রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:০২ অপরাহ্ন

অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে স্বল্প শিক্ষিত কাদেরের কোটি টাকার প্রতারণা

নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২১
অতিরিক্ত সচিব পরিচয়ে স্বল্প শিক্ষিত কাদেরের কোটি টাকার প্রতারণা

স্কুলের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি আব্দুল কাদের চৌধুরী। অথচ পরিচয় দিতেন অতিরিক্ত সচিব হিসেবে। এভাবে নানামুখী প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। চলাফেরা করতেন প্রাডো জিপ গাড়িতে। সঙ্গে রাখতেন বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি। রাজধানীর গুলশান, মিরপুর ও কারওয়ান বাজারে আছে বিলাসবহুল অফিস।

সচিব পরিচয়ের পাশাপাশি পরিচয় দিতেন ধনকুবের প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের আইন উপদেষ্টা। ঘনিষ্ঠতা ছিল ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গে। ভূমিহীন ভাসমান আব্দুল কাদেরের ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

মিরপুর-৬ নম্বরে বসবাস করলেও একাধিক ফ্ল্যাট ছাড়াও গুলশান-১ নম্বরের জব্বার টাওয়ারের প্রায় ছয় হাজার স্কয়ার ফিট আয়তনের অফিস রয়েছে। গড়েছেন সততা প্রপার্টিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি আব্দুল কাদেরের বেশ কয়েকটি নামসর্বস্ব কোম্পানি রয়েছে।

সেগুলো হলো- ঢাকা ট্রেড করপোরেশন, জমিদার ট্রেডিং, সামীন এন্টারপ্রাইজ, চৌধুরী গ্রুপ, হিউম্যান ইমপ্রুভমেন্ট ফাউন্ডেশন, সততা প্রপার্টিজ, ডানা লজিস্টিকস ও ডানা মোটরস।

মিরপুর-৬ নম্বরে বাসা থেকে বাইরে যাওয়ার সময় নিজের প্রাডো গাড়িতে গ্রেপ্তার হন আব্দুল কাদের। এসময় তার দ্বিতীয় স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- আব্দুল কাদের চৌধুরী ও তার স্ত্রী শারমিন চৌধুরী ছোঁয়া, শহিদুল আলম এবং আনিসুর রহমান। কাদের পকেটে পাওয়া যায় অতিরিক্ত সচিবের ভুয়া আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড এবং কোমরে পাওয়া যায় অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর ও গুলশানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।

শনিবার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার সংবাদ সম্মেলনে জানান, আব্দুল কাদের নয়তলা বাড়ি কিনেছেন গাজীপুরের বোর্ডবাজারে। গাজীপুরের পুবাইলে রয়েছে আট বিঘার বাগানবাড়ি। ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকসহ আরও কয়েকটি ব্যাংকে রয়েছে তার একাধিক অ্যাকাউন্ট। যেখানে রয়েছে লাখ লাখ টাকা। অঢেল সম্পদের মালিক এই আব্দুল কাদেরের নেই কোনো বৈধ উপার্জন। প্রতারণা ও মিথ্যা তার একমাত্র পুঁজি বলে জানান ডিবিপ্রধান।

এ কে এম হাফিজ বলেন, জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আব্দুল কাদের গানম্যান নিয়ে চলাফেরা করতেন। কিন্তু বর্তমানে গানম্যান নিয়ে চলাচল অসুবিধাজনক হওয়ায় তিনি নিজেই অস্ত্র ও ওয়াকিটকি নিয়ে চলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন।

ডিবিপ্রধান জানান, আব্দুল কাদেরের বাবা জীবিকার সন্ধানে সন্দ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন। মাছ ধরে ও মাঝির কাজ করে জীবিকা উপার্জন করতেন। এমন ভূমিহীন ভাসমান আব্দুল কাদেরের ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এর মধ্যে গুলশান-১ নম্বরের জব্বার টাওয়ারের প্রায় ছয় হাজার স্কয়ার ফিট আয়তনের তার অফিস রয়েছে। কারওয়ান বাজারেও রয়েছে আরও একটি অফিস। মিরপুর-৬ নম্বরে বসবাস করলেও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে তার।

আব্দুল কাদের বড় ধরনের প্রতারণা করেন হিউম্যান ইমপ্রুভমেন্ট ফাউন্ডেশনের ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের’ মাধ্যমে। ২০০৪-২০০৬ সালে দেশের শত শত মানুষের কাছ থেকে সরকারি অনুদানে বাড়ি ও খামার তৈরি করার নামে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা।

মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে ছবি তুলে প্রতারণা

প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে আব্দুল কাদের একাধিক ছবি তুলে চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করতেন। তিনি নিজেকে তার আইন উপদেষ্টা পরিচয় দিতেন। আব্দুল কাদের, তার স্ত্রী ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় অস্ত্র মামলা, তেজগাঁও থানায় প্রতারণার মামলা রয়েছে।

এর আগে তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট জালিয়াতি, বিভিন্ন প্রতারণা, ব্যাংকে নিয়োগ বিষয়ে কমপক্ষে অর্ধ ডজন মামলাও রয়েছে বলে জানায় ডিবি।

২০ কোটি টাকার বেশি লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা

বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ২০ কোটি বা তার থেকে বেশি টাকার লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করতেন আব্দুল কাদের। এক্ষেত্রে তার মার্কেটিংয়ের লোকেরা বিভিন্ন ঠিকাদার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিজ্ঞাপন দিতেন। এরপর লোন পাইয়ে দেওয়ার জন্য আব্দুল কাদেরের ইন্টারভিউ ও কনসালটেন্সির জন্য নেওয়া হতো ৫০ হাজার টাকা। ২-১০ লাখ টাকা নেওয়া হতো লোনের জন্য প্রোফাইল বানিয়ে।

 

এছাড়া ২০ কোটি বা তদূর্ধ্ব অঙ্কের লোন পাইয়ে দিতে ডাউনপেমেন্ট হিসেবে ৫-১০ শতাংশ টাকা নেওয়া হতো লোন প্রার্থীর কাছ থেকে। পরে কাউকে লোন করিয়ে দিতে না পারলেও হাতিয়ে নেওয়া সেই লাখ লাখ টাকার অংশবিশেষ ঋণ হিসেবে দিতেন তিনি।

ঠিকাদারির নামে প্রতারণা

সেনাবাহিনী এবং সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টের শত শত কোটি টাকার ঠিকাদারি পেয়েছেন বলে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করতেন কাদের। সেগুলোর বিপরীতে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ওয়ার্ক অর্ডার বিক্রি করতেন।

এছাড়া ঠিকাদারদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা জামানত রেখে সেগুলো দিয়ে আবার করতেন প্রতারণা। এমনকি বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়ার নাম করে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন টাকা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Archives

SatSunMonTueWedThuFri
      1
16171819202122
23242526272829
3031     
  12345
2728     
       
      1
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930     
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
©2014 - 2021. RajshahiNews24.Com . All rights reserved.
Theme Developed BY ThemesBazar.Com