সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৯ অপরাহ্ন

ইউএনওর বাসভবনে হামলা : জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২১
ইউএনওর বাসভবনে হামলা : জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে গতকাল বুধবার রাতে হামলার ঘটনায় মামলা হচ্ছে। বাসভবনের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে হামলায় অংশ নেওয়া জড়িতদের নাম ও পরিচয় শনাক্তের পর এই মামলা হবে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

 

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে কয়েক দফায় এ হামলা চালানো হয়। ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ১৫-২০ জন পুলিশ সদস্য ও তিন আনসার সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা আরেকটি মামলা করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

জানতে চাইলে ইউএনও মুনিবুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিটি করপোরেশনের লোকজন অনুমতি ছাড়া সদর উপজেলা কমপ্লেক্সে ঢুকে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করতে শুরু করেন। এ সময় ইউএনওর নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের পরিচয় জানতে চান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে আসেন। বিষয়টি তিনি জানার পর সিটি করপোরেশনের লোকজনকে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনিক এলাকায় রাতে ব্যানার উচ্ছেদ বা অপসারণ অভিযান না চালাতে অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে অপসারণ অভিযান চালাতে থাকেন। এ সময় আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

পরে সিটি করপোরেশনের লোকজনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা যোগ দেন। এরপর সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ক্ষিপ্ত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলা করেন। এ সময় হামলা থেকে রক্ষা পেতে আনসার সদস্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা রাবার বুলেট ছোড়েন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান আহেমদ ওরফে বাবুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সহসভাপতি আতিকুল্লাহ খান মুনিম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব খান, সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতসহ শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে যান। এ সময় নেতাকর্মীরা ইউএনওর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। বাসভবনের গেট ভেঙে নিচতলায় ঢোকার চেষ্টা করেন।

সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে হামলাকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ অন্তত ৩০-৪০ জন আহত হন।

ইউএনওর বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডার আব্দুর রহমান গাজী জানান, ব্যানার ও পোস্টার সকালে অপসারণ করতে বললে সিটি করপোরেশনের লোকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের খবর দিয়ে নিয়ে এসে ইউএনও স্যারের বাসভবনে ঢুকতে চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিলে তার মুখে একজন ঘুষি মারেন। তাদের হামলায় বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত তিন আনসার সদস্য ও স্থানীয় একজন আহত হন।

হামলার বিষয়ে ইউএনও মুনিবুর রহমান বলেন, ‌‘উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে শোক দিবস উপলক্ষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের ব্যানার-পোস্টার লাগানো ছিল। রাতে সিটি করপোরেশনের লোকজনের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব ছিঁড়তে আসেন। রাতে লোকজন ঘুমাচ্ছে জানিয়ে তাদের সকালে আসতে অনুরোধ করা হয়। এ কারণে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন।’

তিনি বলেন, ‘কয়েকশ নেতাকর্মী রাত সোয়া ১০টায় বাসভবন ঘেরাও করে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এরপর তারা আমার বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বাসভবনের গেট ভেঙে নিচতলায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। বাসায় বৃদ্ধ বাবা-মা করোনায় আক্রান্ত। তারা বাবা-মাকেও গালাগাল করতে থাকেন।’

ইউএনও আরও জানান, তাকে রক্ষা করতে আনসার সদস্য রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন। তাদের গুলিতে ফারুক আহম্মেদ নামের একজন আনসার সদস্য আহত হন। এ ছাড়া তাদের হামলায় আনসার বাহিনীর জেলা অ্যাডজুটেন্ট আম্মার হোসেন ও বাহিনীর প্লাটুন কমান্ডার আব্দুর রহমান গাজীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সাংবাদিকদের জানান, রাতে ব্যানার-পোস্টার অপসারণে সমস্যা কী জানতে ইউএনওর বাসভবনের দরজায় ঢুকতে গেলে আনসার সদস্যরা গুলি চালান। এরপর তারা ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে গুলি চালানোর কারণ জানতে আবার ইউএনওর বাসভবনে গেলে আবার গুলি করা হয়। এরপর পুলিশ এসে লাঠিচার্জ শুরু করে। গুলি ও লাঠিচার্জে প্যানেল মেয়রসহ অন্তত ২০-২৫ জন নেতাকর্মী আহত হন।

ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ সেরনিয়াবাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেখানে গুলি চালানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। কিন্তু আনসার সদস্যরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছেন। এতে অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, পুরো বিষয়টি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারা অন্যায় করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) ফজলুল করিম জানান, ইউএনওর অফিস ও বাসভবন সংরক্ষিত এলাকা। সেখানে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা ঠিক হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে মাহমুদ হাসান বাবু নামের একজনকে আটক করার কথা জানান তিনি।

সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলা ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হতে পারে বলেও জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
18192021222324
252627282930 
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com