মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

নাসির-অমির বিরুদ্ধে মাদক মামলায় চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিনে থাকা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিনে থাকা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একইসঙ্গে চার্জশিটে এজাহারনামীয় তিন নারী আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।

শনিবার আদালতের বিমানবন্দর থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক ফরিদ আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ২৭ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে এ চার্জশিট দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চার্জশিটের কোনো কার্যক্রম হয়নি।

আসামি নাসির ও অমির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১) এর টেবিল ২৪ (ক), ১০ (ক) এবং ৪১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা ও মাদক মামলায় নাসির জামিনে রয়েছেন। তবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেও মাদক মামলায় অমি কারাগারে আটক রয়েছেন। আর অভিযোগপত্রে অব্যাহতি দেওয়া তিন আসামি হলেন- লিপি আক্তার, সুমি আক্তার ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগে সাভার মডেল থানায় পরীমনি বাদী হয়ে নাসির উদ্দিন মাহমুদ, অমিসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর একইদিন দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডের বাসা থেকে নাসির-অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তখন সেখান থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গুলশান জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার সিকদার। এরপর এ মামলায় গত ১৫ জুন আদালত ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তুহিন সিদ্দিকী অমির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়াও অপর তিন আসামি লিপি আক্তার, সুমি আক্তার ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধাকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৩০ জুন বিমানবন্দর থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় নাসির উদ্দিনসহ অপর তিন আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নাসিরসহ চারজনের পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।

চার দশক ধরে আবাসন ব্যবসায় যুক্ত নাসির উদ্দিন মাহমুদ নাসির ইউ মাহমুদ নামেই পরিচিত। তিনি ঢাকা বোট ক্লাবেরও সদস্য। তিন দফায় উত্তরা ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এ ছাড়া এই ব্যবসায়ী জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি বোট ক্লাবে পরীমনিকাণ্ডে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। এদিকে অপর আসামি অমিও ক্লাবপাড়ায় একজন পরিচিত মুখ। আশকোনায় তার মালিকানাধীন ‘সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নারী পাচার করে প্রচুর অর্থ উপার্জনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

কে এই অমি?

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অমির গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সেখানে অনেক সম্পদ গড়েছেন তিনি। অবৈধভাবে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হওয়ায় বনে গেছেন প্রভাবশালী। এসএসসির গণ্ডি পেরোতে না পারা অমির রাজধানীর বিভিন্ন ক্লাবে আনাগোনা ছিল নৈমিত্তিক। বাবা তোফাজ্জল হোসেন একসময় বিদেশে ছোটখাটো চাকরি করতেন। এরপর দেশে ফিরে রাজধানীর আশকোনায় ‘সিঙ্গাপুর ট্রেনিং সেন্টার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন।

ওই ট্রেনিং সেন্টারের আড়ালে অমি নারী পাচার চক্রে জড়িয়ে পড়েন বলে অনেকে জানিয়েছে। শত শত কর্মী বিদেশে পাঠিয়ে ও প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিকও হন তিনি। রাজধানীতে তাদের (অমি ও তার পরিবারের) একাধিক সুরম্য বাড়ি ছাড়াও উত্তরা ও আশকোনায় একাধিক বাড়ি ও প্লট রয়েছে। এসব এলাকায় তাকে একনামে চেনে সবাই।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক একজন মহাসচিবের সঙ্গে অমির দারুণ সখ্যের কথাও জানা যায়। এই সখ্যের সুবাদে অমি তার জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান আইএসএমটির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় একচেটিয়া কর্মী পাঠানোর সুযোগ পান। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়াভিত্তিক মানব পাচারকারী চক্রের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ আছে। মালয়েশিয়ার একজন অতি বিতর্কিত জনশক্তি ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ সুবিধা দিয়ে অমি হয়ে ওঠেন এই চক্রের ঘনিষ্ঠজন।

অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে সেকেন্ড হোমও গড়েছেন অমি। দক্ষিণখানে একটি রিসোর্টের আড়ালে প্রায় প্রতিদিন মদ-জুয়ার আসর বসাতেন। বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসার অভিযোগও আছে। অমি একসময় ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বাবা তোফাজ্জল হোসেনও বিএনপির রাজনীতি করতেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তারা ভোল পাল্টে ফেলেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
18192021222324
252627282930 
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com