রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

কিছু মানুষ উপহারের ঘর হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙেছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দেওয়া উপহারের ঘর কিছু মানুষ হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে ভেঙে তা গণমাধ্যমে প্রচার করেছে

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের দেওয়া উপহারের ঘর কিছু মানুষ হাতুড়ি ও শাবল দিয়ে ভেঙে তা গণমাধ্যমে প্রচার করেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, যারা এই ঘরগুলো ভেঙেছে তাদের নামের তালিকা তার কাছে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবনে তার সভাপতিত্বে প্রায় এক বছর পরে আওয়ামী লীগের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব থেকে দুর্ভাগ্য হলো, আমি যখন সিদ্ধান্ত নিলাম প্রত্যেকটা মানুষকে আমরা ঘর করে দিবো, আমাদের দেশের কিছু মানুষ এত জঘন্য চরিত্রের, আমি কয়েকটা জায়গায় হঠাৎ দেখলাম যে, ঘর ভেঙে পড়ছে, কোনো জায়গায় ভাঙা ছবি ইত্যাদি। পরে পুরো জরিপ করালাম কোথায় কী হচ্ছে। সেখানে আমরা প্রায় দেড় লাখের মতো ঘর তৈরি করে দিয়েছি। ৩০০টি ঘর (ভেঙেছে) বিভিন্ন এলাকায় কিছু মানুষ নিজে থেকে যেয়ে হাতুড়ি, শাবল দিয়ে সেগুলো ভেঙে ভেঙে তারপর মিডিয়ায় সেগুলো ছবি তুলে দিচ্ছে। তাদের নামধাম এগুলো একদম তদন্ত করে সবগুলো বের করা হয়ে গেছে। আমার কাছে যে পুরো রিপোর্টটা আছে। মানে যারা, গরিবের জন্য ঘর করে দিচ্ছি, তারা এইভাবে যে ভাঙতে পারে, সেই ছবিগুলো দেখলে, দেখা যায়।’

ঘর ভেঙে পড়ার পেছনের কারণ মিডিয়া অনুসন্ধান করেনি অভিযোগ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘মিডিয়া এগুলো ধারণ করে প্রচার করে, তারা কিন্তু এটা কীভাবে হলো সেটা কিন্তু বের করে না।’

তদন্তে নয়টি জায়গায় দুর্নীতি পাওয়া গেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কয়েকটা জায়গায় গেছে, যেমন এক জায়গায় ৬০০ ঘর সেখানে হয়তো ৩/৪টা ঘর, ওই যে প্রবল বৃষ্টি হলো যখন এজন্য মাটি ধসে কয়েকটা ঘর নষ্ট হয়েছে। মাত্র ৯টা জায়গায় আমরা পেয়েছিলাম যেখানে কিছুটা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, মাত্র ৯টা জায়গায়।’

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি যে, প্রত্যেকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে। তারা মনে করেছে যাদের অফিসারদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আমাদের ইউএনও-ডিসি সমস্ত কর্মচারীরা ছিল তারা কিন্তু অনেকে নিজেরা এগিয়ে এসেছে এই ঘরগুলো তৈরিতে সহযোগিতা করার জন্য। যারা ইট তৈরি করে তারাও এগিয়ে এসেছে, অল্প পয়সায় তারা ইট দিয়ে দিয়েছে। এভাবে সবাই। সবার সহযোগিতা, আন্তরিকতাটাই বেশি। কিন্তু এর মধ্যে দুষ্টু বুদ্ধির কিছু, এটাই হচ্ছে সবচেয়ে কষ্টকর। যখন এটা গরিবের ঘর সেখানে হাত দেয় কীভাবে।’

 

নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ

নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাই হোক, আমরা সেগুলো মোকাবেলা করেছি তবে আমাদের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে আরও সতর্ক থাকা দরকার। আমাদের নেতাকর্মীরা সরজমিনে যাচ্ছে। সাথে সাথে আমাকে ছবি পাঠাচ্ছে। আমি সেটা দেখছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সাধারণত আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক দুই মাস বা চার মাস পরপর করতাম। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের সভা নিয়মিত করতে পারিনি। এটা করা সমীচীনও হতো না। এখন সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে, টিকাকরণও শুরু হয়ে গেছে। আমি মনে করলাম একটা সভা করা দরকার। তাছাড়া গতবার যেহেতু জাতিসংঘে সভায় যাইনি। এবার যাওয়ার একটা সুযোগ রয়েছে। আমি ভাবলাম তার আগে আমরা একটু বসি, আলাপ-আলোচনা করে নেওয়া।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, নির্বাচনও সামনে। সংগঠনটাও করতে হবে। এবারের করোনাভাইরাসের সময় দলের লোকেরা এবং সকল সহযোগী সংগঠন যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, আর কোনো রাজনৈতিক দলকে এভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখিনি। মূলত কেউ দাঁড়ায়নি। তাদের কোনো আগ্রহও ছিল না। প্রতিদিন টেলিভিশনে বক্তৃতা ও বিবৃতি দেওয়া। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগকে একটু সমালোচনা করা ছাড়া। তাদের একটাই কাজ ছিল আমাদের দোষারোপ করা। এটা ছাড়া আর কোনো কাজ মানুষের জন্য তারা করেনি বোধহয়।’

 

শক্তিশালী সংগঠন থাকায় করোনা মোকাবেলা সম্ভব হয়েছে

করোনার মোকাবেলায় সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘কখনো একটা সরকারের পক্ষে একা এই ধরনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব না। আমাদের পক্ষে এটা সম্ভব হয়েছে, তৃণমূল পর্যন্ত একটা শক্তিশালী সংগঠন থাকায়। এটা আমার বিশ্বাস। জানি এই কথা হয়তো অন্য কেউ লিখবেও না, বলবেও না। আমি শুধু বলবো এককভাবে শুধু সরকারি লোক দিয়ে সবকিছু সম্ভব হয় না।’

টিকা কেনার জন্য সরকার সবার আগে উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতে একটা সময় ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রমণ শুরু হলো, তা তারা আমাদের সরবরাহ করতে পারলো না। তারপর আমরা যেখান থেকে, যেভাবে পারি টিকা সংগ্রহ করি। এখন আর সমস্যা হবে না। আমরা নিয়মিত টিকা পাবো। মানুষকে টিকা দিতে পারবো।’

করোনার মানুষকে আর্থিক সহায়তা প্রদানে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তিনি তুলে ধরেন। বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আছে বলে দেশের উন্নতি হচ্ছে। আমরা সরকারে আছি বলেই করোনা মোকাবেলা সম্ভব হয়েছে, মানুষ সেবা পাচ্ছে। যারা সমালোচনা করেন, তাদেরকে বলবো। পঁচাত্তর পর থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত দেশের কী অবস্থা ছিল, সেটা যেন তারা একটু উপলব্ধি করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে কিছু ভাড়াটিয়া লোকতো আছেই সারাক্ষণ একটা মাইক লাগিয়ে বলতেই থাকবে। যে যা ইচ্ছে বলুক, আমাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাস আছে। সেই বিশ্বাস নিয়ে চলি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ইশতেহারে যে ঘোষণা করেছিলাম সেটা করতে পেরেছি। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহামারির কারণে আমাদের সাংগঠনিক সম্পাদকরা সেইভাবে কাজ করতে পারেননি। তারপরও আমি আটটি গ্রুপ করে দিয়েছিলাম, তারা কাজ করেছে। আমরা কিছু সাংগঠনিক তথ্য নেব। তাছাড়া দীর্ঘদিন পরে বৈঠক সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনাদের কথা কিছু শুনবো।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
    123
18192021222324
252627282930 
       
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2020. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com