বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০৪ অপরাহ্ন

রামেক হাসপাতাল চত্ত্বরে পাখি হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ অক্টোবর, ২০২১
রামেক হাসপাতাল চত্ত্বরে পাখি হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

রাজশাহী মেডিকল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল চত্বরের গাছ কেটে পাখি হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বন বিভাগের তদন্ত কমিটি। গত সোমবার কমিটি বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষকের কাছে এ প্রতিবেদন দাখিল করেছে। বুধবার (০৬ অক্টোবর) বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিন সদস্যের এই কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছিল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন এবং সদস্য করা হয়েছিল রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী হাসান।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এই কমিটির সদস্যরা গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা হাসপাতালের পরিচালক স্বাক্ষরিত ৩৭টি গাছ নিলাম বিক্রির জন্য দরপত্রের কপি দেখেছেন। পরিদর্শনকালে তাঁরা হাসপাতালের গ্যারেজ ও ড্রেনের নির্মাণকাজ চলমান পেয়েছেন। তারা নির্মাণশ্রমিক শান্ত হোসেন, মন্টু মিয়া, সাগর ও রবিউল হকের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তারা বলেছেন, ঘটনার দিন একটি কড়ই ও একটি অর্জুনগাছ কাটা হয়। এ দুটি গাছের পাখির বাসাগুলো গাছের সঙ্গে পড়ে যায়। ডালপালার আঘাতে ৬০ থেকে ৮০টি পাখির বাচ্চা পড়ে যায়। কিছু মারা যায়, কিছু নির্মাণশ্রমিক ও বহিরাগত মানুষ নিয়ে যান। কমিটি দায়িত্বরত আনসার সদস্য মাসুদ সাহাদাৎ ও বিল্লাল হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তবে তারা বলেছেন, তাঁরা ঘটনার সময় ছিলেন না। পরে তাঁরা অন্য মাধ্যমে গাছকাটা ও পাখির বাচ্চা মারা যাওয়ার বিষয়টি জেনেছেন।

কমিটি কী সুপারিশ করেছে, জানতে চাইলে কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, তারা যা দেখেছেন, প্রতিবেদনে তা-ই বলেছেন। কোনো সুপারিশ করেননি।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের কপি হাতে পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি তা প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি অর্জুনগাছ কাটা হলে উড়তে না শেখা শতাধিক শামুখখোলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পরিজায়ী পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়ে যায়। এতে কিছু পাখি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। আর কিছু পাখির বাচ্চা খাওয়ার জন্য নিয়ে যান শ্রমিক ও রোগীর স্বজনেরা। এর প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

এছাড়া গত ৭ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় রাজশাহী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পক্ষ থেকে বন্য প্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বাদী হয়ে রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন। বন্য প্রাণী হত্যা করে আবাসস্থল ধ্বংসের আনুমানিক ক্ষতি এক কোটি টাকা এবং পরিবেশের আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়। আদালতের নির্দেশে রাজশাহী নগরের রাজপাড়া থানা মামলাটি তদন্ত করছে। এ ঘটনায় বন বিভাগ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
      1
3031     
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com