৃষ্ট রোগে হিরোশিমা এবং নাগাসাকিতে চার লাখের মতো মানুষ মারা যান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে হিরোশিমাকে ‘শান্তির শহর’ ঘোষণা করা হয়। হিরোশিমায় নির্মাণ করা হয় শান্তির স্মৃতি পার্ক। এরপর থেকে প্রতিবছর ৬ আগস্ট শোক ও বেদনার মধ্য দিয়ে দিনটিকে স্মরণ করে বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসী। একইসঙ্গে এদিন যুদ্ধবিরোধী প্রচার প্রচারণা চলে এবং পারমাণবিক বোমামুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয় নেওয়া হয়।

পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও পরিশ্রমী জাতি হলো জাপানিজ৷ একটি বিধ্বস্ত শহর কীভাবে ধ্বংসযজ্ঞ থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ জাপান। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক হিরোশিমা ভ্রমণে যান। পরমাণু বোমা হামলার পর যে শহর সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, সেই শহর এখন সবুজ গাছপালা আর ছায়ায় ভরা৷ পরিষ্কার- পরিছন্ন রাস্তাঘাট, প্রযুক্তির উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী ও গগনচুম্বি দালানকোঠা দেখে মনেহয় যেনো পরমাণু বোমা হামলার সেই ভয়াবহতাকে প্রতিনিয়ত ভুলে থাকতে চায় জাপানিজরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
18192021222324
252627282930 
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com